প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ এর প্লেঅফ রাউন্ডের লড়াইয়ে কুয়েতের আল আরাবিকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের চার মিনিটে জায়েদ খানিকটা অরক্ষিত জমি পেলেও তাঁর নেওয়া শট বাইরে চলে যায়, আর ঠিক পরের মিনিটে রাশিদের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে সেভ করেন আল আরাবির গোলরক্ষক সুলেমান। ১০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের জেসিনের প্রচেষ্টা এবং ১৩ মিনিটে আল আরবি দলের ইওয়ালার দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর, ১৮ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের জিকসন সিং সহজ সুযোগ পেয়েও নিজে শট না নিয়ে রাশিদকে পাস দিতে গিয়ে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
বাইশ মিনিটে আল আরাবির জায়িদের একটি গ্রাউন্ড শট ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক গিলের পায়ের তলা দিয়ে গোল লাইনের উপর চলে গেলেও তিনি দ্রুত বলটি রিকভার করে নেন, অন্যদিকে ২৮ মিনিটে এডমন্ড প্রতিপক্ষের রক্ষণের খেলোয়াড়দের কাটিয়ে সতীর্থকে পাস দিতে গিয়ে ভুলবশত প্রতিপক্ষকেই পাস দিয়ে বসেন। ৩৯ মিনিটে আল আরাবির ইওয়ালা গতি বাড়িয়ে বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে পড়লেও আঙ্গেল ছোটো হয়ে যাওয়ায়, তাঁর নেওয়া শট পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায় এবং প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের ৩ মিনিটে ইওয়ালার পাস থেকে জায়িদের শটও পোস্টের ওপর দিয়ে গেলে প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণে খেলা জমজমাট হয়ে উঠলে, ৫৯ মিনিটে রাশিদের টাচ থেকে বিপিনের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের রক্ষণের খেলোয়াড়ের মাথায় লেগে ব্যর্থ হয়। ৬২ মিনিটে ইওয়ালার ফ্রি-কিক সহজেই লুফে নেন গিল। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে বক্সের ভেতর সন্দীপ ইওয়ালার জার্সি টেনে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টি পায় আল আরাবি, তবে গিল সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও ইওয়ালা লক্ষ্যভেদ করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল ৮৯ মিনিটে সমতায় ফেরে, যখন রাশিদের নেওয়া চমৎকার ফ্রি কিক থেকে বক্সের ভেতর জোরালো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন জয় গুপ্তা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের ১০০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের কর্নার থেকে আল আরাবি দ্রুত প্রতি আক্রমণে উঠলে ডিফেন্স লাইন ভাঙ্গা পাস মাঝপথেই গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে ক্লিয়ার করে দেন গিল।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ১০৭ মিনিটে বিপিনের শট প্রতিপক্ষের রক্ষণে লেগে বক্সে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা রাশিদের পায়ে এলে তিনি দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ১১০ মিনিটে আল আরাবির একটি বিপজ্জনক আক্রমণ গিল রুখে দেওয়ার পর ১১৫ মিনিটে ডেভিডের পাস থেকে বিষ্ণুর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও, ১১৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের ক্রিস ইকোনোমিডিসের গ্রাউন্ডার ভলি সুলেমান আংশিক সেভ করলে, ফিরতি বলে ডেভিড সামনের রক্ষণের খেলোয়াড়কে পরাস্ত করে ব্যবধান ৩-১ করেন। ১২০ মিনিটে বাঁ প্রান্তে খালি জায়গা পেয়ে বিষ্ণু বল বাড়ান ডেভিডকে, আর ডেভিড গোলরক্ষকসহ দুজনকে কাটিয়ে বেশ ছোটো অ্যাঙ্গেলে চলে গেলেও বুদ্ধিমত্তার সাথে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা রোহিত দানুকে পাস দিলে তিনি ঠান্ডা মাথায় ফাঁকা গোলে বল ঠেলে ইস্টবেঙ্গলের ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। যার ফলে ইস্টবেঙ্গল ২০২৬-২৮ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ এর মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
