প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : বারাসত স্টেডিয়ামে আয়োজিত কলকাতা লিগের মেগা ডার্বিতে, এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা। আইএসএল স্কোয়াডের ৯ জন ফুটবলার নিয়ে নামা শক্তিশালী মোহনবাগানকে টক্কর দিল ইস্টবেঙ্গলের একঝাঁক অচেনা জুনিয়র ফুটবলার। খেলার শুরুর দিকেই সায়ন ব্যানার্জি লাল-হলুদ বক্সে ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দেন জয় বাজ।
এর পরপরই কিয়ান নাসিরির একটি নিখুঁত ক্রস থেকে মিস জাজমেন্টের কারণে সায়ন ঠিকঠাক হেড করতে ব্যর্থ হন। ৭ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে ফাউল থেকে ইস্টবেঙ্গলের বিজয় মুর্মুর ইনসুইঙ্গার শটটি পোস্টের সামান্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শুরুতে মোহনবাগান মূলত সায়ন ও মাঝে মাঝে কিয়ানকে ব্যবহার করে আক্রমণের পথ খুঁজছিল। তবে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স অত্যন্ত কম্প্যাক্ট ফুটবল খেলে তাদের কোনও বাড়তি জমি ছাড়েনি। অবশেষে ৩৮ মিনিটের মাথায় আপুইয়ার লং বল ধরে বাম দিকে কিছুটা সরে গিয়ে দূরপাল্লার শটে মোহনবাগানকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন মানবীর সিং। এরপর ইস্টবেঙ্গল সঠিক ডেলিভারির অভাবে একটি সুযোগ নষ্ট করলে, ১-০ ব্যবধানেই প্রথমার্ধ শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মোহনবাগান আক্রমণ করলেও আসল কাজ হচ্ছিল না।
৫৬ মিনিটের মাথায় মোহনবাগান গোলরক্ষক দীপ্রভাত ও মেহতাব সিংয়ের মারাত্মক ভুল বোঝাবুঝির সুযোগে বিলাল বল চিপ করেন। আকাশে কাছে থাকা সেই বলটি মেহতাবের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত গোললাইন অতিক্রম করে ব্যর্থ হয়। ৬০ মিনিটের পর থেকেই ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সিভ খোলস ছেড়ে অল-আউট আক্রমণে ওঠে। ৬১ মিনিটে অধিনায়ক তন্ময় দাসের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে জয় মুর্মুর কাছে গেলেও তাঁর শট সাইড নেটে লাগে। ৬২ মিনিটে চাকু কমান্ডের দূরপাল্লার শট সহজে গ্রিপ করেন দীপ্রভাত। এর পরেই ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে উত্তমের দুর্দান্ত হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু পরের মিনিটেই, অর্থাৎ ৬৪ মিনিটে, সুপরিকল্পিত কর্নার কিক থেকে হেডে দুর্দান্ত গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ১-১ সমতায় ফেরান মোহাম্মদ বিলাল। ৬৮ মিনিটে আপুইয়ার ডিফেন্স চেরা পাস মানবীর বক্সে রিসিভ করলেও মনতোষ দারুনভাবে তা ক্লিয়ার করেন।
৮৩ মিনিটে কর্নার থেকে মেহতাবের হেডের পর সায়ন ব্যানার্জির গোলমুখী চিপ অনবদ্য ফিঙ্গার টিপসে সেভ করেন ইস্টবেঙ্গল কিপার গৌরব। ৮৪ মিনিটে কিয়ানের আনমার্কড কর্নার থেকে সুহেল ভাট সহজতম হেডের সুযোগ পেলেও বল মাটিতে ড্রপ খেয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। পুরো ম্যাচে লাল-হলুদের প্রত্যেকেই দুর্দান্ত লড়লেও ডিফেন্সে অঙ্কন ভট্টাচার্য এবং মনতোষ বিশেষ নজর কাড়েন। জাতীয় দলের তারকাদের ভিড়ে ঠাসা মোহনবাগানকে রুখে দিয়ে এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের তরুণ তুর্কিরাই কার্যত নৈতিক জয় ছিনিয়ে নিল।
