প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে। বরাবরের মতোই ফুটবল প্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে তারা এই আসরে ফেভারিট হিসেবে নামছে না। সম্প্রতি দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ‘হেক্সা’ জয়ের লক্ষ্যে এবার এক ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজিয়েছে সেলেসাওরা।

ঘোষিত স্কোয়াডের সবচেয়ে বড়ো খবর হল ফুটবল মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে এসিএল ইনজুরির কারণে দীর্ঘ ৩ বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের অন্তর্ভুক্তি দলকে মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। আক্রমণে নেইমারের সঙ্গে থাকছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা উইঙ্গার ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং বার্সেলোনার রাফিনহা। মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস ও লুকাস পাকেতা। রক্ষণভাগে পিএসজি-র অধিনায়ক মার্কিনহোসের সাথে জুটি বাঁধবেন আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস। গোলপোস্টের নিচে অ্যালিসন ও এডারসনের মতো বিশ্বসেরা দুই গোলরক্ষক ব্রাজিলের রক্ষণকে ইস্পাতকঠিন করে তুলেছে। তবে চোটের বড় ধাক্কাও রয়েছে দলে; ইনজুরির কারণে রদ্রিগো, এদের মিলিতাও এবং তরুণ সেনসেশন এস্টেভাওয়ের মতো তারকাদের মিস করবে সেলেসাওরা। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি গোলরক্ষক হিসাবে রেখেছেন এলিসন, এডারসন ও ওয়েভারটনকে। ডিফেন্সে রয়েছে আলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, মাগালহেজ, পেরেইরা, মারকুইনোস ও ওয়েসলি। মাঝমাঠে রয়েছেন ব্রুনো গুইমারেজ, ক্যাসেমিরো, লুকাস পাকুয়েতা, ফাবিনহো ও দানিলো। এছাড়াও অ্যাটাকিং লাইনে রয়েছেন এন্ড্রিক, মার্টিনেলি, ইগোর থিয়াগো, লুইজ হেনরিক, ম্যাথুজ কুনা, রাফিনহা, রায়ান, ভিনিসিয়াস ও নেইমার।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। ২০২৪ কোপা আমেরিকাতে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারা দলটিকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। সেই আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিলো ব্রাজিলকে। ২০২৬ বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ব্রাজিলের ফর্ম ছিল বেশ নড়বড়ে। সেই বাছাইপর্বে ১৮ ম্যাচে মাত্র ৮ ম্যাচে জয় এবং ৪ ম্যাচে ড্র করে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিলো ব্রাজিল। যেখানে তারা বিগত বাছাইপর্বগুলিতে শীর্ষে থেকেই ফেভারিট হয়ে বিশ্বকাপে যেতো।
বাছাইপর্বের সেই অন্ধকার সময় কাটিয়ে ব্রাজিল দল এখন অনেকটাই গুছিয়ে উঠেছে। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলে এসেছে কাঠামোগত শৃঙ্খলা। বর্তমান ফর্মে ভিনিসিয়াস জুনিয়র রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপ কাঁপিয়ে ফর্মে আছেন, রাফিনহাও ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন। রদ্রিগো বা এস্টেভাওয়ের অনুপস্থিতিতে তরুণ তুর্কি এন্ড্রিকের মতো খেলোয়াড়দের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়ে যাবে, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে প্রস্তুত। রক্ষণ এবং মাঝমাঠের বোঝাপড়া আগের চেয়ে অনেকটাই নিটোল হয়েছে, যা সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সে ফুটে উঠেছে। ব্রাজিল শিবিরে একটি খারাপ খবর এসেছিলো নেইমারের ইনজুরি নিয়ে। তবে কার্লো আনচেলোত্তি নিশ্চিত করেছেন যে, চোটের আশঙ্কা থাকার সত্ত্বেও নেইমারের বদলি নেওয়া হবে না এবং তিনি বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। তারা আশা করছেন, মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই তিনি দলে ফিরবেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে, ব্রাজিলের শক্তির জায়গা তাদের অবিশ্বাস্য আক্রমণভাগ এবং উইং-স্পিড। যদি নেইমার তার পুরোনো ছন্দ এবং ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন। তবে ব্রাজিলকে আটকানো যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই কঠিন হবে। তবে মূল শঙ্কা তৈরি হতে পারে মিলিতাওয়ের অনুপস্থিতিতে তাদের ডিফেন্সিভ ট্রানজিশন এবং বড় দলের বিরুদ্ধে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে। গ্রুপ পর্বে মরক্কো, হেইতি এবং স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলোর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। নকআউট পর্বে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা বা জার্মানির মতো ইউরোপীয় ও লাতিন পরাশক্তিদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আনচেলত্তির রণকৌশল এবং ভিনিসিয়াস-নেইমার-রাফিনহা জুটিকে নিজেদের সেরাটা দিতেই হবে। সব মিলিয়ে, চোটের ধাক্কা কাটিয়ে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন পূরণের সমস্ত উপাদান এই স্কোয়াডে রয়েছে, এখন শুধু মাঠে তা প্রমাণ করার অপেক্ষা।
রাজার মুকুটে আবারও আইপিএল! ৫ উইকেটে গুজরাতকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন আরসিবি
