প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : ডুরান্ড কাপের শুরুটা ইস্টবেঙ্গল এফসির জন্য মোটেও কাঙ্ক্ষিত ছিল না। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে হেরে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল লাল হলুদ ব্রিগেড। সেই পরাজয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে প্রথম ম্যাচের ধাক্কা সামলে ইস্টবেঙ্গল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা এক কথায় অসাধারণ।
গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে সিআইএসএফ প্রটেক্টর্সের মুখোমুখি হয়ে লাল-হলুদ ফরোয়ার্ডরা আক্রমণের ঝড় তোলে। ম্যাচের ৯০ মিনিট জুড়ে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচটি ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতে নেয়। পরপর দুটি ম্যাচের মাঝেই দলগত ভুলত্রুটি শুধরে আক্রমণের ধার আরও বাড়ান কোচ। এরপর গ্রুপ পর্বের তৃতীয় তথা শেষ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হয় বেঙ্গালুরুর শক্তিশালী ক্লাব সাউথ ইউনাইটেড এফসি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে বড় ব্যবধানের জয় ছিল অত্যন্ত জরুরি।
মাঠে নেমে শুরু থেকেই পাসের নিখুঁত ছন্দ এবং গতিময় আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে একদম দিশেহারা করে দেয় লাল-হলুদ বাহিনী। সাউথ ইউনাইটেড এফসিকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে ইস্টবেঙ্গল। পুরো নব্বই মিনিট জুড়েই মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের চমৎকার সমন্বয় চোখে পড়ার মতো ছিল। প্রথম ম্যাচে ডার্বি হারের পর টানা দুটি ম্যাচে যথাক্রমে ৮-০ এবং ৫-০ গোলের পর্বতপ্রমাণ জয় দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রুপ পর্ব শেষে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং দুর্দান্ত গোল পার্থক্যের উপর ভর করে ২০২৬ ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেললো ইস্টবেঙ্গল এফসি। নকআউট পর্বের আগে লাল হলুদ আক্রমণভাগের, এই বিধ্বংসী রূপ সমর্থকদের মনে আবারও শিরোপা জয়ের বড় আশা জাগিয়ে তুলেছে।
