Monday, March 2, 2026
Homeফুটবলদেশ- বিদেশের ফুটবলকোয়ার্টারেই ছন্দপতন বাংলার! সার্ভিসেসের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় সঞ্জয় সেনের দল

কোয়ার্টারেই ছন্দপতন বাংলার! সার্ভিসেসের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় সঞ্জয় সেনের দল

র্ভিসেস প্রায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে যেতে কেরলের মতো দলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসে, এবার বাংলাকেও হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল। 

ময়দান আপডেট: সন্তোষে আবারও অসন্তোষ বাংলার। কয়েক বছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে গত মরসুমে সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলার দল। তবে এই মরসুমে খেতাব জয় তো বহু দূরের কথা! কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেল সঞ্জয় সেনের দলের দৌড়। মনে করা হয়েছিল এইবারে গতবারের থেকেও শক্তিশালী দল গঠন করেছে বাংলা। আর যেহেতু দলের কোচের নাম সঞ্জয় সেন, সুতরাং নামটাই শেষ কথা! ফলে পর-পর দুইবার ট্রফি ঘরে আসা কোনও কঠিন কাজ নয়। রবি হাঁসদা, নরহরি স্রেষ্টা, সায়ন ব্যানার্জী, তন্ময় দাশ, আকাশ হেমব্রম, চাকু মান্ডি, গৌরব শ-দের মতো শক্তিশালী দলের যে কোয়ার্টার ফাইনালেই ভরাডুবি হতে পারে তা কল্পনাও করেননি বাংলার অধিকাংশ ফুটবল প্রেমীরাই। আর এই মরসুমের শুরুটা বেশ চমকপ্রদ করেছিল বাংলার ছেলেরা। নাগাল্যান্ড, উত্তরাখন্ড ও রাজস্থান পর-পর তিন ম্যাচে জয়ের হ্যাটট্রিক করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলা। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ থেকেই বাংলার ফলাফল হতাশাজনক হতে শুরু করে। তামিলনাড়ু ও অসমের বিরুদ্ধে অতি কষ্টে ১ পয়েন্ট করে পেলে কি হবে, দলের খেলা মোটেও প্রত্যাশিত হয়নি। ফলে নকআউটে যে সমস্যা বাড়তে পারে তা আশঙ্কায় করা গিয়েছিল! আর সেটাই সত্যি হল মঙ্গলবার কোয়ার্টার ফাইনালে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে। 

আইএফএর এর পক্ষ থেকে ফেডারেশনের চূড়ান্ত অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিঠি দিয়ে সন্তোষ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ একদিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই আর্জি মেনে ২ তারিখের বাংলার ম্যাচ ৩ তারিখ স্থানান্তরিত করে কল্যাণ চৌবের কমিটি। কিন্তু এদিন কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলার বিরুদ্ধে গোটা ম্যাচ জুড়ে একতরফা রাজ করল সার্ভিসেস। অত্যন্ত খারাপ ফুটবল উপহার দিল বাংলার ছেলেরা। ঘন-ঘন গোটা ম্যাচ জুড়ে আক্রমণে গিয়েছে সার্ভিসেস। কিন্তু বাংলার তরফে সেভাবে কাউন্টার অ্যাটাক খুঁজেই পাওয়া গেল না। বল পজিশেনও অনেকটাই বেশি ছিল সার্ভিসেস। একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও, গোল করতে পারেনি সার্ভিসেস। তবে বিশেষ প্রশংসা করতে হবে বাংলার গোলকিপার সোমনাথ দত্তের। একাধিক দুর্দান্ত গোল বাঁচান তিনি। নাহলে বোধহয় অনেক আগেই ম্যাচ জিতে যেতে পারত সার্ভিসেস। বাংলা একাধিক ভুল পাস, বল দখলে রাখতে না পারায় সার্ভিসেসের কাছে গোলের দরজা খুলে যাচ্ছিল। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে বাংলার জালে বল জড়িয়ে দেয় তারা। কিন্তু অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনও দলই। 

খেলার দ্বিতীয়ার্ধেও একাধিক সুযোগ তৈরি করে সার্ভিসেস। কিন্তু গোল আসেনি। অন্যদিকে বাংলা অনেকটাই ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। সেভাবে কোনও আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে সায়ন ব্যানার্জী অত্যন্ত সহজ একটা গোলের সুযোগ পেয়েও মিস করেন। ডানদিক থেকে রবির লো ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন সায়নের পায়ে, বাঁদিক থেকে উঠে সায়ন যখন বল পান তখন সামনেই গোলপোস্ট। কিন্তু সায়ন ভুল শট মেরে বল পাঠিয়ে দেন বারের উপর দিয়ে। সায়নের মতো প্রতিভাবান প্লেয়ারের কাছে এই সহজ সুযোগ মিস করার দৃশ্য সত্যিই বিস্মিত করে ফুটবলপ্রেমীদের। গোলশূন্য ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ৩০ মিনিটে কোনও দল গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে খেলা চলে যায় টাইব্রেকারে। আর টাইব্রেকার হবে আন্দাজ করতে পেরে খেলার শেষদিকে বাংলার গোলকিপার সোমনাথকে তুলে নিয়ে, গৌরব শ-কে নামান কোচ সঞ্জয় সেন। 

তবে টাইব্রেকারের শুরুতেই বাংলার হার নিশ্চিত করে দেন পর-পর দুটো পেনাল্টি শট মিস করে চাকু মান্ডি ও করণ রাই। যদিও সার্ভিসেসের পেনাল্টি শটও রুখে দিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখান গোলকিপার গৌরব। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বাংলার লাস্ট শটেও পেনাল্টি মিস করেন অভিজ্ঞ নরহরি। ফলে ৩-২ গোলে হেরে সফর শেষ করল বাংলা। আর সার্ভিসেস প্রায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে যেতে কেরলের মতো দলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসে, এবার বাংলাকেও হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল। 

RFDL-এ বড়‌ ব্যবধানে জয় পেলেও ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ বিভাগ নিয়ে হতাশ কোচ অর্চিষ্মান   

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular