ময়দান আপডেট: গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে অনবদ্য সাফল্য দেখালেও, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হাইভোল্টেজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্পেনের কাছে আটকে গেল ফরাসিরা। মন ভরাতে পারল না এমবাপ্পেরা। এই ম্যাচটা অনেকেই বিশ্বকাপের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন লড়াই হতে চলেছে বলে মনে করেছিলেন। অথচ সেমিফাইনাল ম্যাচে কার্যত একতরফা রাজ করল স্পেন। আর সেখানে অনেকটাই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের অন্যতম দাবিদার গতবারের রানার্সআপ দল ফ্রান্স। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। আর দীর্ঘ 16 বছর পর আবার সেই ইতিহাসের সামনে স্প্যানিশরা। এইবারও বিশ্বকাপে সর্বাপেক্ষা ক্লাসিক্যাল ফুটবল খেলছে তারা। ফলে এবারও যে তারা বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার তা এখন এককথায় স্বীকার করবেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

সেমিফাইনাল ম্যাচে এদিন শুরু থেকে খেলায় আধিপত্য ছিল স্পেনের। যদিও ম্যাচের শুরুতে কিছুটা আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিল ফ্রান্সকেও। ঘন ঘন আক্রমণে উঠছিল তাদের ফুটবলাররা। কিন্তু খেলার গতির বিপরীতে ২০ মিনিটে ইয়ামালকে পেনাল্টি বক্সে ফাউল করেন ফ্রান্সের ফুটবলার লুকাস ডিগনে! তার ফলে ২২ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল। আর এই গোলের পর খেলার সম্পূর্ণ রাস চলে আসে স্পেনের হাতে। এরপর থেকেই ফ্রান্সের দুর্গ লক্ষ্য করে ঘন ঘন আক্রমণে যাচ্ছিল স্পেন। খেলার প্রথমার্ধের শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা।

আর খেলার দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। স্পেনের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করেন তারা। কিন্তু এদিন স্পেনের গোলকিপার সিমন ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণ অসাধারণ ভাবে রুখে দেন নিজের দক্ষতায়। খেলার ৫৮ মিনিটে বক্সের একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের শটে পরাস্ত করেন মাইক মাইগনানকে। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। ফলে তখনই ম্যাচ জয় কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেছিল তারা। এরপর খেলার শেষের দিকে একাধিকবার গোল তুলে নেওয়ার জন্য আগ্রাসী মনোভাব দেখা যায় ফ্রান্সের। তবে স্পেনের ইস্পাত কঠিন রক্ষণের কাছে বারবারই পরাস্ত হয়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত দুই গোলে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল স্পেন। অন্যদিকে গোটা বিশ্বকাপ দুর্দান্ত ফুটবল খেলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেও নিরাশ এই দেশে ফিরতে হচ্ছে এমবাপ্পের দলকে। আর ফ্রান্স বিদায় নেওয়ায় গোল্ডেন বুট পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে গেল এমবাপ্পের।
