ময়দান আপডেট: আমেদাবাদের শাপমোচন আমেদাবাদেই। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর এই আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই গোটা ভারতবাসীর স্বপ্নভঙ্গ করে বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৯ নভেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক মেনস ডে অর্থাৎ পুরুষ দিবস। আর ৩ বছর পর ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ওম্যান্স ডে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনেই, সেই আমেদাবাদের মাটিতেই বিশ্বজয় করল ভারতের পুরুষ দল। এবার টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড অতি-সহজেই ৯৬ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ী সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতীয় দল। ফলে এযেন আমেদাবাদের ফাঁড়া কাটিয়ে জয়ে প্রত্যাবর্তন ভারতের। অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আবারও অধরাই থেকে গেল কিউয়িদের।

আর এদিন ব্যাটিং সহায়ক আমেদাবাদের উইকেটে টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েই ভারতের জয়ের রাস্তা অনেকটাই মসৃন করে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন দুইজনেই হাফসেঞ্চুরি করেন। ৫২ রান করেন অভিষেক, ৪৬ বলে ৮৯ রানের সুপার সাইক্লোন ইনিংস খেলেন সঞ্জু। ৩২১ রান করে গোটা টুর্নামেন্টের ম্যান অফ দ্য সিরিজের পুরস্কার জিতে নিলেন সঞ্জু স্যামসন। পাশাপাশি এদিন ৫৪ রান করেন ইশান কিশান। ভারত তোলে ২৫৫ রান। আর জবাবে এত বিরাট টার্গেটের সামনে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। কিউয়িদের সাফল্যের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ান আমেদাবাদের ঘরের ছেলে অক্ষর প্যাটেল ও যশপ্রীত বুমরাহ। বুমরাহ নেন ৪ উইকেট, অক্ষর ৩ উইকেট। মাত্র ১৫৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ৯৬ রানে জিতে বিশ্বসেরা ভারত। ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা যশপ্রীত বুমরাহ। অবিশ্বাস্য বোলিং উপহার দিয়ে একের পর এক ম্যাচে দলের সাফল্যের প্রধান নায়ক হয়ে উঠেছেন বুম-বুম-বুমরাহ। গোটা বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচ খেলে ১৪ টা উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট জয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন বুমরাহ। অন্যদিকে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৯ ম্যাচে ১৪ টা উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী।

সবমিলিয়ে আমেদাবাদের মাটিতে তৃতীয়বারের জন্য টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে দেশের বিজয় পতাকা তুলে উচ্ছ্বসিত গৌতম গম্ভীরের দল। আবেগে-উচ্ছ্বাসে ভাসল গোটা স্টেডিয়াম। এযেন দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। দেশজুড়ে উৎসবের মেজাজ। আর ট্রফি নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মাতলেন টিম ইন্ডিয়ার বিশ্বজয়ীরা। আনন্দ অশ্রু যেন বাগ মানছিল না! আর হবে নাইবা কেন! একের পর এক ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবশেষে বিশ্বজয়। এই সাফল্যে আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও অনুপ্রেরণা যোগাবে তা বলা যেতেই পারে। আর ময়দান আপডেট পরিবারের পক্ষ থেকেও রইল ভারতীয় দলের জন্য একরাশ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
