ময়দান আপডেট: ফিফা বিশ্বকাপের আবহে ফুটবলের উন্মাদনায় ভারতীয় সমর্থকরাও ব্যস্ত ছিলেন, ফলে গত দেড় মাস অনেকটাই ভুলে গিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের পরিস্থিতির কথা! তবে বিশ্বকাপ শেষ হতেই, ভারতীয় ক্রিকেটের শোচনীয় ব্যর্থতার ছবি আবারও ভাবাচ্ছে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের। কারণ আইপিএলের পর এখনও পর্যন্ত গত দুই মাসে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোনও সাফল্য আসেনি। বরং ব্যর্থতার তালিকাটা দীর্ঘ হয়েছে। একের পর এক সিরিজে বিদেশের মাটিতে চরম লজ্জাজনক ফলাফল টিম ইন্ডিয়ার। ভারতীয় টি-২০ দলের অধিনায়ক বদল হয়েছে, দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে আইপিএলের খেলার নিরিখে বেশ কিছু তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের। তবে দলের অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। সূর্যকুমার যাদবের জায়গায় ভারতীয় টি-২০ দলের নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারকে। আর তার নেতৃত্বে প্রথমে আয়ারল্যান্ড সিরিজে আইরিশদের কাছে টি-২০ সিরিজে ২-০ তে হার ভারতের। প্রথম টি-২০ ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ভারতকে হারায় ১ রানে। আর দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ভারত আইরিশদের কাছে হারে ৩৪ রানে। আর এরপর ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমে টি-২০ সিরিজে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে ভারত হারে ৪-০ তে। একটি ম্যাচ বৃষ্টির জন্য ভেস্তে যায়। নিজেদের ঘরের মাঠে ভারতকে সিরিজ হোয়াইট ওয়াশ করে হ্যারি ব্রুকের দল। এরমধ্যে তৃতীয় টি-২০ ম্যাচে সর্বাধিক লজ্জাজনক হার ভারতের। ওই ম্যাচে ৭ উইকেটে ইংল্যান্ড তোলে ২০১ রান। আর জবাবে ভারত অলআউট হয়ে যায় মাত্র ৭৬ রানে। ১২৫ রানের বিরাট ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। এরপর সিরিজের পরের দুই টি-২০ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে চমক দেয় ইংরেজরা। তার জেরে প্রশ্নের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট দলের টি-২০ ভবিষ্যৎ। উল্লেখ্য আইপিএলে বিধ্বংসী ব্যাটিং করার পুরস্কার স্বরূপ বৈভব সূর্যবংশিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় টি-২০ সিরিজে। তবে তার ব্যাটিং হতাশ করেছে সমর্থকদের। তাই পঞ্চম টি-২০ ম্যাচে বাধ্য হয়ে বৈভবকে বসিয়ে দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল সঞ্জু স্যামসনকে। তবে তিনিও খুব একটা মন ভরাতে পারেননি।

আর এরপর ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে শুভমান গিলেন নেতৃত্বে বিরাট-রোহিতদের নিয়ে খেলতে নামে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে শুভমান গিলের ৮০ রানের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের ৫২ রানের সুন্দর ব্যাটিংয়ে ভর করে ৬ উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত জয় পেলেও। পরের পর-পর দুই ওয়ানডে ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে একদিনের সিরিজও জিতে নেয় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ভারতকে ইংল্যান্ড হারায় ৪ উইকেটে। বিরাট ও শ্রেয়সের হাফসেঞ্চুরি কোনও কাজেই লাগে নি। জো রুটের ৯৯ রানের ইনিংসে ভর করে জিতে যায় ইংল্যান্ড। আর ফাইনাল ওয়ানডে ম্যাচে ভারতকে ইংল্যান্ড হারায় ২৭ রানে। লর্ডসে হাইস্কোরিং ম্যাচে প্রথম ব্যাট করে ইংল্যান্ড তোলে ৩ উইকেটে ৩৮৭ রান। ১৪১ রান করে বেন ডাকেট। ৯১ রান করে জেকব বেথেল। আর জবাবে ভারতের হয়ে রোহিত শর্মা ১১০ বলে ১৩৮ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলার পাশাপাশি বিরাট কোহলি করেন ৬০ বলে ৭৪ রান। অধিনায়ক শুভমান গিল করেন ৮৪ বলে ৭৭ রান। তবে ম্যাচে শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি টিম ইন্ডিয়ার। ২-১ এ একদিনের সিরিজও জিতে নেয় হ্যারি ব্রুকের দল।

ফলে কোচ গৌতম গম্ভীরের রণনীতি নীতি চিন্তায় বিসিসিআই। কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি দলের ক্রিকেটারদের নির্বাচন নিয়েও উঠছে নানা মহল নানা প্রশ্ন! অন্যদিকে দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেসের সমস্যা ও চোট-আঘাতকেই ব্যর্থতার কারণ হিসাবে তুলে ধরেছেন অধিনায়ক শুভমান গিল। তিনি বলছেন, হাঁটু ফুলে যাওয়ায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় এক দিনের ম্যাচে খেলতে পারেননি জসপ্রীত বুমরাহ। তার আগে চোটের জন্য ছিটকে যান ওয়াশিংটন সুন্দর। একের পর এক ক্রিকেটার এ ভাবে চোট পাওয়ায় দলকে সমস্যায় ফেলেছে। পাশাপাশি আইপিএলের সময় চোট পাওয়ায় ইংল্যান্ড সফরে যেতে পারেননি হার্দিক পান্ডিয়া। চোটের জন্য ছিটকে যান নীতীশ কুমার রেড্ডিও। চোট সারিয়ে দলের ফেরার পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় এক দিনের সিরিজ থেকে ছিটকে যান হর্ষিত রানাও। তাই ওয়ানডের দল নির্বাচনে সমস্যায় পড়ে ভারত। তবে হারের দায় নিয়ে অজুহাত দিলেও, যে ভাবে বিদেশের মাটিতে প্রথমে আয়ারল্যান্ড এবং তারপর ইংল্যান্ডের কাছে ভারতের হার মোটেও মানতে পারছেন না ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। হারের প্রকৃত কারণ নিয়ে আলোচনা করে আগামী দিনের দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই মত সকলের। এখন দেখার ২০২৭ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আয়োজিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দলকে প্রস্তুত করতে কোন সমীকরণ প্রয়োগ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে আপাতত কোচ বদলের ভাবনা নেই বোর্ডের। সেক্ষেত্রে গম্ভীরের নেতৃত্বে দলে বেশ কিছু রদবদন হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
মেসিদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ করে,দ্বিতীয়াবারের জন্য ট্রফি জয় স্পেনের
