সৌম্যদীপ চক্রবর্তী, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে যুবভারতীতে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মেগা ডার্বিতে রবিবার মুখোমুখি হয় মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। আর এদিন দলে কোনও ফরোয়ার্ড না রেখে অনেকটাই ডিফেন্সিভ প্রথম একাদশ সাজান ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস। অন্যদিকে মোহনবাগানের প্রথম একাদশে রাখা হয় একমাত্র ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকলারেনকে। এদিন ম্যাচের শুরুর দিকে ৯ মিনিটে জেলকোভিচের বাড়ানো বলে পোস্টের সামনে থেকে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন লিস্টন কোলাসো। তবে এর পরের মিনিটেই ১০ মিনিটে একটি দুর্দান্ত গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন বিপিন সিং। অনেকটাই দূর থেকে শট নেন তিনি, তবে বল বুঝতে পারেননি বিশাল কাইথ। ১ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এই গোলের উল্লাস শেষ হতে না হতেই ১২ মিনিটে আবারও একটি জোরাল শটে গোল করে, ইস্টবেঙ্গলকে আরও এগিয়ে দেন এডমুন্ড লালরেনডিকা। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ বাহিনী। তার জেরে যথেষ্ট চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান। এরপর ২০ মিনিটে ফাউলে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন লিস্টন কোলাসো। ২২ মিনিটে হার্দিক ভাট থেকে ডানিয়েল রামিরেজের অ্যাসিস্টে বিশাল কাইথকে বোকা বানিয়ে, আবারও একটা অসাধারণ গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে আরও এগিয়ে দেন এডমুন্ড। নিজের দ্বিতীয় গোল এবং ইস্টবেঙ্গলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। ২২ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।

এরপর ৩৩ মিনিটে গোলের ব্যবধানে কিছুটা কমায় মোহনবাগান। একটি ভালো শটে গোল করেন মোহনবাগানের হয়ে মনবীর। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ৩-১। ৩৮ মিনিটে মনবীরের অ্যাসিস্টে একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন জেমি ম্যাকলারেন।৪৩ মিনিটে ডানি রামিরেজকে ফাউল করেন আপুইয়া, তার ফলে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ৪৪ মিনিটে ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের হৃদয় জয় করে নেন এডমুন্ড। দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন মহম্মদ রশিদ, জয় গুপ্তার অ্যাসিস্টে পোস্টের সামনে থেকে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে আবারও এগিয়ে দেন এডমুন্ড। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ৪-১। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন যুবভারতীর গ্যালারির লাল-হলুদ সমর্থকরা। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হয় ৪-১ গোলে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জেলকোভিচের জায়গায় নামানো হয় মিগুয়েলকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল খেলায় আক্রমণের গতি কিছুটা স্লথ করে, অনেকটাই ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলে। ৫৫ মিনিটে ডানি রামিরেজকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন অভিমিতায়। ৬০ মিনিটে মনবীরকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন জিকসন সিং। ৬১ মিনিটে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন করে মোহনবাগান। লিস্টন, আপুইয়া ও থাপার জায়গায় মাঠে নামানো হয় সাহাল, কিয়ান নাসিরি ও দীপক টাংরিকে। এরপর ৬৯ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করে ইস্টবেঙ্গল। এডমুন্ড ও রামিরেজের জায়গায় মাঠে নামেন আসিফ ও জেসিন টিকে। ৭৩ মিনিটে মোহনবাগান মনবীরকে তুলে নিয়ে মাঠে নামায় ছাংতেকে।

এরপর খেলার শেষের দিকের ৮৮ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের দলে বিপিন সিং এর জায়গায় মাঠে নামানো হয় রোহিত দানুকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করার মোহনবাগান মরিয়া প্রয়াস চালালেও কোনও গোল আসেনি। ফলে এককথায় বলা যেতে পারে এদিন যুবভারতীতে কার্যত একতরফা ডার্বি দেখলেন দর্শকরা। যেখানে হাবাসের দল ইস্টবেঙ্গল গোটা ম্যাচ জুড়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে ঘন-ঘন আক্রমণে যায় এবং ৪ টি গোল তুলে নেয়। সেখানে মোহনবাগানকে অনেকটাই ছন্নছাড়া দেখাল গোটা ম্যাচ জুড়ে। পাশাপাশি মোহনবাগান কোচ প্যানোসের গেম প্ল্যান নিয়েও উঠে গেল একাধিক প্রশ্ন! তার কারণ এদিন কেন সাহাল, ছাংতে, মিগুয়েলকে প্রথম থেকে ব্যবহার করলেন না কোচ? পাশাপাশি যেখানে মনবীর অনেকটাই আক্রমণে যাচ্ছিলেন সেখানে ম্যাকলারেনকে মাঠে রেখে, কেন মনবীরকে তুলে নেওয়া হল? সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয় মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে। তার জেরে এদিন যথেষ্ট হতাশ মেরিনার্সরা। অন্যদিকে ৪-১ গোলে মোহনবাগানকে হারিয়ে ডার্বি জিতে, ১৭ বারের জন্য ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল লাল-হলুদ বাহিনী। আর জয়ের পর আবেগে-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা।
