প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : কলকাতা লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে সোমবার বারাসত স্টেডিয়ামে আয়োজিত লিগের ডার্বি ম্যাচটি এক অভূতপূর্ব ও ব্যাতিক্রমী আবহের জন্ম দিয়েছে। কারণ দুইটি প্রধান দলই আগেই গ্রুপ লিগ থেকে সুপার সিক্সে তাদের স্থান সুনিশ্চিত করে ফেলায়,এই ম্যাচের ফলাফল চ্যাম্পিয়নশিপের অঙ্কে কিংবা ট্রফি জয়ের দৌড়ে সামান্যতম প্রভাব ফেলবে না।
আইএফএর নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ লিগের পয়েন্ট সুপার সিক্সে ‘ক্যারি ফরোয়ার্ড’ না হওয়ায় এবং ‘এ’ গ্রুপের সেরা তিন দল ভবানীপুর, ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান, শুধুমাত্র ‘বি’ গ্রুপ থেকে উঠে আসা কোল ইন্ডিয়া, মহামেডান ও ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে তিনটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ায়, সুপার সিক্সে নতুন করে কোনো ডার্বি অনুষ্ঠিত হবে না। সোমবারে জেতা বা হারার প্রাপ্তি শূন্যেই মিলিয়ে যাবে। তবুও অর্চিস্মান বিশ্বাসের প্রশিক্ষণাধীন লাল-হলুদ ব্রিগেডের সামনে একমাত্র মোটিভেশন হলো গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবানীপুরকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে ওঠা।
অন্যদিকে বাস্তব রায়ের মোহনবাগান জিতলেও তারা লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থানই ধরে রাখবে। এই বছরের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ইস্টবেঙ্গল ১০টি ম্যাচে ৮টি জয় ও ২টিতে ড্র করে ২৬টি গোল করেছে, মাত্র ৬টি গোল হজম করেছে এবং তাদের সেরা জয় এসেছে বিধাননগর ও পাঠচক্রের বিরুদ্ধে ৫-১ ব্যবধানে, যেখানে ৭টি গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা আকাশ হেমব্রম। বিপরীতে মোহনবাগান ১০ খেলায় ৭টি জয়, ১টি ড্র ও ২টি হারের মুখ দেখে ২৫টি গোল দেওয়ার পাশাপাশি ৫টি গোল কনসিড করেছে, এবং সুহেল আহমেদ ভাট ৮টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে রয়েছেন মোহনবাগান দলের। অপরদিকে তমলুক খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফকে ৬-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের বড়ো জয় নথিভুক্ত করেছে।
ডার্বির আবহ মানেই যে অদৃশ্য চাপ বজায় থাকে, তা প্রশমিত করতে দুই ডাগআউটের কৌশলও অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে; মোহনবাগানের প্রধান কোচ প্যানোস তাঁর আইএসএল স্কোয়াডের সমস্ত দেশীয় তারকাকে লিগ টিমে নথিভুক্ত রেখে একসঙ্গে অনুশীলন করালেও, বাস্তব রায়কে ঠিক কতজনকে দেওয়া হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। অপরদিকে ইস্টবেঙ্গলের চিফ কোচ হাবাস সিনিয়রদের ছাড়তে নারাজ হলেও, সৌভিক চক্রবর্তী, বরিস সিং, ডেভিড, এডমুন্ড, রোহিত দানু ও সন্দীপ মান্ডিকে এই স্কোয়াডে নথিভুক্ত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সর্বমোট ৪১০টি মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে ইস্টবেঙ্গলের ১৪৫টি জয়ের বিপরীতে মোহনবাগানের জয় ১৩৫টি এবং ড্র হয়েছে ১৩০টি ম্যাচে; যদিও সাম্প্রতিক শেষ পাঁচটি ডার্বিতে মোহনবাগান দুটিতে জিতলেও এবং দুটি অমীমাংসিত থাকলেও, সর্বশেষ কলকাতা লিগের মুখোমুখি সাক্ষাতে ইস্টবেঙ্গল ৩-২ গোলে এবং ডুরান্ড কাপের ফাইনালের শেষ ডার্বিতে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে সবুজ-মেরুনকে পরাস্ত করেছিল। পয়েন্টের অঙ্কে সোমবারে কোনো লাভ-ক্ষতি না থাকলেও এবং দুই প্রধান পুরোপুরি ভারমুক্ত ও ফুরফুরে মেজাজে মাঠে নামলেও, ডার্বির চিরন্তন আভিজাত্য, জার্সির সম্মান ও সমর্থকদের আবেগের কারণে বারাসতের সবুজ গালিচায় এক কড়া টেকটিক্যাল লড়াই দেখতে মুখিয়ে রয়েছে ফুটবলপ্রেমী জনতা।
