সৌরভ রায়, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আইএসএলে এবার লিগ জয়ের অনেকটাই সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল এফসি। এই প্রথমবার লিগ জয়ের সুযোগ রয়েছে লাল-হলুদ বাহিনীর জন্য। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে পরের তিনটি ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট পেতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের একদম শীর্ষে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। দ্বিতীয় স্থানে ২১ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান। সোমবার যুবভারতীতে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ইস্টবেঙ্গল। আর মঙ্গলবার ইন্টারকাশির বিরুদ্ধে ম্যাচ মোহনবাগানের। তার পরেই দুই দল ডার্বিতে মুখোমুখি হবে। ফলে ডার্বির আগে দুই প্রধানেরই লক্ষ্য থাকবে ম্যাচ জিতে ৩ পয়েন্ট ঘরে তোলা। তবে ইস্টবেঙ্গলের লড়াইটা পঞ্জাবের বিরুদ্ধে মোটেও সহজ নয়। কারণ এই মরসুমে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে পঞ্জাবের দল। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে সেই কথাই জানান ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। তিনি বলেন, পঞ্জাবের দলের অভিজ্ঞ কোচের পাশাপাশি রয়েছে একাধিক সিনিয়র তারকা ফুটবলার। পাশাপাশি তাদের দলে তিনজন ভালো বিদেশী রয়েছে। পঞ্জাবের দুই উইং ও মাঝ মাঠ যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে ভালো ম্যাচ হবে। যদিও সমর্থকদের উপস্থিতি ইস্টবেঙ্গলকে জয়ের বিষয়ে ভরসা যোগাবে বলে মনে করেন অস্কার। ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ কেমন হতে পারে সেই প্রসঙ্গে কোচ জানান, প্রতিপক্ষ দলের শক্তি বিচার করেই দল সাজাতে হয়। প্রত্যেক ম্যাচের আলাদা পরিকল্পনা থাকে। সেক্ষেত্রে পঞ্জাব ম্যাচে কেমন একাদশ হবে তা ম্যাচের আগে চূড়ান্ত করা হবে।

অন্যদিকে পঞ্জাব এফসির কোচ বলেন, তিনি ইস্টবেঙ্গলের শেষ কয়েকটা ম্যাচের খেলা দেখেছেন। ইস্টবেঙ্গল অনেক বেশি আক্রমণাত্বক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। ফলে তাদের ডিফেন্সকে শক্তিশালী করতে হবে। অন্যান্য ম্যাচের থেকে এই ম্যাচটা সম্পূর্ণ আলাদা রকম কিছু হতে পারে বলে জানান পঞ্জাবের কোচ। তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের উপস্থিতিতে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে লড়াই দেওয়ার জন্য যে তারা প্রস্তুত তা স্পষ্ট করে দেন পঞ্জাব দলের হেডস্যার।

পাশাপাশি উল্লেখ্য, পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচে খেলতে নামার আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে কার্যত বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। তিনি ইতিমধ্যেই লিগের মাঝপথে ঘোষণা করেছেন যে ৩১ মে এর পর তিনি ইস্টবেঙ্গল কোচের পদে থাকবেন না। মুম্বই ম্যাচের আগেই জানিয়েছেন ইস্তফার কথা। যখন এবার দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে রয়েছে, ভালো সাফল্যে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল, তখন কোচের আচমকা ইস্তফার খবরে চাঞ্চল্য ছড়ায় ময়দানে। এই ঘোষণা তিনি লিগের শেষেও করতে পারতেন! গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচের আগে অস্কারের ইস্তফার ঘোষণা নিয়ে সমালোচনায় সরব হন অনেক প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররাই। কারণ তাদের মতে এরফলে দলের ড্রেসিং রুমে এবং খেলায় প্রভাব পড়তে পারে। এরপর মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুম্বইয়ের মাঠে ২-১ গোলে জিতে ঘরে ফেরে ইস্টবেঙ্গল দল। সোমবার প্রতিপক্ষ পঞ্জাব এফসি। এই ম্যাচে জয় পেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল।

অথচ রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলারের বিরুদ্ধে নাম করে তীব্র আক্রমণ শানালেন অস্কার। তিনি বলেন, ” সন্দীপ নন্দী, রহিম নবি ও অ্যালভিটো ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্য ক্ষতিকর! এরা ক্লাবের সঙ্গে থাকলে ক্যান্সারের মতো দলের পরিবেশ খারাপ হয়ে যাবে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এই তিনজন ছাড়াও আরও কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা দলের ভালো চায় না।” বিস্ফোরক অভিযোগ ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর। আর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, এই মরসুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার কোচের পদে দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার সন্দীপ নন্দী। তবে লিগের মাঝপথেই অস্কারের সঙ্গে বিরোধ চরমে পৌঁছানোর কারণে সন্দীপ নন্দী ইস্টবেঙ্গল থেকে হঠাৎ করেই ইস্তফা দিয়ে বেরিয়ে যান। তারপর সন্দীপ নন্দী অভিযোগ করেছিলেন, অস্কার তাঁর মতো একজন সিনিয়র ফুটবলারের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেছেন। যা বাংলার ফুটবলারদের অপমান। এই ঘটনার পর কেটে গেছে বেশ কয়েক মাস। তবে মুম্বই ম্যাচের আগে অস্কারের ইস্তফা ঘোষণার খবরে কিছু সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সন্দীপ নন্দী, রহিম নবি ও অ্যালভিটো। আর রবিবার সেই প্রসঙ্গ টেনেই নাম করে তিন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলারকে কার্যত অপমান করলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। এরপর ময়দান আপডেটকে সন্দীপ নন্দী জানান, “অস্কার ফুটবল কোচিং ছেড়ে দিয়ে ক্যান্সার চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ হয়ে যেতে পারেন! কারণ ক্যান্সারের বিষয়ে এত যখন জ্ঞান তাঁর। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সাফল্যের ইতিহাস সম্পর্কে জানেন না বলেই এসব বলছেন।” পাশাপাশি নবি আমাদের জানান, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে এখনও কোনও ট্রফি দিতে পারেননি অস্কার। আগে একটা ট্রফি দিয়ে দেখাক, তারপর কথা বলবে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অতীত ইতিহাস এবং সাফল্যের বিষয়ে জানলে তাঁদের মতো ফুটবলারদের অপমান করতেন না অস্কার। ”
