প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: ইউরো ২০২৪ এর চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি হিসেবে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘টিকিটাকা’ শৈলীর সঙ্গে আধুনিক গতিময় ফুটবলের এক দুর্দান্ত মিশ্রণ ঘটেছে। অভিজ্ঞতার চেয়ে তারুণ্যের শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে এবারও একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও লড়াকু স্কোয়াড সাজিয়েছে লা রোহারা। তবে তারা বিশ্বকাপের আগে ইরাকের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলো সেই ম্যাচটি ড্র তে শেষ হয়েছিলো।
ঘোষিত স্কোয়াডে রক্ষণ থেকে আক্রমণ—প্রতিটি লাইনেই রয়েছে প্রতিভার ছড়াছড়ি। গোলপোস্টের নিচে প্রধান ভরসা উনাই সিমন ও ডেভিড রায়ার সাথে ব্যাক-আপ হিসেবে থাকছেন রেমিরো। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নজর থাকবে পাউ কিউবারসি এবং ডিন হুইজসেনের মতো তরুণ তুর্কিদের ওপর; তাঁদের সাথে ডিফেন্স সামলাবেন ভিভিয়ান, পেদ্রো পররো, রবিন লে নর্মান্ড, আলেক্স গ্রিমাল্ডো এবং ডিয়েগো লরেন্ট। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গড়ার মূল কারিগর হিসেবে থাকছেন পেদ্রি, ড্যানি ওলমো এবং মার্টিন জুবিমেন্ডি। তাঁদের সাথে মাঝমাঠে গভীরতা বাড়াবেন পাবলো ব্যারিওস, মিকেল মেরিনো এবং আলেক্স গার্সিয়া। আর গোল করার মূল দায়িত্বে আক্রমণভাগে ফেরান টরেস, ইয়েরেমি পিনো এবং মিকেল ওয়ারজাবালের মতো চেনা মুখের পাশাপাশি থাকছেন আলেক্স বায়েনা, স্যামুয়েল আঘেহওয়া, আলভারো রদ্রিগেজ, হোর্হে দে ফ্রুতোস এবং বোরহা ইগলেসিয়াস।

গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেন অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে ২০২৩ সালে নেশনস লিগ এবং ২০২৪ সালে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটিকে এক নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে স্পেন অত্যন্ত দাপুটে ফুটবল খেলেছে। তরুণদের ওপর কোচের ভরসা রাখার সুফল মিলেছে মাঠের পারফরম্যান্সে। উইং ধরে আক্রমণ এবং মাঝমাঠের নিখুঁত পাসিংয়ে স্পেন বর্তমান বিশ্বের যেকোনো দলের জন্যই এক বড়ো আতঙ্ক।

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত জোরালো। দলটির মূল শক্তির জায়গা তাদের মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এবং প্রতিটি পজিশনে ব্যাক-আপ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি। তবে লামিন ইয়ামালের না থাকায় একটু সমস্যায় পড়তেই পারে স্পেন। ওলমো ও পেদ্রি যদি মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন, তবে স্পেনের আক্রমণভাগকে রোখা কঠিন হবে। তবে মূল শঙ্কা তৈরি হতে পারে নকআউট পর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোতে অনভিজ্ঞ তরুণ ডিফেন্ডারদের স্নায়ুর চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে। গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে নকআউট পর্বে ফ্রান্স, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে, লুইস দে লা ফুয়েন্তের এই স্প্যানিশ ব্রিগেড বিশ্বমুকুট পুনরুদ্ধার করতেই পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের ইতিহাস গড়ার লড়াই! প্রথমবার রোনাল্ডোর হাতে ট্রফি দেখার আশায় সমর্থকরা
