প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: ইস্টবেঙ্গল এবং অস্কার ব্রুজোর মধ্যকার টানাপোড়েন এবার সমস্ত সীমা অতিক্রম করল। সাধারণ মতবিরোধ বা ফুটবলের আঙিনা ছাড়িয়ে, এই বিতর্ক গড়িয়েছে আইনি ও নিরাপত্তার জটিলতায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্কার ব্রুজো নিজেই প্রাণনাশের হুমকির স্ক্রিনশট প্রকাশ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু মাঠের পারফরম্যান্স বা সমালোচনা নয়। এখন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সমর্থকদের একাংশ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সরাসরি ভয় দেখানো এবং খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অস্কার ভারতীয় স্প্যানিশ দূতাবাস এবং কলকাতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অস্কার ব্রুজো এর আগে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মারাত্মক কিছু অভিযোগ তোলেন। এমনকি তিনি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের একজন কর্তার দিকে আঙুল তুলে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তবে এবার সরাসরি অস্কার ইস্টবেঙ্গক কর্তা দেবব্রত সরকারের নাম করে অভিযোগ করেছেন।
অস্কারের দাবি, ক্লাবের এই ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই তাঁর বিরুদ্ধে এই বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও হুমকি পরিচালনা করছে। প্রমাণ ছাড়া তিনি কারও নাম না নিলেও, পুরো বিষয়টি যে এক পরিকল্পিত চক্রান্ত তা স্পষ্ট করেছেন অস্কার। অন্যদিকে, এই বিষাক্ত বিতর্কের ছায়া এসে পড়েছে ভারতীয় ফুটবলের মূল স্তম্ভদের ওপরেও। কিংবদন্তি ডিফেন্ডার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ময়দানের দুই দিকপাল ভাস্কর গাঙ্গুলী এবং মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। ভারতের প্রাক্তন তারকা গোলকিপার ভাস্কর গাঙ্গুলি অস্কারের অভিযোগকে সম্পূর্ণ পাত্তা না দিয়ে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন। তিনি অস্কারের মন্তব্যকে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে অভিহিত করে জানান, উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া এভাবে মুখ খুলে ভারতীয় ফুটবলের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট করা কোনো দায়িত্বশীল কোচের কাজ হতে পারে না।
মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যও কোচের এই আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ঐতিহ্য ও ট্রফি জয়ের দীর্ঘ ইতিহাস কোনো একজন ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে মলিন হতে পারে না। লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দীর্ঘ লড়াইয়ের অর্জনকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করা অনুচিত। মনোরঞ্জনের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনো পেশাদার কোচের কাছ থেকে এই ধরনের অসংবেদনশীল ও ভিত্তিহীন মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই পরিস্থিতিতে মাঠের ফুটবল বাদ দিয়ে মামলা ও হুমকির খবর সামনে আসায় লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
