ময়দান আপডেট:গোটা দেশের তারকাখচিত এতগুলো রাজ্যের সমস্ত দলকে টেক্কা দিয়ে, ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নিজেদের নাম লিখল দেশের উত্তরের একেবারে সীমান্তবর্তী রাজ্যের অনামি তরুণ একদল ক্রিকেটাররা। ভারতীয় লাল বলের ক্রিকেট রঞ্জি ট্রফিতে এই প্রথমবার ভারতসেরার শিরোপা জিতে নিল জম্মু-কাশ্মীর। হয়তো এতবড় সাফল্য তাদের আসতে পারে, তা বোধহয় স্বপ্নেও কোনও দিন কল্পনাও করতে পারেননি পরশ ডোগরা, আকিব নবি, আব্দুল সামাদরা। এককথায় সত্য়িই অবিশ্বাস্য! চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো অনেক দূরের কথা, প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠেই ভারতীয় ক্রিকেটে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল এই জম্মু-কাশ্মীর। তাঁদের দলে তারকাখচিত বড় নাম, বড় চমক কোনওটাই ছিল না। ফলে সমর্থকদের বিশাল প্রত্যাশার চাপও ছিল না। অনেকটাই টেনশেন ফ্রি মাইন্ডে রঞ্জি অভিযান শুরু করেছিল পরশ দোগরার নেতৃত্বে জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট দল। তারা ছিল গ্রুপ ডি-তে। যেখানে ছিল হেভিওয়েট মুম্বই,দিল্লি, হায়দরাবাদ, ছত্রিশগড়, রাজস্থানের মতো দলরা। অথচ ওই গ্রুপের ডার্ক হর্স হয়ে ওঠে জম্মু-কাশ্মীর। গ্রুপ পর্বে সাত ম্যাচে হায়দরাবাদ, দিল্লি ও রাজস্থানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে জয় পায় তারা। হিমাচল প্রদেশ, পন্ডিচেরি, চন্ডিগড়ের বিরুদ্ধে ড্র করে জম্মু-কাশ্মীর। আর একটি ম্যাচে তারা পরাজিত হয় মুম্বইয়ের কাছে। ফলে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় জম্মু-কাশ্মীর।

জম্মু-কাশ্মীর কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় মধ্যপ্রদেশের ঘরের মাঠে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে ইন্দোরে। অথচ সেখানেও নিজেদের আধিপত্য অব্যাহত রাখে আকিব নবি দার, সুনীল কুমার, পরশ দোগরারা। কোয়ার্টার ফাইনালে ৫৬ রানে মধ্যপ্রদেশকে হারিয়ে প্রথমবার রঞ্জির সেমিফাইনালে উঠে আসে জম্মু-কাশ্মীর। আর এরপর সেমিফাইনালে বাংলার দলের একঝাঁক ভারতীয় দলের হয়ে খেলা মহম্মদ শামি, আকাশদীপ, মুকেশ কুমার, শাহবাজ আহমেদ থেকে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের বিরুদ্ধে দাপটের সঙ্গে বাংলার ঘরের মাঠে লড়াই করে বাংলাকে হারিয়ে প্রথমবার রঞ্জির ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল তারা।

এরপর ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিক কর্ণাটক। যাদের দলে কেএল রাহুল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, দেবদূত পাড্ডিকাল, করুণ নায়ার, শ্রেয়স গোপাল থেকে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাদের মতো একাধিক ভারতীয় দলের সুপারস্টার ক্রিকেটাররা ছিলেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে একচ্ছত্র শাসন অব্যাহত রাখল সেই জম্মু-কাশ্মীর। কার্যত গোটা দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের চমকে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে কর্ণাটকের সামনে রাখল ৫৮৪ রানের লক্ষ্যমাত্র। যা টপকানো কর্ণাটকের পক্ষে অসাধ্য সাধন হয়তো ছিল না। কিন্তু রঞ্জির মরসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি আকিব নবির বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না দেশের অন্যতম সেরা দলের ব্যাটিংলাইন। মাত্র ২৯৩ রানে অলআউট হয়ে গেল কর্ণাটক। ৫ উইকেট নেন নবি।

আর ফের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে জম্মু-কাশ্মীর ৪ উইকেটে ৩৪২ রান তুলে ডিক্লেয়ার দেয়। ১৬০ রানে অপরাজিত থাকেন উমরান ইকবাল। তবে এত বিশাল টার্গেটের সামনে শেষ দিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য আর ব্যাট করতে নামেনি কর্ণাটক। ফলে প্রথম ইনিংসের লিডের বিচারে ইতিহাস গড়ে রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল জম্মু-কাশ্মীর।

আবেগে-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে দলের ক্রিকেটার, কোচ থেকে গোটা জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দারা। গোটা দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দল নির্বাচকদের কাছে যেন বার্তা দিলেন এই অনামি ক্রিকেটাররা যে আগামী দিনে তাঁদেরও সুযোগ দেওয়া যেতে পারে দেশের জাতীয় দলে। নিজের রাজ্য জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটারদের অভিবাদন জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মনহাস থেকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী উপর আব্দুলা।

গোটা টুর্নামেন্টে ৬০ টা উইকেট নিয়ে রঞ্জির ম্যান অফ দ্যা সিরিজের পুরস্কার জিতে নিলেন জম্মু-কাশ্মীরের তারকা পেসার আকিব নবি দার।
স্টিফেন এজে ও তাচিকাওয়ার দুর্দান্ত গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে জামশেদপুর
