উন্মেষ চ্যাটার্জী, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি যুবভারতীতে এই মরসুমে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছে ইস্টবেঙ্গল এফসি ও স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি। ভাষা দিবসের দিন বাংলার ক্লাব ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হচ্ছে আইএসএলের নতুন এই ফ্রাঞ্চাইজির। তবে দলটির নাম নতুন হলেও, দলটির পরিকাঠামো ও আইএসএলে অভিজ্ঞ। দলটি আগের মরসুমগুলিতে হায়দরাবাদ এফসি নামে খেলেছে ভারতের টপ ডিভিশন লিগে। একটি আইএসএল ট্রফি জয়ের খেতাবও রয়েছে তাদের। তবে মালিকানা হস্তান্তরের পর নতুন সংস্থা হায়দরাবাদ থেকে দল দিল্লি স্থানান্তর করে।

দুটি দল দুই রকম ভাবে শুরু করেছে এই মরসুম। যেখানে ইষ্টবেঙ্গল ঘরের মাঠে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় তুলে নেয়, সেখানে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি ব্যাঙ্গালুরুর ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরে যায়। সুতরাং এই ম্যাচের মাধ্যমে জয়ের ছন্দে ফিরতে ঝাঁপাবে তারা। তবে গত মরসুমের তুলনায় ইষ্টবেঙ্গল এই মরসুমে যথেষ্ট শক্তিশালী, দুরন্ত ফুটবল খেলেছে এই দলটি। নর্থ-ইষ্ট ইউনাইটেডকে নিজেদের ঘরের মাঠে তিন গোল দেওয়াই শুধু নয়, সঙ্গে রয়েছে ক্লিনশিটও। এই মরসুমে দেশীয় ব্রিগেডের সঙ্গে যেটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হল দলটির বিদেশী চয়ন। এই মরসুমের দলটির নতুন স্ট্রাইকার ইউসুফ এজ্জেজারি প্রথম ম্যাচ থেকেই সমর্থকদের মন জয় করে নিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গলের গত মরশুমের বিদেশী স্ট্রাইকাররা যে গোলের খরায় ভুগছিলেন, সেই রোগ ইউসুফের মধ্যে দেখা যায়নি। দলে এসেই নিজের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেন এই স্ট্রাইকার। নর্থ-ইস্ট ম্যাচে ৬৫ ও ৭০ মিনিটে দুটি গোল করেন তিনি। ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকায় মিগুয়েলের প্রশংসা অবশ্যই করতে হবে। অস্কারের প্রিয় ছাত্র মিওয়েল যে দক্ষটার সঙ্গে খেলা পরিচালনা করেন তা ইস্টবেঙ্গল দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিফেন্স থেকে অ্যাটাকের মধ্যে যে সামঞ্জস্য তিনি রাখতে পারেন, সেই দক্ষতা আইএসএলে খেলা খুব কম বিদেশির মধ্যে দেখা যায় না। শুধু তাই নয় তার মধ্যে রয়েছে গোল করার দক্ষতাও।

নর্থ-ইস্ট ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আইএসএলে নিজের প্রথম গোলটি করেন মিগুয়েল। ইস্টবেঙ্গল দলটির কাছে আরেকটি স্বস্তির খবর তাদের ষষ্ঠ বিদেশী ইতিমধ্যেই চলে এসেছে কলকাতায়। ডেনমার্কের ফুটবলার অ্যান্টন সোজবার্গ যোগ দিয়েছেন দলে, যা আরও শক্তিশালী করেছে দলকে। দেশীয় প্লেয়ারদের মধ্যে বিপিন সিং অনবদ্য। ইস্টবেঙ্গল এসেই বিপিন সিং যেন চেনা ছন্দে খেলছেন উইং বরাবর। একের পর এক ধারালো আক্রমণ করছেন বিপক্ষের গোল মুখে। আনোয়ার এবং জিকসন ডিফেন্সে যে শক্তিশালী জুটি বেধেছেন তার ফলস্বরূপ নর্থ-ইস্টকে থাকতে হয় গোলশূন্যভাবে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এর ভূমিকা যথেষ্ট দায়িত্বপূর্ণভাবে পালন করেছেন মহম্মদ রাশিদ। এককথায় গোটা দলের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ভালো পারফরম্যান্স করার উদ্যোগ।
অন্যদিকে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি ব্যাঙ্গালুরুর কাছে প্রথম পরাজয়ের পর চাইবে ঘুরে দাঁড়াতে। এই দিল্লির দলে রয়েছে মহম্মদ আইমান, আজহার, এলেক্স সাজি, মনোজ মহম্মদের মতো তরুণ তুর্কি খেলোয়াড়। রয়েছে ব্রাজিলিয় ডিফেন্ডার রিবেরিয়, যার ব্রাজিলের ফ্লুমেনেসির মতো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই ম্যাচ সহজ হবে না। তবে গ্রুপ শীর্ষে থাকতে হলে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিপক্ষে জয়ের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে অস্কারের ছাত্রদের। সমর্থকদের দীর্ঘদিনের ট্রফির যে দাবি তা অর্জন করতে হলে লিগ শীর্ষে থাকতে হবে লাল হলুদকে। ফলে প্রতিটা ম্যাচই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তবে বিশেষভাবে নিজেদের ঘরের মাটির ম্যাচগুলিতে জয়ের জন্যই ঝাঁপাবে ইষ্টবেঙ্গল।
শহরে হাজির লাল-হলুদের ষষ্ঠ বিদেশী ডেনমার্কের সেন্টার ফরোয়ার্ড অ্যান্টন সোজবার্গ
