প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : সম্ভবত কোয়েস পর্বের সময় আত্মপ্রকাশ করা ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম পরিচিত সমর্থকগোষ্ঠী ‘QEBNA’ (Quess East Bengal News Analysis)-র একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে কেন্দ্র করে, প্রাক্তন লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজোন এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন ফের প্রকাশ্যে চলে এলো। লাল-হলুদ ডাগআউট ছাড়লেও স্প্যানিশ এই কোচের মনন ও মনোযোগ যে এখনও ইস্টবেঙ্গলকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে, তা আরও একবার প্রমাণ করল এই অনভিপ্রেত ঘটনা।
উক্ত পেজটিতে তাঁকে উদ্দেশ্য করে কিছু আপত্তিকর ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করা হলে একদমই চুপ থাকেননি ব্রুজোন, তিনি সরাসরি সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন এবং সন্দেহ প্রকাশ করে জানান যে, আড়ালে থেকে এই পেজটি আসলে ক্লাব পরিচালন সমিতির কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিই চালাচ্ছেন। লাল-হলুদ ডাগআউটে থাকাকালীনও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ বেশ অম্লমধুর ছিল, তবে ক্লাব ছাড়ার পরও এমন গুরুতর অভিযোগে ফুটবলপাড়ায় তীব্র গুঞ্জন ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে দেখে অবশেষে তড়িঘড়ি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ময়দানে নামতে হয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব নেতৃত্বকে। বিবৃতিতে ক্লাব স্পষ্ট করে জানায় যে, ক্লাবের নাম অপব্যবহার করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী কৃত্রিম বিভ্রান্তি ও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। স্প্যানিশ কোচের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ক্লাবের তরফে জানানো হয় যে, ব্রুজোনের বর্তমান দল পরিচালনা বা কৌশলে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছেই ইস্টবেঙ্গলের নেই।
একই সাথে লাল-হলুদ পতাকার সম্মান রক্ষার্থে সমস্ত সমর্থককে এই ধরনের প্ররোচনামূলক ও ভিত্তিহীন প্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে অস্কার ব্রুজোন সেই বিবৃতির নিচে কমেন্ট করেন “আপনাদের ম্যানেজমেন্টকে ধিক্কার। সব সমর্থকরা জানেন যে আপনাদের অ্যাজেন্ডা, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ও ভাবনা সম্পর্কে কেমন। ব্যক্তিগত স্বার্থকে চরিতার্থ করতেই আপনারা এই কাজ করছেন। QEBNA-র নেপথ্যে আপনারা রয়েছেন।” যদিও এই পাল্টাপাল্টি সংঘাতের পর একটাই কথা স্পষ্ট ইস্টবেঙ্গল ও অস্কার ব্রুজোনের নাটকীয় অধ্যায় ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ।
