প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : কলকাতা ময়দানের ইতিহাসে এমন রোমাঞ্চকর, নাটকে ঠাসা লিগ নির্ণায়ক ফুটবল ম্যাচ খুব কমই দেখা গিয়েছে। ট্রফি জয়ের দৌড়ে তিন প্রধানের সঙ্গে ভবানীপুর ও ইউনাইটেড স্পোর্টস সমানভাবে থাকলেও, বারাসত স্টেডিয়ামে মোহনবাগান বনাম মহামেডান ম্যাচই ছিল খেতাব ফয়সালার আসল কেন্দ্রবিন্দু।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলেছিলো বাস্তব রায়ের ছেলেরা, যেখানে সাহাল আব্দুল সামাদ একের পর এক সুযোগ পেলেও শুরুতে তা গোলে রূপান্তর করতে পারেননি। অবশেষে ২৬ মিনিটে ছাংতের অনবদ্য মাপা ক্রস থেকে দুরন্ত হেডে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সেই সাহাল। তবে ৪২ মিনিটে থাংখিমার পাস থেকে লালরেমসাঙ্গার জোরালো শটে সমতা ফিরিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচ জমিয়ে তোলে মহামেডান।
দ্বিতীয়ার্ধে কিয়ান নাসিরি সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর ৫৯ মিনিটে ঘটে আসল নাটকীয় মোড়, মহামেডানের লালরেমসাঙ্গাকে বক্সে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মোহনবাগান গোলরক্ষক দীপ্রভাত। ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মহিতোষ রায় গোল করে মহামেডানকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দিলে মোহনবাগানের ওপর আশঙ্কার মেঘ নেমে আসে।
কিন্তু ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও হাল না ছেড়ে অবিচল মানসিকতা দেখায় মোহনবাগান, ৭০ মিনিটে সাহালের দ্বিতীয় গোল দলকে সমতায় ফেরায় এবং ঠিক তিন মিনিট পর ৭৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধান গড়ে ট্রফি নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন। এই মহাকাব্যিক জয়ের ফলে অন্য মাঠের ফয়সালা দেখার আর প্রয়োজন পড়েনি, যার ফলে কোল ইন্ডিয়াকে ৭ গোল দিয়েও ইস্টবেঙ্গলকে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় এবং অন্য ম্যাচে ভবানীপুর ও ইউনাইটেড স্পোর্টসের অমীমাংসিত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে মরশুমের প্রথম ট্রফি ঘরে তোলে মোহনবাগান।
