ময়দান আপডেট: ২০২৫ সালে দেশজুড়ে আরসিবি সমর্থকদের স্বপ্ন পূরণ করে প্রথমবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। আর আবারও একটা আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি আরসিবির সামনে। এবারও দুর্দান্ত ছন্দে কিং কোহলি-রজত পাতিদারদের দল। ইতিমধ্যেই আইপিএলের কোয়ালিফায়ার ওয়ানে গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। আর মাত্র একটা লড়াইয়ের কাউন্টডাউন শুরু। জিতলেই পর-পর দ্বিতীয়বারের জন্য ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলে নেবে আরসিবি। শেষ ম্যাচে ধরমশালায় কোয়ালিফায়ার ওয়ানে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৯২ রানের বিরাট ব্যবধানে জিতে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে তারা। ওই ম্যাচে প্রথম ব্যাট করে আরসিবি তোলে ৫ উইকেটে ২৫৪ রান। ৩৩ বলে ৯৩ রানের অপরাজিত একটা দুর্দান্ত ইনিংস দলকে উপহার দেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫ টা চার ও ৯ টা ছয়। পাশাপাশি ২৫ বলে ৪৩ রান করেন বিরাট কোহলি। ২৮ বলে ৪৩ রান করেন ক্রনাল পান্ডিয়া। আর জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে গুজরাত। একটা সময় মনে হচ্ছিল হয়তো তাদের স্কোর ১০০ রানও পার করতে পারবে না। যদিও রাহুল তেওটিয়ার ব্যাটে ভর করে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরে গুজরাত। রাহুল করেন ৪৩ বলে ৬৮ রান। আর গুজরাত ১৯ ওভার ৩ বলে ১৬২ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ফলে গুজরাতকে শুক্রবার নিউ চন্ডিগড়ে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে কোয়ালিফায়ার টু- এর ম্যাচে খেলতে হবে।

বুধবার রাজস্থান রয়্যালস নিউ চন্ডিগড়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এলিমিনেটরের ম্যাচে ৪৭ রানে জয় লাভ করে। ফলে তাদের এবার কোয়ালিফায়ার টু-এর ম্যাচে খেলতে হবে গুজরাতের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ওই ম্যাচে যারা জিতবে তারা ফাইনালে মুখোমুখি হবে আরসিবির বিরুদ্ধে। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে শেষ ম্যাচে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে সুপার সাইক্লোন ব্যাটিং উপহার দেন বৈভব সূর্যবংশি। ২৯ বলে ৯৭ রানের একটা চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলেন তিনি। বৈভবের ইনিংসে ছিল ৫ টা চার ও ১২ টা ছয়। তাঁর এই ব্যাটিং রাজস্থানকে দ্বিতীয়বারের জন্য আইপিএল জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সেই ২০০৮ সালে প্রথমবার শেন ওয়ার্নের হাত ধরে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজস্থান। তারপর আর কোনও দিন আইপিএল ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয়নি রাজস্থানের। তবে এবার বৈভব, ধ্রুব জুরেল, রিয়ান পরাগরা আবারও একটা ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। উল্লেখ্য হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ধ্রুব জুরেল করেন ২১ বলে ৫০ রান। রাজস্থান তোলে ৮ উইকেটে ২৪৩ রান। আর ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ ১৯ ওভার ২ বলে ১৯৬ রানেই অলআউট হয়ে যায়। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। ৩৫ রান করেন সলিল অরোরা। ফলে ৪৭ রান হেরে এবারের মতো আইপিএলের সফর শেষ করল অরেঞ্জ আর্মিরা। অন্যদিকে হায়দরাবাদকে হারিয়ে কোয়ালিফায়ার টু খেলতে নামতে চলেছে রাজস্থান। প্রতিপক্ষ গুজরাত। লড়াইটা কঠিন হবে খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এবারের মরসুমে দুই দলের খেলার ধরন থেকে রাজস্থানকে অনেকটাই ফেভারিট ধরছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। যদিও ১৪ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব থেকে প্লে-অফে উঠে এসেছে গুজরাত। অন্যদিকে ১৪ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থেকে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় রাজস্থান। তবে গ্রুপ পর্ব এখন অতীত। গ্রুপ পর্বে ব্যর্থতা থাকলেও, অতীত পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে অনেক দলই মূল পর্বে উঠে আসলে তাদের শক্তি ও খেলার ধরন অনেকটাই পরিণত হয়ে যায়। ফলে এবার রাজস্থানকে বেশ কয়েক বছর পর রাজস্থানকে ঘিরে প্রত্যাশা রয়েছে ক্রিকেট প্রেমীদের।

গুজরাত ও রাজস্থানের শেষ পাঁচবারের সাক্ষাতে অবশ্য এগিয়ে গুজরাত। গুজরাত জিতেছে ৩ বার,রাজস্থান জয় পেয়েছে ২ বার। চলতি আইপিএলের এই দুই দল দুইবার মুখোমুখি হয়েছে। একবার জিতেছে রাজস্থান, একবার জিতেছে গুজরাত। ফলে এখন দেখার শুভমান গিল বনাম রিয়ান পরাগের তৃতীয়বারের ডুয়েলে কারা এগিয়ে যেতে পারে! পাশাপাশি যারা জিতবে তারা মুখোমুখি হবে রবিবার আমেদাবাদে আইপিএলের মেগা ফাইনালে আরসিবির বিরুদ্ধে। অতীতে এখনও পর্যন্ত গুজরাত ও রাজস্থান দুই দলই একবার করে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২২ সালে প্রথমবার আইপিএলের মঞ্চে দল নামিয়ে প্রথমবারই হার্দিক পান্ডিয়ার হাত ধরে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল গুজরাত টাইটান্স। সেই দিক দিয়ে বিচার করলে আইপিএলের ইতিহাসে অনেকটাই নবাগত গুজরাত। কারণ ২০০৮ সালে প্রথম বছর থেকে আইপিএলে অংশ নিচ্ছে রাজস্থান ও আরসিবি। তবে তিন দলেরই ঝুলিতে এখন মাত্র একটি করেই আইপিএল ট্রফি রয়েছে। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত এই তিন দলের মধ্যে কোন দলের ঘরে দ্বিতীয়বারের জন্য আইপিএল ট্রফিটা জায়গা করে নেয়!
