Sunday, March 1, 2026
Homeময়দানে প্রতিভার সন্ধানেচন্দ্রহাসের ত্রিশতরানে মুগ্ধ বঙ্গ ক্রিকেট, কোহলি ভক্ত চন্দ্রের স্বপ্ন টিম ইন্ডিয়া

চন্দ্রহাসের ত্রিশতরানে মুগ্ধ বঙ্গ ক্রিকেট, কোহলি ভক্ত চন্দ্রের স্বপ্ন টিম ইন্ডিয়া

কোহলি ভক্ত চন্দ্রের স্বপ্ন টিম ইন্ডিয়া

সৌরভ রায়- প্রতিনিধি 

ময়দান আপডেট: সদ্য ১৯ বছরের তরুণ বঙ্গতনয় চন্দ্রহাসের সাফল্যে মুগ্ধ কোচ সৌরাশিস লাহিড়ি থেকে শুরু করে বাংলার ক্রিকেট প্রেমীরা। কোচবিহার ট্রফিতে অপ্রতিরোধ্য বাংলা। অসমের পর এবার চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধেও ইনিংস জয় নিশ্চিত করল সৌরাশিস লাহিড়ীর প্রশিক্ষণাধীন দল। আর এই সাফল্যের নেপথ্যে কারিগর নিউটাউনের তরুণ প্রতিভা চন্দ্রহাস দাশ। একাই করলেন ৩১৯ বলে ৩৩২ রান। অনুর্ধ্ব-১৯ কোচবিহার ট্রফিতে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়ে সবার শীর্ষে নিজের নাম তুলে এনেছে চন্দ্র। আর তাঁকে এই সাফল্যের ইনিংস গড়তে ভরসা যুগিয়েছে সায়ন পাল, তিনি করেন ১৫৩ বলে ১১৩ রান। পাশাপাশি চন্ডিগড়ের বিরুদ্ধে বাংলাকে জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা পালন করে বল হাতে রোহিত ও অগস্ত্যর।অগস্ত্য শুক্লা সাতটি মেডেন-সহ ১৮ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। রোহিত ১টি মেডেন-সহ ১০.২ ওভারে ৮৩ রানের বিনিময়ে পান চার উইকেট। বিরাট চৌহান ৬ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট দখল করেন।

আর আমরা ‘ময়দান আপডেট’ চ্যানেলের পক্ষ থেকে পৌঁছে গিয়েছিলেন অনবদ্য ত্রিশতরান করা বাংলার উঠতি প্রতিভা কোহলি ভক্ত চন্দ্রহাসের নিউটাউনের বাড়িতে। একান্ত সাক্ষাৎকারে চন্দ্রহাস বলেন,

প্রশ্ন ১, এদিন চন্ডিগড়ের বিরুদ্ধে যখন ৫০,১০০,১৫০ করে একটা করে সিঁড়ি ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছিলে মনের মধ্যে কি চলছিল ?

চন্দ্রহাস- না মনের মধ্যে তেমন কিছু ছিল না। সায়ন পাল আমাকে অনেক হেল্ফ করছিল। আমরা একসঙ্গে অনেকক্ষণ ব্যাট করেছি। তখন কোনও মাইলস্টোন নিয়ে ভাবিনি। বল টু বল খেলছিলাম।

প্রশ্ন ২, তুমি বললে সায়নের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েছিলে। যখন ক্রমশ বড় রানে এগুচ্ছিলে তখন সায়ন কি বলছিল ?

চন্দ্রহাস- স্যাররা বলিয়েছিল আমরা দীর্ঘসময় ব্যাট করব। ফলে আমরা লম্বা ইনিংস খেলার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সায়ন এবং আমি দুজনেই দুইজনকে হেল্ফ করি। যেটা অনেক কাজে লেগেছে।

প্রশ্ন ৩, এখনকার দিনে টেস্ট ক্রিকেটে ক্রিকেটাররা দীর্ঘসময় ব্যাট করার ধৈয্য ধরে রাখতে পারে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তোমরা একক্ষণ ব্যাট করার মতো ধৈয্য কী ভাবে দেখাতে পারলে ? এটাতে কোথাও কি যোগা-মেডিটেশন, মনস্থির করতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

চন্দ্রহাস- ৩০০ বল খেলব তেমন কোনও ভাবনা ছিল না। কিন্তু স্টেপ বাই স্টেপ এগিয়েছি। হ্যাঁ, যোগা-মেডিটেশন আমাকে অনেক সাহায্য করেছে মনস্থির করতে।

প্রশ্ন ৪, সেদিন যখন ব্যাট করছিলে কোচ সৌরাশিস লাহিড়ি কি বলেছিলেন?

চন্দ্রহাস- কোচ আমাদের বলেছিলেন পজেটিভ মাইন্ড নিয়ে খেলতে এবং খেলা শেষ হওয়ার পর কোচ সহ টিমের সদস্য এবং পরিবারের সদস্যরা সবাই খুব খুশি। বিরাট কোহলির খেলার স্টাইল আমি অনেক ফলো করি। এই সাফল্য পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অনেক সাহায্য করবে।

প্রশ্ন ৫, একটা কথা বলো তোমার ছোটবেলায় প্রথম হাতে ব্যাট ধরেছিলে কত বছর বয়সে এবং কি ভাবে খেলা শুরু করেছিলে ?

চন্দ্রহাস- ৬-৭ বছর বয়সে প্রথম এই পাড়ার ছেলেদের সঙ্গেই ব্যাট করতাম। তখন ক্রিকেটার হতো এতোকিছু ভাবিনি। তারপর ৮ বছর বয়সে ভিডিওকনে প্রথম ক্রিকেট শেখার জন্য ভর্তি হয়েছিলাম। আমার প্রথম কোচ ছিলেন কাঞ্চন স্যার ও রাজীব স্যার। ছোটবেলা থেকে এখনও ভিডিওকনেই খেলি।

প্রশ্ন ৬, কোন কোন ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট খেলেছো  ?

চন্দ্রহাস-সেকেন্ড ডিভিশন দুই বছর ইন্টারন্যাশেনাল ক্লাব। একবছর বালিগঞ্জ ইউনাইটেড ক্লাব। দুইবছর হল বড়িশা খেলছি।

প্রশ্ন ৭, এখন সবে ১৯ বছর বয়স অনেক সাখল্য দেখাতে হবে। ভবিষ্যতে পরিকল্পনা কি। কি ভাবে এগুতে চাও। অনেক ক্রিকেটারকে দেখা যায় অনুর্ধ্ব ১৯ খেলে সরাসরি সিনিয়র দলে সুযোগ পান। তোমার কি তেমন কোনও পরিকল্পনা আছে ?

চন্দ্রহাস- আগামী ম্যাচগুলোতেও ভালো খেলার চেষ্টা করব। তবে আমার অবশ্যই স্বপ্ন সিনিয়র দলে খেলার, রঞ্জি ট্রফি খেলার। বাংলাকে ম্যাচ জেতানোর। তবে অবশ্যই আমার জীবনের সবথেকে বড় লক্ষ্য একদিন ভারতীয় দলের জার্সি পড়া। ভারতকে সাফল্য এনে দেওয়া।

প্রশ্ন ৮, বিরাট কোহলি তোমার আইডল বললে কিন্তু বাংলার কোন ক্রিকেটাররা তোমার আইডল ?

চন্দ্রহাস- বাংলার মধ্যে মনোজ তিওয়ারির খেলা খুব ভালো লাগে। অনেক ফলো করেছি। সুদীপ ঘরামির খেলা খুব ভালো লাগে। সৌরাশিস স্যার অনের হেল্ফ করেছে।

প্রশ্ন ৯, আমি যতদূর জানি তুমি জয়দেব ভট্টাচার্যের ক্রিকেট দর্পণের হয়ে বহু ম্যাচ খেলেছো, অনেক সাফল্য পেয়েছো। সেই সম্পর্কে কি বলবে ?

চন্দ্রহাস- হ্যাঁ ছোটবেলায় দর্পণের হয়ে ১৩, ১৫ বছর বয়সে অনেক ভালো-ভালো ম্যাচ খেলতে পেরেছি। যা আমাকে আজ এই জায়গায় আসতে অনেক সাহায্য করেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular