প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আজ সন্ধ্যায় যুবভারতী স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের পর, ভারতীয় দলের সামনে আরেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর শনিবার রাতে, চোখের পাতা এক করতে পারেননি ভারতীয় ডিফেন্ডার আকাশ মিশ্রা। শেষ বাঁশি বাজার পর যখন ঐতিহাসিক সুযোগটি ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় মিলিয়ে যাচ্ছিলো।
তখন ৪-০ গোলের বড়ো ব্যবধানে হারের গ্লানি তাঁর মন থেকে সমস্ত রোমাঞ্চ কেড়ে নিয়েছিল। সোমবার আকাশ মিশ্রা সংবাদমাধ্যমে জানান যে তিনি সারারাত জেগে ম্যাচটি বারবার দেখেছিলেন, সকালে সামান্য ঘুমিয়েই আবার খুব ভোরে উঠে তাঁকে রিকভারি সেশনে নামতে হয়েছিলো। ব্রাজিল ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে যে চরম হতাশা নেমে এসেছিল, কোনও রাখঢাক না করেই মিশ্রা জানান যে হারের ব্যথায় তিনি কোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সি বদল করার কথাও ভাবতে পারেননি। যদিও এখন কিছুটা শান্ত হওয়ার পর হয়তো সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর কথা তিনি বিবেচনা করতে পারেন। গত শনিবার রাতে যুবভারতীতে শেষ হওয়া সেই হাইপ্রোফাইল ম্যাচের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফের একই মাঠে নামছে ভারত। এই ম্যাচটি দিয়েই আপাতত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলা তিনটি বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে, ভারতের এই অবিশ্বাস্য প্রীতি ম্যাচের সিরিজের পর্দা নামতে চলেছে। ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল সোমবারের প্রাক-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে বারবার একটিমাত্র বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, আর সেটি হলো মনোযোগ। কারণ ব্রাজিলের বিরুদ্ধে দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালালেও সামান্য ভুলের খেসারত যেভাবে দলকে দিতে হয়েছিল, উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধেও সেই একই ভুল অত্যন্ত মারাত্মক প্রমাণিত হতে পারে।
ব্যস্ত সূচির কারণে বিশ্রামের বিশেষ সুযোগ না থাকলেও এই অল্প সময়ের ব্যবধানকে কোনো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ আকাশ মিশ্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, পেশাদার ফুটবল এটাই দাবি করে এবং দলের সবাই প্রতিটি প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থেকেই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। অতীতে পনামার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে ভারত যেমন আত্মবিশ্বাস কুড়িয়েছিল, তেমনই ব্রাজিলের গতি ও টেকনিকের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে তারা উপলব্ধি করেছে যে বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে একটু এদিক-ওদিক হলেই ম্যাচ কীভাবে হাত থেকে বেরিয়ে যায়। এবার ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২০ নম্বর দল উরুগুয়ে একেবারে ভিন্ন ধরনের এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের ঝাঁঝালো আগ্রাসন, শারীরিক শক্তি এবং দারুন টেকনিকের মোকাবিলা করতে হবে ভারতকে।
ডারউইন নুনেজ, রদ্রিগো বেন্টানকুর, রোনালদ আরাউজো ও লুকাস টোরেইরাদের মতো ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবে খেলা তারকামণ্ডিত স্কোয়াড নিয়ে এসে লা সেলেস্তে কোচ দিয়েগো ফোরলান যদিও ভারতকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে রাজি নন। ভারতে কোচিংয়ের পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে ফোরলান বেশ ভালোভাবেই জানেন এখানকার পরিবেশের কথা, আর ব্রাজিল ম্যাচে ভারতের কিছু লং বল ও আক্রমণাত্মক কম্বিনেশন দেখে তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে একটু সুযোগ পেলেই ভারতীয় দল কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গোলের বন্যা, ৭ গোলে জিতে শিল্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল
১৯৮২ সালের নেহেরু কাপে ইডেন গার্ডেন্সে উরুগুয়ের কাছে ৩-১ গোলে হারের দীর্ঘ ইতিহাস পেরিয়ে মঙ্গলবার এই ম্যাচটি ভারতের জন্য কেবল অতীত রোমন্থন নয়, বরং নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের চাপ সামলে লড়াই করার এক চরম পরীক্ষা।
খারাপ ফুটবল খেলেও, বিশালের ভরসায় ফাইনালে মোহনবাগান
পানামা ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত বিশ্বাস আর ব্রাজিল ম্যাচ থেকে পাওয়া কঠোর শিক্ষা মাথায় রেখে কোচ খালিদ জামিলের শিষ্যরা এখন উরুগুয়ের বিরুদ্ধে এই কঠিন লড়াইয়ে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে মুখিয়ে রয়েছে, যাতে এই রোমাঞ্চকর সপ্তাহের সমাপ্তিটা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্মরণীয় নোটে হতে পারে।
এস্তেভাও-লিনো ঝলকে ব্রাজিলের কাছে পরাস্ত ভারত, হারলেও লড়াকু ফুটবল উপহার ভারতের
