ময়দান আপডেট: সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। আর ভোটের আগে রাজ্যের শাসক দলকে কোনঠাসা করতে আসরে নেমেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। মমতার সরকার ও পুলিশের ব্যর্থতাকে বার-বার প্রকাশ্যে আনতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তারই প্রভাব এবার ময়দানে খেলার মাঠেও। মোহনবাগান সুপার জায়েন্টসকে কঠোর শাস্তি দিয়ে, বাংলার পুলিশের ব্যর্থতাকেই প্রকাশ্যে আনতে তৎপর হলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তথা বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে। এককথায় বলা বাহুল্য,দোলের দিনে কল্যাণ চৌবের লজ্জার উপহার মোহনবাগান সমর্থকদের। আর্থিক জরিমানা দেওয়ার পরেও, ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে যুবভারতীতে মোহনবাগান ম্যাচে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলার নির্দেশ ফেডারেশনের। যার জেরে চরম হতাশ মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট।

উল্লেখ্য ঘটনার সূত্রপাত কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের ম্যাচ চলাকালীন মোহনবাগান দর্শকদের মাঠে বাজি ফাটানোর অভিযোগ। যা ফেডারেশনের নিয়মের বাইরে। তার ফলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে এআইএফএফ ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যদিও ক্লাব দায়িত্বের সঙ্গে আর্থিক জরিমানা মেনে নিয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে আরও বেশি পরিমান আর্থিক জরিমানা দিতেও সম্মতি জানিয়েছে ক্লাব। কিন্তু তার পরেও নিজেদের সিদ্ধান্তের অনড় ফেডারেশন। এআইএফএফ ৬ মার্চ ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে মোহনবাগানের হোম খেলার জন্য পুরো স্টেডিয়াম খালি রেখে ম্যাচ খেলার নির্দেশ দিয়েছে। যার জেরে চরম ভাবে হতাশ মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট থেকে সমর্থকরা। সমর্থকদের আবেগ নিয়ে খেলছে ফেডারেশন তা বলা যেতেই পারে। তার কারণ ইউরোপ থেকে আমেরিকা কিংবা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের হাইপ্রোফাইল বিশ্বের বিভিন্ন সেরা টুর্নামেন্টেও গ্যালারিতে বাজি ফাটানোর দৃশ্য অতি পরিচিত। অথচ মোহনবাগান গ্যালারিতে কয়েকটা বাজির শব্দের কারণে গোটা গ্যালারি ফাঁকা করে ম্যাচ করানোর নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বিস্মিত করছে বাংলার ফুটবল প্রেমীদের।

মোহনবাগান সুপার জায়েন্টসের বক্তব্য আর্থিক জরিমানা মেনে নেওয়ার পরেও, স্টেডিয়াম বন্ধ করে দেওয়া ক্লাবের হাজার হাজার আবেগপ্রবণ, আইন মেনে চলা সমর্থকদের অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া।সমর্থকদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হলেও, তা গৃহীত হয়নি। ফলে ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তে অখুশি মোহনবাগান ফুটবলাররাও। তার কারণ কোভিডের সময় ফাঁকা মাঠে খেলতে হয়েছিল, যা ফুটবলারদের মনে আঘাত করত। তবে দীর্ঘ টালবাহানের পর এবার আইএসএল শুরু হওয়ার পরেই, মোহনবাগান সমর্থকদের এই ভাবে মাঠে যাওয়া আটকাতে ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বির্তক।