প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: দক্ষিণ এশিয়ার মহিলা ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ‘সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’ এর সূচনা হতে চলেছে আগামী ২৫ মে। গোয়ার মারগাওয়ের ঐতিহ্যবাহী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে আগামী ৫ জুন পর্যন্ত চলবে এই ফুটবল মহোৎসব। এবারের টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ ভারত। ঘরের মাঠে ট্রফি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নামবে ভারতীয় দল, অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ চাইবে তাদের মুকুট ধরে রাখতে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। ভারতে খেলা হওয়ার কারণে টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে পাকিস্তানকে ছাড়াই মাঠে গড়াচ্ছে এবারের আসর।

সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে বরাবরের মতোই আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে ভারত। এই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া সাতটি আসরের মধ্যে পাঁচটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে শক্তির ভারসাম্য অনেকটাই বদলেছে। গত দুটি আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতেছে বাংলাদেশ। ফলে বর্তমান ‘ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে বাংলাদেশে নামছে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখার বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে। অপরদিকে ভারতকে গত আসরে নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।

‘এ’ গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল নেপাল (ফিফা র্যাঙ্কিং ৮৭), শ্রীলঙ্কা (র্যাঙ্কিং ১৬২) এবং ভুটান (র্যাঙ্কিং ১৬৪)। র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে এই গ্রুপে নেপাল স্পষ্ট ফেভারিট হলেও শ্রীলঙ্কা ও ভুটান চমক দেখাতে প্রস্তুত। অপরদিকে, ‘বি’ গ্রুপ বলা চলে টুর্নামেন্টের ‘গ্রুপ অফ ডেথ’। এখানে রয়েছে আয়োজক ও পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত (র্যাঙ্কিং ৬৯), শেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ (র্যাঙ্কিং ১১২) এবং মালদ্বীপ (র্যাঙ্কিং ১৬৭)। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার লড়াইটি এই গ্রুপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে চলেছে। ২৫ মে বিকেল ৪:৩০ টেয় নেপাল মুখোমুখি হবে ভুটানের এবং অপরদিকে, সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় ভারত বনাম মালদ্বীপ ম্যাচ। ২৮ মে, বিকেল ৪:৩০ টেয় শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে ভুটানের এবং সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় মালদ্বীপ বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ গ্রুপপর্বের অন্তিম ম্যাচে, ৩১ মে বিকেল ৪:৩০ টেয় নেপাল মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার এবং অপরদিকে, সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় ভারত মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের।
গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল পৌঁছাবে সেমিফাইনালে। ৩ জুন হবে ফাইনালের টিকিট পাওয়ার আসল লড়াই। ৩ জুন প্রথম সেমিফাইনালে বিকাল ৪ টেয় ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ এবং একইদিনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রাত ৮ টায়, ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন বনাম ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ। ৫ জুন সন্ধ্যা ৬:৩০ টা থেকে হতে চলেছে মেগা ফাইনাল।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে। এবারের সাফে মূল লড়াইটা যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ঘরের মাঠের দর্শক সমর্থন এবং র্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা নিয়ে ভারত চাইবে ষষ্ঠবারের মতো ট্রফি নিজেদের ক্যাবিনেটে তুলতে। শেষবার ২০১৬ সালে যখন শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের আসর বসেছিল সেইবারেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ চাইবে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে। তবে অপর গ্রুপ থেকে নেপালকেও কোনো ভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ তারা সাতটির মধ্যেই ছয়টি আসরেই ফাইনালে পৌঁছেছে এবং একটি আসরে সেমিফাইনালে পরাজিত হয়েছিলো। সব মিলিয়ে গোয়ায় আগামী ২৫ মে থেকে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের যে রোমাঞ্চকর যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে, তার দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছে ফুটবল সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের রানীর মুকুট, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
