সৌরভ রায়, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আইএসএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে নিজেদের ঘরের মাঠে ৩-৩ গোলে ড্র করে ইস্টবেঙ্গল। আর ওই ম্যাচে রেফারির ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ লাল-হলুদ কোচ অস্কার সহ দলের সমর্থক ও কর্মকর্তারা। সেই ম্যাচে রেফারি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বার করে দেন দলের তারকা বিদেশী মিগুয়েলকে। পাশাপাশি মাঠ ছাড়ার সময় মিগুয়েল মাথা গরম করে প্রতিপক্ষ দলের বেঞ্চের দিকে লাথি মেরে বল পাঠিয়ে দেন। সেই ঘটনার জেরে মিগুয়েলকে প্রথমে ৩ ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন। তবে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে শাস্তি তুলে নেওয়ার আর্জি জানানোয়, শেষ পর্যন্ত মিগুয়েলকে ২ ম্যাচ সাসপেন্ড এবং ৪০ হাজার টাকা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে জরিমানা করল ফেডারেশন। ফলে আগামী ২৮ তারিখ গোয়ার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওড়িশা এফসি ও মুম্বই সিটি এফসির ম্যাচে দেখা যাবে না মিগুয়েলকে। তার জেরে হতাশ লাল-হলুদ সমর্থকরা।

মিগুয়েলের সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। ওড়িশা ম্যাচে খেলতে নামার আগে শনিবার যুবভারতীতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন কোচ অস্কার ও দলের ডেনমার্কের বিদেশী ফুটবলার অ্যান্টন সোজবার্গ। এদিন অস্কার বলেন, রেফারির সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ভাবে মিগুয়েলকে সাসপেন্ড করা ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। তবে তিনি আশা করেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের আবেদন মেনে হয়তো শেষ পর্যন্ত ফেডারেশন লাল কার্ড প্রত্যাহার করবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচে বহিস্কার করা হল মিগুয়েলকে। ইস্টবেঙ্গল বর্তমানে ৮ ম্যাচ খেলে ৪ ম্যাচে জয়, ৩ ম্যাচ ড্র, একটি ম্যাচে হার। পয়েন্ট ১৫। ফলে পয়েন্ট টেবিলে ভালো জায়গায় শেষ করতে হলে আগামী দুটি ম্যাচে ওড়িশা ও মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের জয় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেই ক্ষেত্রে মিগুয়েলের অনুপস্থিতি দলের উপর চাপ তৈরি করবে তা নিশ্চিত। অন্যদিকে অস্কার বলেন, রশিদ ও আনোয়ারের হালকা চোট রয়েছে। তবে তারা ওড়িশা ম্যাচে সম্ভবত খেলতে পারবেন। একমাত্র মাহেশ চোটের জন্য মরসুম থেকে ছিটকে গিয়েছেন। এদিন যুবভারতীতে অনুশীলনে ইস্টবেঙ্গলের গোটা দলকেই বেশ চনমনে মেজাজে দেখা গেল।

শেষ ম্যাচে লাল-হলুদ জার্সিতে প্রথম গোল করেছেন অ্যান্টন সোজবার্গ। ফলে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাল অ্যান্টনকে। তিনি বলেন, তাঁর প্রিয় পজিশন মাঝ মাঠ। তবে কোচ স্ট্রাইকার হিসাবে খেলতে বললে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। দলকে গোল উপহার দেওয়া এবং জয় এনে দেওয়ায় তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। ওড়িশা ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পেতে যে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল, তা এদিন স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন অস্কার। সবমিলে এখন দেখার ২৮ তারিখ গোয়ার মাটিতে কতটা সাফল্য দেখাতে পারে লাল-হলুদ বাহিনী।
তবে মিগুয়েলের সাসপেন্ডের ঘটনায় তীব্র ফেডারেশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার। তিনি বলেন, ইস্টবেঙ্গল এই মরসুমে ভালো অবস্থানে আছে, তাই বেছে বেছে ইস্টবেঙ্গলকে টার্গেট করছে ফেডারেশনের রেফারিরা। প্রত্যেক মরসুমে ইস্টবেঙ্গলকে বিপাকে ফেলার প্রচেষ্টা করা হয়। অথচ অন্য দলের ক্ষেত্রে মাঠে একহাঁটু জলেও ফুটবল খেলা চালিয়ে যান রেফারি জেতানোর জন্য। আর ইস্টবেঙ্গলকে পরিকল্পনা করে সমস্যায় ফেলা হয়।
