ময়দান আপডেট: বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ডুয়েলে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ডু অর ডাই লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এদিন ম্যাচে যারাই জিতবে তারাই সেমিফাইনালে চলে যাবে তা নিশ্চিত ছিল। ফলে বলা যেতেই পারে এই ম্যাচ ছিল ক্রিকেটের নন্দনকাননে বিশ্বকাপের মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। আর এই ম্যাচ দেখতে ইডেনের গ্যালারি ছিল সম্পূর্ণ হাউসফুল। এদিন টস ভাগ্যও ছিল ভারতের পক্ষে। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। আর এদিন দল অপরিবর্তিত রেখেছিল ভারত। অন্যদিকে এদিন ব্যাটিং অর্ডারে কিছুটা বদল আনে ক্যারিবিয়ানরা। এদিন দেখা যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওপেনিং করেন অধিনায়ক সাই হোপ ও রস্টন চেস।

তবে এদিন ঠান্ডা মাথায় ইনিংসের শুরুটা ভালোই করেন দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার। ভালোই লড়াই চালিয়ে যান তারা। রস্টন চেস করেন ২৫ বলে ৪০ রান। এরপর কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন সিমরন হিটমায়ার। কিন্তু ২৭ রানে হিটমায়ারকে ফিরিয়ে দেন বুমরাহ। তবে এরপর অধিনায়ক সাই হোপকে ৩২ রানে বোল্ড করে দেন বরুণ চক্রবর্তী। এর কয়েক ওভারের মধ্যেই রাদারফোর্ডকে ১৪ রানে আউট করে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু এরপর একটা দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার। তাদের লড়াইয়ে ভর করে ভারতীয় বোলারদের সামনে ব্যাট করে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান।

১৯ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন রভম্যান পাওয়েল। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩-টে চার ও ২-টি ছয়। জেসন হোল্ডার অপরাজিত থাকেন ২২ বলে ২৭ রানে। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৩-টি ছয়। ভারতের হয়ে ২ উইকেট নেন যশপ্রীত বুমরাহ। তবে উল্লেখ্য এদিন ভারতের অত্যন্ত খারাপ ফিল্ডিং প্রদর্শন বিস্মিত করে দর্শকদের। দুটি সহজ ক্যাচ মিস করেন অভিষেক শর্মা।

আর জবাবে ভারত ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্বক শুরু করলেও, পর-পর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ১০ রানে প্রথমে অভিষেক শর্মাকে ফিরিয়ে দেন আকিল হোসেন। এরপরই ১০ রানে ইশান কিশানকে আউট করে দেন জেসন হোল্ডার। তবে এরপর একটা ভালো পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন সূর্যকুমার যাদব ও সঞ্জু স্যামসন। তাদের পার্টনারশিপে ভর করে হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেন সঞ্জু। তবে এরপর ১৬ বলে ১৮ রানে জোসেফের বলে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৫৮ রানের পার্টনারশিপ ভেঙে যায়।

এরপর ব্যাট করতে নেমে কার্যত সুপার সাইক্লোন তোলেন তিলক বর্মা। একের পর এক চার হাঁকাতে থাকেন তিনি। যদিও ১৫ বলে ২৭ রানে আউট হয়ে ফিরে যান তিলক। তবে এদিন শেষ পর্যন্ত হার্দিক পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে অনবদ্য লড়াই চালিয়ে গেলেন সঞ্জু স্যামসন। বহু সমালোচনার জবাব দিলেন তিনি। ১৪ বলে ১৭ রানে জোসেফের বলে মারতে গিয়ে আউট হয়ে ফিরে যান হার্দিক পান্ডিয়া। এরপর ব্যাট করতে আসেন শিবম দুবে। আর দুবেকে সঙ্গে নিয়ে অনবদ্য লড়াই চালিয়ে যান সঞ্জু স্যামসন। ৪ বল বাকি থাকতেই, ৫ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। ৫০ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকলেন সঞ্জু স্যামসন। ৮ রানে অপরাজিত দুবে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়েতে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
৫ উইকেটে জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপে অপরাজেয় প্রোটিয়ারা,সেমিতে প্রতিপক্ষ কিউয়িরা
