ময়দান আপডেট: আইএসএলে শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে ব্যাঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ৩-৩ গোলে ড্র করে ইস্টবেঙ্গল এফসি। লাল কার্ড দেখেন মিগুয়েল। পাশাপাশি ফেডারেশনের শাস্তির মুখে পড়ায় তাঁকে ২ ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। ফলে শেষ ম্যাচে রেফারির ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ সহ ক্লাবের কর্মকর্তারা। আর মঙ্গলবার আইএসএলে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে লাল-হলুদ বাহিনী তারা খেলতে নামে গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে। রাজ্যে ভোটের কারণে এই ম্যাচ গোয়াতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ৮ ম্যাচ খেলে ৪ ম্যাচে জয়, ৩ ম্যাচ ড্র ও একটি ম্যাচ হেরে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ৬-নম্বরে থেকে খেলতে নামে। মিগুয়েল না থাকার পাশাপাশি রশিদ ও আনোয়ারের হালকা ইনজুরি থাকার কারণে, এদিন অস্কার প্রথম একাদশ সাজান বিষ্ণু, এডমুন্ড ও অ্যান্টন সোজবার্গ এই তিন ফরোয়ার্ডে। রশিদ ও আনোয়ারের পাশাপাশি ইউসুফ হিজ্জেজারিকে রাখা হয় রিজার্ভে।

এদিন খেলার প্রথমার্ধে শুরুতেই ৩ মিনিটে এডমুন্ড একটা গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ১০ মিনিটে পোস্টের সামনে থাকলেও বিষ্ণু অল্পের জন্য সুযোগ নষ্ট করেন। তবে খেলার ১১ মিনিটে বিষ্ণুর অ্যাসিস্টে একটা দুর্দান্ত গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন বিপিন সিং। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-০। ২০ মিনিটে নন্দকুমার শেখর হেডে একটি গোলের সুযোগ এসে গেলেও, সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ২২ মিনিটে বিপিনের বাড়ানো বলে সুযোগ নষ্ট করেন বিষ্ণু। তবে খেলার প্রথমার্ধের শুরু থেকেই ঘন-ঘন আক্রমণে উঠতে থাকে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। তবে বেশ কয়েকটা সুযোগ নষ্টও করেন দলের ফুটবলাররা। ২৮ মিনিটে অ্যান্টন সোজবার্গকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখান হয় ওড়িশা এফসির ফুটবলার হিতেশ শর্মাকে। ৪০ মিনিয়ে ওড়িশা এফসির হয়ে সুযোগ নষ্ট করেন রহিম আলি। ৪৪ মিনিটে আবারও একটা গোলের সুযোগ তৈরি করেন রহিম আলি, তবে সে ভাবে কার্যকরী হয়নি শটটা। ৪৫ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন সাউল ক্রেসপো। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে নন্দাকুমারকে ফাউল করায় থৈবাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন বিষ্ণু। ফলে প্রথমার্ধ জুড়ে অনেকটাই ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে দেখা গেল ওড়িশা এফসিকে। তার ফলে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে ইস্টবেঙ্গল।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ৫২ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন শৌভিক চক্রবর্তী। ৫৬ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন ইস্টবেঙ্গলের। শৌভিকের জায়গায় মাঠে নামেন মহম্মদ রশিদ। নন্দার জায়গায় নামেন জয় গুপ্তা। ৬২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের পোস্ট লক্ষ্য করে দুর্দান্ত শট নেন রহিম আলি। ফলে গোলের সুযোগ তৈরি করে ওড়িশা এফসি। তবে অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বল বেরিয়ে যায়। তবে এদিন ওড়িশা এফসির গোলরক্ষক অনুজ বেশ নজরকাড়া একাধিক গোল রুখে দেন। ৬৬ মিনিটে আবারও জোড়া পরিবর্তন ইস্টবেঙ্গলের। অ্যান্টন সোজবার্গের জায়গায় মাঠে নামেন ইউসুফ হিজ্জেজারি, এডমুন্ডের জায়গায় আসেন জেরি। ৬৯ মিনিটের জেরির বাড়ানো বলে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন সাউল ক্রেসপো। ৭০ মিনিটে মাঠে নেমেই বিষ্ণুর অ্যাসিস্টে অসাধারন গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে আরও এগিয়ে দেন ইউসুফ হিজ্জেজারি। ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। আর গোলের সুবাদে জেমি ম্যাকলারেনকে ছুঁয়ে ফেললেন হিজ্জেজারি। ৭৯ মিনিটে বিপিনের শটে হিজ্জেজারি একটা ভালো প্রচেষ্টা করলেও, গোল আসেনি। ৮১ মিনিটে বিষ্ণুর জায়গায় মাঠে নামেন ডেভিড। পঞ্চম পরিবর্তনের ইস্টবেঙ্গলের। তবে এদিন ম্যাচে মাঝে-মধ্যেই আক্রমণে গিয়ে খেলায় ফেরার চেষ্টা করতে থাকে ওড়িশা এফসি। কিন্তু ম্যাচের ৮৩ মিনিটে বিপিনের অ্যাসিস্টে পোস্টের সামনে থেকে অতি সহজেই, আরও একটি গোল দলকে উপহার দেন ইউসুফ হিজ্জেজারি। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ বাহিনী। পাশাপাশি হিজ্জেজারি ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে জেমি ম্যাকলারেনকে পিছনে ফেলে, লিগে নিজের সর্বোচ্চ নবম গোলটি করে ফেললেন তিনি। ৮৯ মিনিটে বিপিনের শটে আবারও গোলের প্রচেষ্টা করেন হিজ্জেজারি। তবে এবার সুযোগ কার্যকরী হয়নি। খেলার ৫ মিনিটে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়েও গোলের ব্যবধান কমানোর মরিয়া প্রয়াস করতে থাকে ওড়িশা এফসি। তবে কোনও গোল শোধ করতে পারেনি ওড়িশা এফসি। ফলে গোটা ম্যাচ জুড়ে আক্রমণ থেকে বল পজিশন সমস্ত ক্ষেত্রে ওড়িশাকে টেক্কা দিয়ে এদিন দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়লেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। তবে এদিন ম্যাচের একদম শেষের দিকে জয় গুপ্তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। আর শেষ পর্যন্ত এদিন ৩-০ গোলে গোয়ার ফতোরদা থেকে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়লেন কোচ অস্কার ব্রুজোঁর দল। আর এই জয়ের ফলে খুশি সমর্থকরা। আর এই জয়ের ফলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসল ইস্টবেঙ্গল।
অনুর্ধ্ব-২০ ন্যাশানাল চ্যাম্পিয়নশিপের মহড়া বাংলার, দলে RFDL এর সর্বোচ্চ গোলদাতা নদিয়ার তানবীর
