প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: কাতার বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক সাফল্যের পর বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসে আছে আর্জেন্টিনা। দেখতে দেখতে এসে গেছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। বিশ্বজুড়ে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন – লিওনেল স্কালোনির এই দল কি পারবে তাদের বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখতে? সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার যে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে যেমন রয়েছে অভিজ্ঞতার ছোঁয়া, তেমনই রয়েছে আগামীর একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ।
স্ক্যালোনীর দলে গোলকিপার হিসাবে সুযোগ পেয়েছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জুয়ান মুসো, জেরেনিমো রুলি। ডিফেন্ডার মোলিনা, গনজালো মন্তিয়েল, রোমেরো, লিওনার্দো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওটামেন্দি, নিকোলাস তাগলাফিগো, ফাকুন্ডো মেডিনা। মিডফিল্ডার পজিশনে রয়েছেন লিসান্দ্রো পারাদেস, লো কেলসো, রদ্রিগো ডি পল, থিয়াগো আলমাদা, পালাসিওস, নিকোলাস গঞ্জালেস, নিকোলাস পাজ, ম্যাক আলিস্টার, এঞ্জো ফার্নান্দেজ, ভালেন্টিন বার্কো এবং আক্রমণভাগে রয়েছে জুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, জোসে ম্যানুয়াল লোপেজ, গিউলিয়ানোসিমিওন।

গত পাঁচ বছরে আর্জেন্টিনা ফুটবল বিশ্বকে শাসন করেছে বললেও ভুল হবে না। দলটির সাম্প্রতিক ফর্ম ছিল অবিশ্বাস্য রকমের ধারাবাহিক : ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা এবং পরবর্তীতে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছিল অনন্য এক উচ্চতা। ২০২৪ সালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে ব্যাক-টু-ব্যাক কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হয় স্কালোনির দল। এছাড়াও, ২০২৬ বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বেও আর্জেন্টিনা ছিল দুর্দান্ত। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেই তারা অত্যন্ত দাপটের সাথে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

কোচ লিওনেল স্কালোনির ‘স্কালোনিস্তা’ কৌশল দলটিকে একটি নিটোল ইউনিট হিসেবে ধরে রেখেছে। বর্তমান ফর্মে লাউতারো মার্টিনেজ ইন্টার মিলানের হয়ে এবং হুলিয়ান আলভারেজ ক্লাবের হয়ে নিয়মিত গোল করছেন। মাঝমাঠের বোঝাপড়া এবং বল দখলের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা। দি মারিয়ার অনুপস্থিতিতে দলগত রসায়ন এবং মেসির ক্ষুরধার পাসিংই হবে আর্জেন্টিনার মূল অস্ত্র। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার সামনে এবার ট্রফি ধরে রাখার সুযোগ অবশ্যই রয়েছে, তবে পথটা মোটেও মসৃণ নয়। আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা তাদের নিখুঁত দলীয় বোঝাপড়া এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। তবে ওটামেন্দির বয়স এবং দি মারিয়ার না থাকাটা দলের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে। গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্বে ফ্রান্স, ব্রাজিল, জার্মানি বা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে হারাতে হলে মেসিকে তাঁর চেনা ছন্দে থাকতে হবে এবং তরুণ নিকোলাস পাজ বা আলভারেজদের মাঝমাঠ ও আক্রমণে নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে হবে। সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞ ও তরুণের এই ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বমুকুট ধরে রাখতে লড়াই করতে প্রস্তুত।
কাউন্টডাউন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপের! কতটা প্রস্তুত নেইমার জুনিয়রের সাম্বা বাহিনী?
