Friday, September 18, 2026
Homeফুটবলকলকাতার ফুটবলইস্টবেঙ্গল ক্লাবে "মাস্টার" এজেন্ডা, অস্কারের পোস্টে তোলপাড় ময়দান

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে “মাস্টার” এজেন্ডা, অস্কারের পোস্টে তোলপাড় ময়দান

"মাস্টার" এজেন্ডা থেকে ক্ষমতার লড়াই, লাল-হলুদ শিবিরের পর্দার পিছনের সত্য ফাঁস করলেন প্রাক্তন কোচ অস্কার ব্রুজোন

প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি 

ময়দান আপডেট : বিগত কিছুদিন ধরে ইস্টবেঙ্গলের একটি সমর্থকগোষ্ঠীর স্যোশাল মিডিয়া পেজ থেকে, তাদের প্রাক্তন কোচ অস্কারকে নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছিলো। ঠিক তারপরেই বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অফিসিয়াল পেজ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে তাদের কোন যোগ নেই। ঠিক তারপর পরই প্রাক্তন কোচ অস্কার নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোস্ট করেন ক্লাবের ভিতরে চলা “মাস্টার” এজেন্ডা নিয়ে। অস্কার ব্রুজোনের চাঞ্চল্যকর এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি ক্লাবের অভ্যন্তরীণ পরিচালনা, খেলোয়াড় রিক্রুটমেন্ট এবং ক্ষমতার লড়াই সংক্রান্ত এক বিস্ফোরক রূপরেখা তুলে ধরেছে। যেখানে তিনি নাম না করে “মাস্টার” নামক এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। ব্রুজোনের মতে, ক্লাবের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইমামি’ যখন পূর্ববর্তী অপচয় বন্ধ করে স্কাউটিং ব্যবস্থা পেশাদার করার উদ্যোগ নেয়, তখন ক্লাবের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল বিদ্যমান সিন্ডিকেটটি তাদের প্রভাব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। তিনি দাবি করেন, নিজের একক আধিপত্য ফেরাতে ও ব্যক্তিগত পছন্দের এজেন্টদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই ওই প্রভাবশালী চক্রটি ক্লাবের স্পোর্টিং প্রজেক্ট ও পারফরম্যান্সকে পরিকল্পিতভাবে ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছে। যার মধ্যে ছিল টানা খেলোয়াড় বদলের চক্র বজায় রাখা, দলের অভ্যন্তরীণ খবর ও কৌশল সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করা, এমনকি রামাদানের সময় ফাস্টিং করা খেলোয়াড়দের ৩টের সময় খেলা কিংবা ডার্বির সময়সূচি নিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করা। বিশেষ করে মৌসুমের শেষ ম্যাচের আগে ওই ব্যক্তি স্টাফদের কাছে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন যে রেফারি তাদের পক্ষেই থাকবেন, যা ইঙ্গিত করে রেফারিং প্রভাবিত করার মতো ঘটনা অতীতেও হয়তো তাদের মাধ্যমে ঘটেছিল। অস্কার আরও জানান যে, ড্রেসিংরুমে ঢুকে ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের সমালোচনা করার কারণে তিনি একাধিকবার ওই ব্যক্তিকে ড্রেসিংরুম থেকে বের করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং কেরালা ব্লাস্টার্স ম্যাচের পর তার পদত্যাগের দাবিতে সংগঠিত প্রতিবাদও ওই চক্রেরই চালিত ছিল। দল গঠন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গোপন তথ্য চুরি ও ম্যাচ সংক্রান্ত ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে কোচের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার এই সামগ্রিক চক্রান্তকে ব্রুজোন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে ইস্টবেঙ্গলের পেশাদারিত্ব বনাম পুরনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবশালীদের মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার চূড়ান্ত বলি হতে হয়েছে ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যকে। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular