ময়দান আপডেট: আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে হার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের এল ক্লাসিকো বলে পরিচিত চেন্নাই সুপার কিংস বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ডুয়েল। দুই দলই অতীতে পাঁচবার করে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফলে এই দুই দলের লড়াই মানেই আইপিএলের অন্যতম হাইপ্রোফাইল ম্যাচ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। যদিও এবার চেন্নাই সুপার কিংসের অভিভাবক স্বরূপ কিংবদন্তি মাহি চোটের জন্য মাঠে না নামায় কিছুটা মন খারাপ সমর্থকদের। তবে ধোনি না থাকলে কি হবে! ধোনির জার্সি ভরে ইয়েলো আর্মিরা দেশের যে কোনও স্টেডিয়ামেই চেন্নাইয়ের ম্যাচে চেনা ছন্দে গ্যালারি ভরান। অপরদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অতীতে দেখা গেছে একাধিকবার শুরুতে পিছিয়ে পড়েও , আবারও কামব্যাক করে সাফল্যে প্রত্যাবর্তন করেছে। আর এবারও লিগ টেবিলের অনেকটাই শেষের দিকে হার্দিক পান্ডিয়ার দল। কিন্তু আদৌও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা সেই নিয়ে সংশয় বাড়ছে! তার কারণ ৭ ম্যাচ খেলে মাত্র দুটি জয়, ৫ টা হার। রোহিত শর্মা চোটের কারণে শেষ কয়েকটা ম্যাচ না থাকলেও, হার্দিকের দলে যেখানে সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মা, কুইন্টন ডি-কক, যশপ্রীত বুমরাহদের মতো একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকার পরেও একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থতা দলের সমর্থকদের হতাশ করছে। অন্যদিকে চেন্নাই তারা পিছিয়ে পড়লেও, ক্রমশ কামব্যাক করছে। বৃহস্পতিবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ১০৩ রানের রেকর্ড ব্যবধানে হারিয়ে লিগ টেবিলের ৫-নম্বরে উঠে এল চেন্নাই। তারা ৭ ম্যাচ খেলে ৩ টি জয়, ৪ ম্যাচে হার। পয়েন্ট ৬।

ধোনির অনুপস্থিতিতে উইকেটরক্ষক এবং যোগ্য ওপেনার ব্যাটারের ভূমিকা পালন করছেন ভারতীয় দলের তারকা ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। অবিশ্বাস্য ছন্দে ব্যাট করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে কার্যত ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন তিনি। ৫৪ বলে ১০১ রানের একটা ঝকঝকে অপরাজিত ইনিংস দলকে উপহার দেন স্যামসন। তাঁর সেঞ্চুরিতে ছিল ১০ টা চার ও ৬- টা ওভারবাউন্ডারি। দুর্দান্ত লড়াই করেন তিনি। তবে এদিন প্রথম ব্যাট করতে নামা চেন্নাইয়ের ইনিংসে আর কোনও ব্যাটার সেভাবে বড় রান যোগ করতে পারেননি। ১৪ বলে ২২ রান করেন অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড। ৭ বলে ১৫ রান স্কোর বোর্ডে যোগ করেন জেমি ওভারটন। চেন্নাই প্রথম ব্যাট করে তোলে ৬ উইকেটে ২০৭ রান। এদিন মুম্বইয়ের হয়ে ভালো বোলিং উপহার দেন আফগান ডানহাতি স্পিনার গাজারফর। তিনি লেগ এবং অফ স্পিন দুই রকমই করতে পারেন। ২০ বছর বয়সি এই আফগান স্পিনার এদিন ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। পাশাপাশি বুমরাহ ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।

আর জবাবে মুম্বই ব্যাট করতে নেমে কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। দাঁড়াতেই পারল না মুম্বইয়ের ব্যাটিংলাইন। এদিন চেন্নাইয়ের হয়ে বল হাতে কার্যত আগুন ঝরালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁ-হাতি স্পিনার আকিল হোসেন। টি-২০ ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে নিলেন ৪ টি উইকেট, পাশাপাশি একটি মেডেন ওভারও করেন। যা এককথায় অবিশ্বাস্য বোলিং! অন্যদিকে নূর আহমেদ ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ২ টি উইকেট। চেন্নাইয়ের বোলিংয়ের সামনে ১৯ ওভারে মাত্র ১০৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় মুম্বইয়ের গোটা ইনিংস। ১০৩ রানের রেকর্ড ব্যবধানে জয় লাভ করে চেন্নাই। এদিন মুম্বইয়ের ইনিংসের শুরুতেই ধস নামান আখিল হোসেন ও মুকেশ চৌধুরী। শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় মুম্বই। তবে মুম্বইয়ের ইনিংসে কিছুটা ভালো লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করেন সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মা। সূর্য-তিলকের যুগলবন্দিতে একটা সময় মনে হচ্ছিল হয়তো ম্যাচে কামব্যাক করতে পারবে মুম্বই। কিন্তু এই জুটি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও ঝড়ের গতিতে দ্রুর উইকেট হারাতে থাকে মুম্বই। সূর্যকুমার যাদব করেন ৩০ বলে ৩৫ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫ টা চার। তিলক বর্মা করেন ২৯ বলে ৩৭ রান। তিনি ৫ টি চার মারেন। তবে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়াকে এবারের আইপিএলে একদমই ছন্দে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এদিন মাত্র ১ রানেই আউট হয়ে ফিরে যান। এক ওভার বাকি থাকতেই জয় সুনিশ্চিত করে পয়েন্ট টেবিলে অনেকটাই উপরে উঠে আসল চেন্নাই। এই সাফল্যে তাদের আগামী ম্যাচগুলিতে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে আশা করা যেতেই পারে। এদিন ম্যাচের সেরা হন সঞ্জু স্যামসন। তবে মনে করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই ব্যাট হাতে ইয়েলো জার্সিতে আবারও মাঠে নামতে দেখা যাবে মাহিকে। সেই অপেক্ষাতেই সিএসকে সমর্থকরা। উল্লেখ্য চেন্নাইয়ের পরবর্তী ম্যাচ ২৬ তারিখ নিজেদের ঘরের মাঠে চিপকে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে মুম্বইয়ের পরবর্তী ম্যাচ ২৯ তারিখ নিজেদের মাঠে ওয়াংখেড়েতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে।
শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য, ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে বদলা নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ব্লু টাইগ্রেসদের
