ময়দান আপডেট: বিশ্বকাপের মেগা কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের বর্তমান অন্যতম সেরা দল ইংল্যান্ড এবং ইউরোপের উদীয়মান দল নরওয়ে। সেমি-ফাইনালে ওঠার এই মরণপণ লড়াইয়ে মাঠের যুদ্ধ যেমন জমবে, তেমনি জমে উঠবে দুই দলের রণকৌশলও।

থ্রি লায়ন্সদের মূল চালিকাশক্তি তাদের মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং চমৎকার উইং প্লে। আক্রমণ ও রক্ষণে দারুণ ভারসাম্য থাকায় টুর্নামেন্টে তারা বেশ ছন্দে রয়েছে। থ্রি লায়ন্সদের লক্ষ্য থাকবে শুরু থেকেই হাই-প্রেস করে ম্যাচের রাশ নিজেদের পায়ে রাখা। নরওয়ের মূল শক্তি তাদের নিখুঁত ট্যাকটিকস এবং কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল। ক্ষিপ্র গতি ও শারীরিক ফুটবল খেলে তারা প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে ওস্তাদ। ইংল্যান্ডের ডিফেন্সের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে গোল বের করাই হবে তাদের মূল প্ল্যান।মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করা এবং গোল করানোর মূল দায়িত্ব থাকবে হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকা ও জুড বেলিংহামদের ওপর। পুরো স্পটলাইটে থাকবেন নরওয়ের বিশ্বসেরা গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং মাঝমাঠের ক্রাফটসম্যান মার্টিন ওডেগার্ড। ইংলিশ ডিফেন্ডারদের জন্য হালান্ডকে বোতলবন্দি করে রাখাটাই হবে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। এই বাঁচামরার নকআউট ম্যাচে সামান্যতম ভুলেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে। ফলে চাপের মুখে যারা ঠান্ডা মাথায় সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে, তারাই শেষ চারের টিকিট বুক করবে।

অন্যদিকে রবিবার ভোরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মেগা ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের সুশৃঙ্খল দল সুইজারল্যান্ড। সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ বনাম সুইস ডিফেন্সের এক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ দেখতে পাবেন ফুটবলপ্রেমীরা। আলবিসেলেস্তেদের মূল শক্তি তাদের ঐতিহ্যবাহী পজিশনাল ফুটবল এবং ছোট ছোট পাসের অসাধারণ কম্বিনেশন। মাঝমাঠের রাশ নিজেদের পায়ে রেখে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সুইস রক্ষণ ভাঙাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।

সুইসদের মূল শক্তি হলো তাদের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ এবং জমাট ট্যাকটিকাল ডিসিপ্লিন। যেকোনো বড়ো দলের আক্রমণকে ‘বাস পার্ক’ করে আটকে দিতে তারা ওস্তাদ। এই ম্যাচেও তারা ডিফেন্স সলিড রেখে ক্ষিপ্র কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে গোল চুরির ছক কষবে। যথারীতি পুরো ফুটবল বিশ্বের স্পটলাইটে থাকবেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সুইস দেয়াল ভাঙতে তাঁর দূরদর্শিতা ও জাদুকরী পাসিং আর্জেন্টিনার প্রধান অস্ত্র। তাঁর সাথে আক্রমণে থাকবেন হুলিয়ান আলভারেজ। এবং সুইজারল্যান্ডের মাঝমাঠ ও আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি তাদের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও গোলরক্ষক। রক্ষণের নেতৃত্ব সামলানোর পাশাপাশি কাউন্টার-অ্যাটাকে লাতিন ডিফেন্সে ফাটল ধরানোর দায়িত্ব থাকবে তাদের উইঙ্গারদের কাঁধে। খাতা-কলমে আর্জেন্টিনা ফেবারিট হলেও সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্স ভাঙা অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষা। নকআউটের এই মঞ্চে সামান্যতম ভুলও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ডেকে আনতে পারে, তাই স্নায়ু ধরে রাখাই হবে জয়ের আসল চাবিকাঠি।
বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, শেষ চারে প্রতিপক্ষ ফ্রান্স
