প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : ১৯৯৭ সালের ১৩ জুলাই ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে, লাল হলুদ সমর্থকদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকা এক অমলিন দিন। বড়ো ম্যাচের ফাইনালে কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়ার চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে চূর্ণ করে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল ইস্টবেঙ্গল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৯টি বছর। অবশেষে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার এক দুর্দান্ত পুনরাবৃত্তি দেখলো ফুটবল বিশ্ব। দীর্ঘ ২৯ বছর পর আবার ইস্টবেঙ্গলের লাল-হলুদ জার্সি গায়ে ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে অনন্য এক হ্যাটট্রিক উপহার দিলেন এডমুন্ডলালরিন্ডিকা।
তাঁর এই জাদুকরী ও বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে ভর করেই ফাইনালে মোহনবাগানকে পরাস্ত করে অধরা ট্রফি ছিনিয়ে নিলো ইস্টবেঙ্গল। অথচ পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল মোহনবাগান, কিন্তু ফাইনালের মহারণে এসে তারা যেন সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলো। ইস্টবেঙ্গলের সুপরিকল্পিত আক্রমণ ও শক্তিশালী কৌশলের সামনে মোহনবাগানের রক্ষণভাগ একপ্রকার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ফাইনালের মহারণ শেষের পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রদান করা হয় একাধিক সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার। দুর্দান্ত গোলসংখ্যা নিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতিস্বরূপ গোল্ডেন বুট জয় করে নেন নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির তারকা ফরোয়ার্ড আলাদিন আজারাই। টুর্নামেন্ট জুড়ে গোলপোস্টের নিচে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দুর্দান্ত সব সেভ দেখিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস নিজের নামে করে নেন মোহনবাগানের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।
আর পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অনবদ্য ফুটবলশৈলী প্রদর্শনের পাশাপাশি ফাইনালের মহা-মঞ্চে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করানোর সবচেয়ে বড়ো নায়ক, ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড লালরিন্ডিকা অর্জন করে নেন টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের সম্মান গোল্ডেন বল। লাল-হলুদ শিবিরের এই ঐতিহাসিক জয় সমর্থকদের মধ্যে এক নতুন উন্মাদনা ও আনন্দের জোয়ার নিয়ে এসেছে। চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স আপ হওয়া দলকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি, দুটি সেমিফাইনালে পরাজিত দল এবং কোয়ার্টার ফাইনালে চারটি পরাজিত দলকে আলাদাভাবে পুরস্কৃত করেছে ডুরান্ড কমিটি।
