প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : মঙ্গলবার আইএফএ শিল্ডে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান ও নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। দুটি দলই ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছিল।
এই ম্যাচে নর্থ-ইস্ট নিজেদের একাদশে সম্পূর্ণ ভারতীয় ফুটবলারদের ওপরই ভরসা রাখে। দীপেশ, দীনেশ, আশির, ড্যানি, লালরিনজুয়ালা, রবিন, রিদিম, থইবা, আমান, সামতে ও মার্ককে নিয়ে দল সাজিয়েছিলেন কোচ। আলাদিন আজারাইকে এই ম্যাচে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে মোহনবাগান একাদশে চারজন বিদেশি ফুটবলারকে নামিয়ে দল ঘোষণা করে। সমির জেলকোভিচ, আলবার্তো রড্রিগেজ, ডেজান ড্রাজিচ ও লি আরউইন শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। আন্তর্জাতিক বিরতির কারণে সাহাল আব্দুল সামাদ, লালেনমাউইয়া আপুইয়া ও অভি মিতেইদের মতো অনেক প্লেয়ার দলে ছিলেন না। তবুও লিস্টন কোলাসো, ছাংতে ও শুভাশিসের মতো তারকাদের পাশাপাশি শক্তিশালী বিদেশি ফুটবলারদের নিয়েই নামিয়েছিল মোহনবাগান। প্রথমার্ধে শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলার চেষ্টা করছিল মোহনবাগান। ছাংতে নিজের ক্ষিপ্র গতিকে কাজে লাগিয়ে বারবার প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ শানাতে থাকেন।
তবে সার্বিকভাবে দলের মধ্যে যোগাযোগের অভাব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। ডেজান ড্রাজিচ ও সমির জেলকোভিচ একসঙ্গে ঠিক কী ভূমিকা নেবেন তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। অন্যদিকে লিস্টন কোলাসোকেও একদম চেনা ফর্মে দেখা যাচ্ছিল না। প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে মিগুয়েল ও জেমি ম্যাকলারেনকে মাঠে নামান কোচ প্যানাজিওটিস দিলিম্প্রিস। দল নামানোর মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পায় মোহনবাগান। ড্রাজিচের বাড়ানো সুন্দর ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে বল পিছন দিকে ভাসিয়ে দেন ম্যাকলারেন। সেই বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নেটে জড়িয়ে দেন লি আরউইন। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয় মোহনবাগান। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে নর্থ-ইস্টের এক ফুটবলারের বক্সে হ্যান্ডবল হলে পেনাল্টি পায় Mohun Bagan। কিন্তু মিগুয়েলের নেওয়া পেনাল্টি শট চমৎকার ভাবে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন নর্থ-ইস্টের তরুণ গোলরক্ষক দীপেশ। এই মিসের ঠিক দুই মিনিট পরেই মোহনবাগানকে স্তব্ধ করে সমতা ফেরায় নর্থ-ইস্ট।
মোহনবাগান ডিফেন্ডারদের অনায়াসে পিছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পড়েন নর্থ-ইস্টের ইথিয়ান। আলবার্তো রড্রিগেজ ও রাহুল ভেকে শুধুই দাঁড়িয়ে তা দেখা ছাড়া আর কিছু করতে পারেননি। বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি ইথিয়ান। এর ঠিক পর অর্থাৎ ৭২ মিনিটে মারাত্মক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ম্যাকলারেন। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ স্ট্রাইকার সুহেল আহমেদ ভাটকে। ম্যাচের ৯০+৪ মিনিটে মিগুয়েল একটি দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট নিলেও সেখান থেকে কোনো গোল আসেনি। এর এক মিনিট পরেই ৯০+৫ মিনিটে সুহেলের একটি শক্তিশালী শট আবারও সেভ করেন নর্থইস্ট গোলকিপার দীপেশ। 
পানামা ম্যাচ শেষে কলকাতায় ভারতীয় ফুটবল দল, সামনে এখন ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মেগা চ্যালেঞ্জ
দীপেশের হাত থেকে রিবাউন্ড হওয়া ফিরতি বলে কিয়ান নাসিরি ফিরতি শট নিলেও দ্বিতীয়বার তা অসাধারণভাবে আটকে দেন দীপেশ। ঠিক সেই বল ধরেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে পড়ে নর্থইস্টের আলাদিন আজারাই। তবে মোহনবাগানের বক্সে চারজন ডিফেন্ডার সতর্ক থাকায় নর্থইস্টের শেষ মুহূর্তের সেই ভয়ানক আক্রমণ প্রতিহত হয় এবং অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয় এই রোমাঞ্চকর ম্যাচ। আগামী বুধবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে ইস্টবেঙ্গল ও পঞ্জাব ম্যাচ হবার পরেই জানা যাবে সেমিফাইনালে কে কার প্রতিপক্ষ হতে চলেছে।
কোহলি-শুভমানের ব্যাটে বিরাট জয় ভারতের, গুয়াহাটিতে লক্ষ্য সিরিজ জয়
