ময়দান আপডেট: বাংলায় একটি প্রবাদ বাক্য আছে “যার কেউ নেই তার ভগবান আছে”, আর এই ভগবান রূপেই কলকাতা ময়দানের অতি পরিচিত মুখ ইস্টবেঙ্গল সমর্থক প্ৰিয় লজেন্স মাসি ওরফে যমুনা দির আগরপাড়ার বাড়িতে উপস্থিত কোন্নগর ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাবের সদস্যরা। বেশ কিছু দিন ধরে কোন্নগর ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাবের সদস্যরা প্ৰিয় লজেন্স মাসিকে ইস্টবেঙ্গলের খেলার দিন মাঠে দেখতে না পাওয়ার কারণে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, যে লজেন্স মাসির দুই চোখে ছানি পড়েছে। তিনি চোখে ভালো ভাবে দেখতে পাচ্ছেন না। লজেন্স মাসির দিন আনতে পান্তা ফুরায়। তিনি পেশায় একজন লজেন্স বিক্রেতা। তবে ইস্টবেঙ্গল হোক কিংবা মোহনবাগান যে কোনও দলের খেলার দিন মাঠে লজেন্স বিক্রি করেই চলে তার একার সংসার। শুধুমাত্র সমর্থকরা নয়, বিভিন্ন ক্লাবের ফুটবলার থেকে ক্লাব অফিসিয়াল সকলেই তাঁকে এককথায় চেনেন লজেন্স মাসি বলেই। ম্যাচের পর যুবভারতীর বাইরে তিনি অপেক্ষা করেন ফুটবলারদের জন্য। তাদের হাতে উপহার হিসাবে তুলে দেন লজেন্স। ফুটবলাররাও খুশি হয়ে তাঁদের প্রিয় লজেন্স মাসির কাছে এগিয়ে যান লজেন্স নিতে। এটা প্রায় যুবভারতী থেকে কিশোরভারতী কিংবা কলকাতা ময়দানের বিভিন্ন মাঠের চেনা ছবি।

যমুনা দির পরিবারে উনি একা, বছর খানেক আগে ওনার স্বামী মারা গেছেন এবং ওনার কোনও সন্তান নেই। অর্থের অভাবে লজেন্স মাসি চোখে ছানি কাটানোর অস্ত্রোপ্রচার করতে পারছেন না। এই খবর পাওয়া মাত্রই কোন্নগর ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাবের সদস্যরা ওনাকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করার জন্য নিজেদের উদ্যোগে ১০ হাজার টাকা আজ লজেন্স মাসির বাড়িতে গিয়ে লজেন্স মাসির হাতে তুলে দিয়ে, ভবিষ্যতে লজেন্স মাসির পাশে থাকার বার্তা দেন। কোন্নগর ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাবের এই মহান উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই-শত্রুতা ভুলে ও মাঠের বাইরে ইস্ট-মোহন সমর্থকরা যে একে অপরের বন্ধু, পরিপূরক তা প্রমান করতেই কোন্নগর মোহনবাগান ফ্যানস ক্লাবও দুই হাজার টাকা কোন্নগর ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাবের সদস্য মারফৎ লজেন্স মাসির হাতে তুলে দেয়।

মোট ১২ হাজার টাকা কোন্নগরের ফুটবল তথা ক্রীড়া প্রেমীরা লজেন্স মাসির হাতে তুলে দেন এদিন। লজেন্স মাসি আমাদের জানিয়েছেন “এই টাকা পেয়ে তিনি অনেকটাই খুশি ও উপকৃত,”প্রবাসে ইস্টবেঙ্গল” নামক একটি ফ্যানস ক্লাবের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে সল্টলেকের একটি বেসরকারি চোখের হাসপাতালে তার ডান চোখের অস্ত্রোপ্রচার করিয়েছেন। মাস খানেক পর অপর চোখটি অর্থাৎ বাম চোখে অস্ত্রোপ্রচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এছাড়াও ঘোলা থানার পুলিশ কর্তারাও তার পাশে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি”।
