Monday, March 2, 2026
Homeফুটবলকলকাতার ফুটবলসিআর সেভেন ভক্ত রোমিনের গোলে আবারও ডার্বিতে আটকে গেল মোহনবাগান, শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল

সিআর সেভেন ভক্ত রোমিনের গোলে আবারও ডার্বিতে আটকে গেল মোহনবাগান, শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল

নিজের জীবনের দ্বিতীয় ডার্বিতে তাঁর প্রিয় দল ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে দলকে গোল উপহার দিলেন রোমিন। পূরণ হল তাঁর ডার্বিতে গোল করার স্বপ্ন।

   সোনালী চ্যাটার্জী ও সৌরভ রায়- প্রতিনিধি

ময়দান আপডেট: গতবারের রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগের চ্যাম্পিয়ন দল মোহনবাগান। অথচ এই মরসুমটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না সবুজ-মেরুন ক্লাবের জন্য। চলতি মরসুমে পর-পর দুই ডার্বিতে হার। প্রথম ডার্বিতে ২-০ গোলে হারের পর, দ্বিতীয় ডার্বিতে ১-০ গোলে শনিবার বারাকপুরের বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্টেডিয়ামে মোহনবাগানের লড়াই থামিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। আর দলের জয়ের নায়ক হয়ে উঠল হাওড়ার পাঁচলার ছেলে, ছোট থেকেই ইস্টবেঙ্গল সমর্থক রোমিন গোলদার। এই বছর কলকাতা লিগে বিএসএস-এর হয়ে খেলেছে রোমিন। এই মরসুমে যোগ দিয়েছে ইস্টবেঙ্গলে। আর নিজের জীবনের দ্বিতীয় ডার্বিতে তাঁর প্রিয় দল ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে দলকে গোল উপহার দিলেন রোমিন। পূরণ হল তাঁর ডার্বিতে গোল করার স্বপ্ন। প্রতিপক্ষ মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করে এতটাই আবেগে-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন যে, সোজা দৌড়ে গেলেন সবুজ-মেরুন গ্যালারির দিকে। হাতে ইশারা করে মোহনবাগান সমর্থকদের নিরব থাকার বার্তা দিলেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে আইএসএলে খেলার ইচ্ছা সিআর সেভেন ও সুনীল ছেত্রীর ভক্ত রোমিন গোলদারের। আর এদিন ডার্বিতে জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে সবার শীর্ষে থেকে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিল ইস্টবেঙ্গল।৪ ম্যাচে ৪ টি জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে লাল-হলুদ ক্লাব। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ডায়মন্ড হারবার। ৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে পরবর্তী রাউন্ডে মোহনবাগান। 

চিত্র সাংবাদিক- মৃন্ময় গুপ্ত 

এদিন খেলার প্রথম দশ মিনিট অতিক্রান্ত হতেই ক্রমশ জ্বলে উঠতে দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলকে। খেলার ১৩ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের দেবজিত রায় সুযোগ পান, তবে কাজে লাগাতে পারেননি। নিজেদের বাঁ প্রান্তের উইং ব্যবহার করে একাধিক আক্রমণ তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে ইস্টবেঙ্গল। একটা সময় মোহনবাগানকে পুরোপুরি দেখা যায় রক্ষনবিভাগে ফুটবলার বাড়িয়ে নিতে। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ বিভাগে ঝাঁপিয়ে পড়ার তাগিদ খুবই কম চোখে পড়েছে এদিন। বেশ কিছুক্ষনের জন্যে মনে হচ্ছিল এদিনের ডার্বি জয় করতে নয়, কোনও রকমে লাল-হলুদ শিবিরকে রুখে দিতেই মাঠে নেমেছে মোহনবাগান। মাঝমাঠ নিয়েও হিমসিম খেয়েছে তারা।

খেলার ২৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের প্রজ্বল ভালো সুযোগ তৈরি করলেও, তা থেকে গোল তুলে নিতে সক্ষম হননি তিনি। ইস্টবেঙ্গল একধারে যেমন ক্রমাগত আক্রমণ করেছে, তেমনিই গোলের সুযোগও হাতছাড়া করেছে একাধিক। খেলার ৪০ মিনিটে মোহনবাগানের টনসিং এর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে সম্ভাবনা তৈরি হলেও রোহিত সিং গোলের কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হন। ইস্টবেঙ্গলের সুযোগ তৈরি এবং সুযোগ নষ্ট! আরেক দিকে মোহনবাগানের সামনে প্রতিকূলতা ভেদ করে গোল করার সুযোগ এলেও, তাদের গোল হাতছাড়া করে ফেলার যে পর্ব চলে এর মাঝেই প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমনের ঝাঁঝ একটু কমে এলেও, মোহনবাগানের রক্ষনবিভাগের ভুলে অনায়াসেই টপ বক্সে পায়ে বল পেয়ে যান ইস্টবেঙ্গলের রোমিন গোলদার। এবারে আর সুযোগ নষ্ট নয়, দূর্দান্ত একটি শটে রোমিন ৫৭ মিনিটের মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন। ১-০ ফলাফলে এগিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গলের সামনে সেই মূহূর্তে কার্যত আরও ফিকে হয়ে যেতে থাকে মোহনবাগান। খেলার ৫৮ মিনিটে গুইতের বিপজ্জনক শট সামলে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক প্রিয়ান্স দুবে।
ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক জুলফিকারকেও এদিন দক্ষতার সঙ্গে বেশকিছু আক্রমণ রুখতে দেখা গিয়েছে।

তবে গত মরশুমের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগানকে ইস্টবেঙ্গলের সামনে এসে বারংবার পর্যদুস্ত হয়ে পড়তে দেখে হতাশ সবুজ-মেরুন জনতা। অপরদিকে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ডার্বির একমাত্র গোলদাতা বাঙালি ছেলে রোমিন যাঁর লাল-হলুদ জার্সিতে এটাই প্রথম মরসুম। আর আজ তিনি একাই চুপ করিয়ে দিলেন গ্যালারি ভর্তি মোহনবাগান সমর্থকদের। তবে ডার্বি হারলেও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগের পরবর্তী পর্যায়ে চলে গেল ইস্টবেঙ্গল, ডায়মন্ড হারবারের সঙ্গে মোহনবাগানও।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নবনির্মিত আ্যস্ট্রোটার্ফ গ্রাউন্ডের উদ্বোধনে প্রাক্তন থেকে বর্তমান ফুটবলারদের চাঁদেরহাট

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular