ময়দান আপডেট: ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। এযেন এক ম্যাজিক্যাল থ্রিলার। লিওনেল মেসিদের বারবার প্রত্যেক ম্যাচেই পিছিয়ে থেকেও কামব্যাক করার দৃশ্য চমকে দিচ্ছে গোটা বিশ্বকে। আর ফুটবলের রাজপুত্র মেসিকে বিশ্বকাপের ট্রফিটা আবারও একবার উপহার দেওয়ার জন্য নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছেন গোটা আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মরিয়া প্রচেষ্টা ও জেদ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ম্যাচেও সেই আগ্রাসী মনোভাব দেখা গেল আর্জেন্টাইনদের। তার ফলস্বরূপ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা শুরু থেকে কিছুটা মন্থর গতির ফুটবল খেললেও, এদিন সেমিফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার খেলার ধরন ছিল আক্রমণাত্মক। ইংল্যান্ডকে ক্রমাগত ডিফেন্স সামলাতেই ব্যস্ত করে রাখছিল আর্জেন্টিনার আক্রমণ ভাগের ফুটবলাররা। যদিও মাঝেমধ্যে আক্রমণে উঠছিল ইংল্যান্ডেও। তবে আক্রমণ প্রতিআক্রমণে বেশ টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ গড়ায় প্রথমার্ধ পর্যন্ত। তবে এদিন দুইদলের ফুটবলাররাই বারবার পেশি শক্তির প্রয়োগ থেকে একে অপরের সঙ্গে বচায় জড়ানো, ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। ফলে মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলছিল।

এরপর খেলার দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত ধরে উঠে রিস জেমসের ক্রসে গোল করলেন অ্যান্টনি জর্ডন। এই গোলের ক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরো খানিকটা হলেও দায়ি। তিনি দেখেননি তাঁর পিছনে গর্ডন রয়েছেন। আর এই গোলের পর একদিকে ইংল্যান্ড ডিফেন্সে লোক বাড়িয়ে দেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা গোল পরিশোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের ১০ জন ফুটবলারই ডিফেন্স সামলাতে প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। পাল্টা ক্রমাগত আক্রমণে উঠছিল মেসিরা। তবে একটি গোল করার পরেই ইংল্যান্ডের এত বেশি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলায়, তাদের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াল। তার কারণ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাত্র এক গোলে লিড নিয়ে যে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়, তাও আর্জেন্টিনার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এটা বোঝা উচিত ছিল ইংল্যান্ডের কোচের। আর প্রত্যেক ম্যাচের মতো এদিনও ৮০ মিনিটের পর নিজেদের আক্রমণের ঝাঁঝ অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। তার ফলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল তুলে নিতে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি তাদের। আর্জেন্টিনার হয়ে ৮৬ মিনিটে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেস এবং ৯২ মিনিটে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। মেসির বাড়ানো বলে দূরপাল্লার শটে একটি দুর্দান্ত গোল করেন এনজো ফার্নান্দেস।

এরপর আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটা গোলের সুযোগ রুখে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিকফোর্ড। খেলার সংযুক্তি সময়ে মেসির ক্রশে হেডে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। আর এই গোলের পর উচ্ছ্বাস ও সেলিব্রেশনে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম সহ বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও, ২-১ গোলে জিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আবারও একবার জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। তারা বুঝিয়ে দিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলে তারা যে হারে না। এই নিয়ে ৬ বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ছয়বারই জয়লাভ করল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ভালো লড়াই করেও বিশ্বকাপের সফর শেষ হয়ে গেল হ্যারিকেনদের। বিশ্বকাপের ফাইনালে এবার মুখোমুখি হতে চলেছি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি মেসির সামনে। তবে সেই স্বপ্ন কতটা সত্যি হয় এখন সেটাই দেখার!
