ময়দান আপডেট: আইপিএলে একের পর এক ম্যাচে হারের ধারা অব্যাহত ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। এই মরসুমটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না হার্দিক পান্ডিয়ার দলের জন্য। ৯ ম্যাচ খেলে ৭ ম্যাচে হার। মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে এখন সম্মান বাঁচানোর কঠিন পরীক্ষার মুখে সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মা, যশপ্রীত বুমরাহরা। আর এবারের আইপিএলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত কামব্যাক চেন্নাই সুপার কিংসের। এই মরসুমে দুইবারের সাক্ষাতে দুইবারই মুম্বইকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিল ইয়েলো আর্মিরা। সোমবার অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড ও কার্তিক শর্মার যুগলবন্দি ব্যাটিংয়ে ভর করে ৮ উইকেটে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে আবারও হারাল চেন্নাই সুপার কিংস। ৪৮ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত ঋতুরাজ গায়কোয়াড। ৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত কার্তিক শর্মা। নিজের জীবনের প্রথম আইপিএল হাফসেঞ্চুরি তাঁর। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তোলে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান। সর্বোচ্চ ৩৭ বলে ৫৭ রান করেন নমন ধীর। আর ১৮ ওভার ১ বলেই ২ উইকেট হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় চেন্নাই। তবে এদিন নজর কাড়লেন নবাগত কার্তিক শর্মা। দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দিয়ে চেন্নাইকে ম্যাচ জেতালেন। মুম্বইয়ের হয়ে বুমরাহ ছাড়া সে ভাবে বল হাতে কোনও বোলারই খুব একটা নজর কাড়তে পারছেন না। তার প্রমাণ পাওয়া গেল এদিনও। ট্রেন্ট বোল্ট ৩ ওভার ১ বলে খরচ করেন ৩৭ রান। তবে এদিন কিছুটা ভালো বল করেন রঘু শর্মা। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দেন।

আর এবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের প্রতিপক্ষ লখনউ সুপার জায়েন্টস। সোমবার নিজেদের ঘরের মাঠে ওয়াংখেড়েতে মুম্বই মুখোমুখি হবে লখনউ এর। তবে বর্তমানে লখনউ দলও খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। তারা মুম্বইয়ের থেকে এক ম্যাচ কম খেলে ৮ ম্যাচে ৬ ম্যাচে হার, ২ টি জয়। ফলে বেশ চাপে এলএসজি। তারা নিজেদের শেষ ম্যাচে নিজেদের ঘরের মাঠে সুপার ওভারে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে হেরে যায়। ওই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলকে জেতানোর নায়ক হয়ে ওঠেন রিঙ্কু সিং। সুপার ওভারের ব্যর্থতাই ওই ম্যাচে লখনউ এর হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ম্যাচের নিরিখে কেকেআর-লখনউ দুই দলই ভালো সাফল্য দেখিয়েছিল। লখনউ এর হয়ে ৫ উইকেট নেন মহসিন খান। ব্যাট হাতেও ঋষভ পন্থরা ভালো লড়াই করেন। তবে সুপার ওভারে ১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলায়, ম্যাচ হারতে হয় তাদের। তবে এবার দেখার মুম্বইয়ের ঘরের মাঠে কতটা কামব্যাক করতে পারে লখনউ। মুম্বই ও লখনউ এই দুই দলের শেষ ৫ ম্যাচের পরিসংখ্যানে ৩ বার জয়ী হয়েছে লখনউ, ২ বার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আর এবারের মরসুমে দুই দলই খারাপ জায়গায় রয়েছে। তবে মুম্বইকে জয়ে ফিরতে হলে ব্যাট হাতে ভালো লড়াই করতে হবে সূর্যকুমার, তিলক বর্মাদের। পাশাপাশি শুধুমাত্র বুমরাহের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে মুম্বইয়ের পক্ষে লড়াইটা যে বেশ কঠিন হবে তা বলাই যায়। পাশাপাশি রোহিত শর্মা আবার কবে চোট সারিয়ে প্রথম একাদশে ব্যাট হাতে নামবেন সেই প্রশ্নও ঘোরাফেরা করছে মুম্বই সমর্থকদের মনে! কারণ রোহিত না থাকায় শুধুমাত্র রায়ান রিকেলটনের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে মুম্বইয়ের ওপেনিং জুটি। যা ইনিংসের শুরুতেই সমস্যায় ফেলছে দলকে। সুতরাং রোহিতের দ্রুত কামব্যাক করা অত্যন্ত প্রয়োজন দলের জন্য। সবমিলিয়ে এখন দেখার সোমবার ওয়াংখেড়েতে অবশেষে আবারও জয়ে ফিরতে পারে কিনা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা ?
কলকাতা ডার্বিতেই নির্ধারিত হতে পারে লিগের ফলাফল! কোন সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে ডার্বি?
