সৌরভ রায় ও সোনালি চ্যাটার্জী, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আইএসএলে পর-পর চার ম্যাচে হেরে শনিবার যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে এদিন খেলতে নামে কেরালা ব্লাস্টার্স। অন্যদিকে শেষ দুই ম্যাচে জামশেদপুরের কাছে হার এবং গোয়ার বিরুদ্ধে ড্র করে এদিন জয়ে ফেরার খোঁজে লড়াইয়ে নামে অস্কার ব্রুজোঁর দল। ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে এদিন শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। উল্লেখ্য এদিন চোট সারিয়ে লাল-হলুদের অধিনায়ক হিসাবে দলে ফেরেন সাউল ক্রেসপো। তবে এদিন দলে রাখা হয়নি অ্য়ান্টন সোজবার্গকে। আর ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক মেজাজে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। ৮ মিনিটে রশিদের বাড়ানো বলে এডমুন্ড শট নেন, ইউসুফ হিজ্জেজারিকে পেনাল্টি বক্সে ফাউল করেন কেরালার ২৭ নম্বর জার্সিধারি ফুটবলার আইবান। ফলে পেনাল্টির সুযোগ পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ১০ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন ইউসুফ হিজ্জেজারি। ফলাফল হয়ে যায় ১-০। একইসঙ্গে চলতি আইএসএলে নিজের পঞ্চম গোল তুলে নিলেন হিজ্জেজারি। প্রথম দুই ম্যাচে ২ টি করে গোল করেছিলেন তিনি। তবে খেলার ১৮ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন সাউল ক্রেসপো।

এরপর দেখা যায় কেরালার ফ্রান্সের বিদেশী ফুটবলার কেভিন ইয়োকে বেশ কয়েকটা গোলের সুযোগ তৈরি করে কিছুটা চাপ বাড়ানোর কৌশল নেন। যদিও গোল আসেনি। পাশাপাশি দেখা যায় প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে কেরালার সেনেগালের বিদেশী ফুটবলার ফালাউ একদম পোস্টের সামনে থেকে একটা সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথমার্ধের একদম শেষে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন মহম্মদ রশিদ। ফলে খেলার প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে আবারও কিছুটা আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ৫২ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন হিজ্জেজারি। তবে এরপরই প্রথম পরিবর্তন করা হয় ইস্টবেঙ্গলের। অধিনায়ক সাউল ক্রেসপোকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় অধিনায়ক হিসাবে শৌভিক চক্রবর্তীকে। ৬৫ মিনিটে এডমুন্ডের জায়গায় মাঠে আসেন জয় গুপ্তা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও, কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন কেরালার ফুটবলাররা। তবে মিগুয়েলের কর্ণারে দূরপাল্লার একটা ভালো শট নেন মহম্মদ রশিদ। যদিও পোস্টের গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বল। ৮২ মিনিটে বিপিনকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় নাওরেম মাহেশ সিংকে।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে অনেকটাই ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলকে। সেভাবে আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতেও ব্যর্থ হন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। বরং অনেকটাই আক্রমণাত্বক মেজাজে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় কেরালা। খেলার ৮৫ মিনিটে কেরালার ফুটবলার ফালাউ ও ইস্টবেঙ্গলের মিগুয়েল বচসা থেকে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে রেফারি হলুদ কার্ড দেখান ফালাউকে। তবে গোটা ম্যাচ জুড়ে এদিন ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখে মনে হল কেবলমাত্র শুরুতে পেনাল্টিতে গোল পেয়ে, ৩ পয়েন্ট পেয়েই খুশি কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। কারণ আর সেভাবে আক্রমণের প্রচেষ্টাও দেখা গেল না লাল-হলুদ ফুটবলারদের মধ্যে। তবে খেলার শেষ দিকে ৯৪ মিনিটে কেরালার ফুটবলার মহম্মদ আজসাল হেডে গোল করে খেলায় সমতা ফেরান। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-১। ফলে কেরালার বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট পাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল ইস্টবেঙ্গলের। এদিন ১ পয়েন্ট নিয়েই আবারও মাঠ ছাড়তে হল লাল-হলুদ বাহিনীকে। যদিও ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ম্যাচের পর তৃতীয় স্থানে থাকল ইস্টবেঙ্গল।
