ময়দান আপডেট: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রবিবার আমেদাবাদে সুপার সানডে-তে আইপিএলের ফাইনালে মেগা ডুয়েলে মুখোমুখি হতে চলেছে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু ও শুভমান গিলের গুজরাত টাইটান্স। গতবার ২০২৫ সালে প্রথমবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, ২০২৬ সালে এবারও আইপিএল ট্রফি জয়ের হাতছানি কিং কোহলি-রজত পাতিদারদের আরসিবির কাছে। অন্যদিকে আইপিএলের ইতিহাসে অনেকটাই নবাগত গুজরাত টাইটান্স। তবে প্রথমবার আইপিএলে অংশ নিয়েই ২০২২ সালে হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টাইটান্স। ফলে রবিবার আমেদাবাদে আরসিবি ও গুজরাত দুই দলের কাছে দ্বিতীয়বার আইপিএল জয়ের সুযোগ। আর এই মরসুমে গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে এক ও দুই নম্বরে শেষ করা দুই দল আরসিবি ও গুজরাত ফাইনালে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। ফলে রবিবার হাইভোল্টেজ লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট প্রেমীরা। পাশাপাশি উল্লেখ্য চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু ও গুজরাত টাইটান্স। তার মধ্যে গ্রুপ পর্বে একবার জিতেছে আরসিবি ও একবার জিতেছে গুজরাত। আর কোয়ালিফায়ার ওয়ানে কোহলিদের সঙ্গে গিলদের লড়াইয়ে ৯৭ রানের বিরাট ব্যবধানে জয় লাভ করে আরসিবি। ফলে ওই ম্যাচে জিতে ফাইনালে উঠে আসে কোহলিরা। অন্যদিকে বিরাটদের কাছে হারলেও, কোয়ালিফায়ার টু-তে রাজস্থায় রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে গুজরাত। ওই ম্যাচে রাজস্থানের হয়ে অনবদ্য চেনা ছন্দে ৪৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংস বৈভব সূর্যবংশি উপহার দিলেও, ২১৪ রানেই গুজরাতের বোলিং এর সামনে আটকে যায় রাজস্থান। যা জয়ের জন্য উপযুক্ত টার্গেট ছিল না। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত ব্যাটিং করেন অধিনায়ক শুভমান গিল ও সাঁই সুদর্শন। ৫৩ বলে ১০৪ রান দলকে উপহার দেন গিল। অন্যদিকে ৩২ বলে ৫৮ রান করেন সাঁই সুর্দশন। তাদের ব্যাটিং সৌজন্যে ৩ উইকেট হারিয়ে, ১৮ ওভার ৪ বলেই ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাত টাইটান্স। ফলে গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে ভালো লড়াই করেও, আইপিএলের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল রাজস্থানের। অন্যদিকে রাজস্থানকে হারিয়ে আবারও আইপিএলের ফাইনালে উঠে এল টাইটান্স।

রজত পাতিদারের নেতৃত্বে গতবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আরসিবি। আর এবারও ধারাবাহিক ভাবে সাফল্য ধরে রেখেছে তারা। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে গুজরাত ভালো প্রতিপক্ষ হলেও, কিছুটা ফেভারিট ধরা যেতেই পারে কোহলিদের। কারণ তাদের দলে একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছেন। ব্যাটিং বিভাগে গুজরাতের অপেক্ষা অনেকটাই গভীরতা বেশি আরসিবির। তাদের দলে বিরাট কোহলির পাশাপাশি রয়েছেন রজত পাতিদার, দেবদূত পাড্ডিকাল, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, ক্রনাল পান্ডিয়া, টিম ডেভিডদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। অন্যদিকে গুজরাতের ব্যাটিংলাইন অনেকটাই নির্ভরশীল শুভমান গিল, সাঁই সুর্দশন, জস বাটলারের উপর। এছাড়া কিছুটা আক্রমণাত্বক গতিতে রান বাড়াতে পারেন জেসন হোল্ডার ও রাহুল তেওটিয়া। ফলে ব্যাটিংয়ে শক্তির বিচারে কিছুটা এগিয়ে আরসিবি। তবে বোলিংয়ে আরসিবি অপেক্ষা অনেকটাই শক্তিশালী বলা যেতে পারে গুজরাতকে। গুজরাতের বোলিং বিভাগে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, জেসন হোল্ডারদের মতো পেসাররা। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে ভরসা যোগাচ্ছেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও রশিদ খান। উল্টোদিকে আরসিবির বোলিং লাইনের ভরসা জেকব ডাফি, ভুবণেশ্বর কুমার, জস হ্যাজেলউডরা। পাশাপাশি রয়েছেন ক্রনাল পান্ডিয়া ও রোমারিও শেফার্ড। সবমিলিয়ে রবিবার আরসিবির ব্যাটিং বনাম গুজরাতের বোলিং বিভাগের বড় পরীক্ষা তা বলা যেতেই পারে।

চলতি আইপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি অর্থাৎ পার্পেল ক্যাপের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন আরসিবির ভুবণেশ্বর কুমার ও গুজরাত টাইটান্সের কাগিসো রাবাডা। এরমধ্যে শীর্ষে সবার আগে রয়েছে রাবাডা। এবারের আইপিএলে ১৬ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ২৮ টি উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেট ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট। দ্বিতীয় স্থানে ভুবণেশ্বর কুমার। তিনি ১৫ ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ টি উইকেট। সর্বোচ্চ ২৩ রানে ৪ উইকেট। ফলে রবিবার ফাইনাল ম্যাচেই নির্ধারিত হয়ে যাবে এবারের আইপিএলের পার্পেল ক্যাপ বিজয়ী রাবাডা নাকি ভুবণেশ্বর কুমার। দুই দলের দুই তারকা পেসারের দিকে বিশেষ নজর থাকবে ক্রিকেট প্রেমীদের। অন্যদিকে অরেঞ্জ ক্যাপ অর্থাৎ সর্বোচ্চ রানের তালিকায় অবশ্য এগিয়ে গুজরাতের দুই ব্যাটসম্যান। ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করে এক নম্বরে রাজস্থানের বৈভব সূর্যংবশি থাকলেও, দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছেন গুজরাতের অধিনায়ক শুভমান গিল। তিনি ১৫ টি ইনিংসে করেছেন ৭২২ রান। তালিকায় ৬ টি হাফসেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন গুজরাত টাইটান্সের অপর ওপেনার সাঁই সুর্দশন। তাঁর রান ১৬ ম্যাচে ৭১০। ফলে রবিবার অরেঞ্জ ক্যাপের তালিকায় শীর্ষ স্থানে চলে আসার যথেষ্ট সুযোগ করেছে গুজরাতের দুই ওপেনার শুভমান গিল ও সাঁই সুর্দশনের মধ্যে যে কোনও একজনের। ফলে রবিবার টাইটান্সের হয়ে গিল বা সুর্দশন ভালো রান করলে অরেঞ্জ ক্যাপও চলে আসবে তাদের ঘরে। সেই সুযোগও কাজে লাগাতে মরিয়া গুজরাত। অন্যদিকে এবারের আইপিএলে ভালো ব্যাটিং করলেও সেই তালিকায় অনেকটাই পিছনে বিরাট কোহলি। তাঁর রান ১৫ ম্যাচে ৬০০। ফলে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার সুযোগ সেভাবে নেই আরসিবির কোনও ক্রিকেটারের। তবে কিং কোহলির এখন একটাই লক্ষ্য ফাইনালে দলকে ভালো রানে নিয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়বারের জন্য আইপিএল ট্রফিটা উপহার দেওয়া। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত রবিবার ফাইনালে কাদের দখলে আসে দ্বিতীয় আইপিএল ট্রফি ?
