Monday, March 2, 2026
Homeময়দানে প্রতিভার সন্ধানেগোলকিপার থেকে ডিফেন্ডার! ছোটদের এশিয়া কাপে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার নৈহাটির অভিষেকের

গোলকিপার থেকে ডিফেন্ডার! ছোটদের এশিয়া কাপে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার নৈহাটির অভিষেকের

অনুর্ধ্ব ১৭ এশিয়া কাপে দুর্দান্ত সাফল্য নৈহাটির অভিষেকের

সৌরভ রায়, প্রতিনিধি

ময়দান আপডেট: বয়স মাত্র ১৬, নবম শ্রেণীর এক ছাত্রই শক্তিশালী ইরানের আক্রমণ ভাগকে রুখে দিয়ে দেশের নাম উজ্জল করেছে। অনুর্ধ্ব ১৭ এশিয়া কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে ভারতের অনুর্ধ্ব ১৭ দল অবিশ্বাস্য সাফল্য প্রদর্শন করেছে। আমেদাবাদের মাটিতে ২-১ গোলে ইরানকে হারিয়ে দেশকে বাছাই পর্ব থেকে মূলপর্বে পৌঁছে দিয়েছে ছোটরা। আর সেই অনুর্ধ্ব ১৭ ভারতীয় দলে ছিলেন বাংলার দুই দামাল ছেলে। একজন মছলন্দপুরের গোলকিপার রাজরূপ সরকার ও অন্যজন নৈহাটির অভিষেক কুমার মণ্ডল। অভিষেক দলের ডিফেন্স সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন। সেই ম্যাচেই ইরানের বিরুদ্ধে ডেভিউ করে অভিষেক। ফলে নিজের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় নিজেকে প্রমাণ করার এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর কাছে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে যেটুকু সময় ভারতের দলের জার্সি গায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে নিজেকে উজাড় করে দেয় অভিষেক। ইরানের আক্রমণ ভাগকে রুখে দেয় নিজের ডিফেন্সের ম্যাজিকে। তাঁর খেলায় যথেষ্ট খুশি দলের কোচ থেকে সকলেই। কোচ বিবিয়ানো ম্যাচের পর বুকে জড়িয়ে ধরেন অভিষেককে। ফলে ২০২৬ সালে সৌদি আরবে আয়োজিত মূল পর্বের ম্যাচেও দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী নৈহাটির অভিষেক।

অভিষেক বর্তমানে মোহনবাগানের অনুর্ধ্ব ১৮ দলের হয়ে এআইএফএফ আয়োজিত যুব লিগে খেলছে। অর্থাৎ ডেগি কার্ডোজোর দলের সদস্য। তাঁর খেলায় যথেষ্ট খুশি কোচ ডেগি সহ দলের অন্যান্য কোচরা। অভিষেকের ছোট থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা। তবে পরিবারে আর্থিক অভাব-অনটন ও দারিদ্রতা থাকায় যথেষ্ট কষ্ট করে খেলা চালিয়ে যেতে হয়েছে। অভিষেকের বাবা পেশায় ট্রাক চালক। তাঁর প্রথম ফুটবল খেলা শুরু হয় ৬-৭ বছর বয়সে বিজয়নগর নবমিলন সংঘে যোগদান করে সেখানে তাঁর কোচ ছিলেন রানা স্যার ও সিতানু দাশ। তবে অভিষেক শুরুতে ছিল গোলকিপার। কিন্তু হঠাৎ হাত ভেঙে যাওয়ায় কোচের নির্দেশ মেনে গোলকিপার থেকে সে হয়ে ওঠে ডিফেন্ডার। জেলাস্তরে খেলার পাশাপাশি অনুর্ধ্ব ১৫ মোহনবাগান দলে ট্রায়াল দিয়ে সুযোগ পায় অভিষেক। সেখানে কোচ তনুময় বোসের নজরে পড়ে যায় অভিষেক। এরপর অনুর্ধ্ব ১৭ দলে যোগ দেয় সে। সেখানে কোচ ডেগি কার্ডোজো ও বিশ্বজিৎ ঘোষাল যথেষ্ট ভালোবাসে অভিষেককে। এরপর বিসি রায় অনুর্ধ্ব ১৬ দলে বাংলার হয়ে খেলে নৈহাটির এই প্রতিভাবান ফুটবলার অভিষেক মণ্ডল। আর এরপর ভারতের অনুর্ধ্ব ১৭ দলের কোচ বিবিয়ানো ফান্ডাজের নেতৃত্বে ট্রায়ালে ভালো খেলা উপহার দিয়ে ভারতীয় জাতীয় দলে সুযোগ করে নেয় অভিষেক। আর অভিষেক মণ্ডলের এবার স্বপ্ন আগামী দিনে ভারতীয় জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা, স্বপ্ন একদিন মোহনবাগানের হয়ে আইএসএল খেলা।

তবে অভিষেক মণ্ডলের এই সাফল্যের পিছনে কোচ,বাবা-মা পরিবারের পাশাপাশি বিশেষ অবদান রয়েছে তাঁর দাদা নীতীশ কুমার মণ্ডলের। দাদাই তাঁর অনুপ্রেরণা, ফুটবলের আইডল। দাদাই তাঁকে ভরসা যুগিয়েছিল যে লড়াই চালিয়ে যা, একদিন সাফল্য আসবে। ফলে সেই দাদার অবদানের কথা বলতে গিয়ে আমাদের ক্যামেরার সামনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে অভিষেক।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular