ময়দান আপডেট: ডুরান্ড কাপ থেকে গোয়াতে অনুষ্ঠিত সুপার কাপে ইস্টবেঙ্গলের ব্যর্থতার পর থেকেই ক্ষুব্ধ দলের সমর্থকরা। কারণ গত কয়েকটা মরসুম মোটেও ভালো যায় নি ইস্টবেঙ্গলের জন্য। ফলে এই বছর বেশ শক্তিশালী দল গঠন করেছিল ইস্টবেঙ্গল। অথচ কোথায় কি? এযেন ইস্টবেঙ্গল আছে, সেই ইস্টবেঙ্গলেই ! খেলার মান গত দুই মরসুমের থেকে নিসন্দেহ উন্নত হয়েছে। কিন্তু তাহলে কি হবে! খেলার সাফল্য অবশ্যই বিচার করা হয় ট্রফি জয় দিয়ে। ট্রফিই শেষ কথা বলে। এই মরসুমে এত ভালো দল করেও ডুরান্ড থেকে সুপার কাপে নিরাশ হয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে লাল-হলুদ বাহিনীকে। একমাত্র কলকাতা লিগেই ট্রফি ঘরে এসেছে। তার জেরে হতাশ সমর্থকরা। আর দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে আইএসএল ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে আইএসএল। তাই সোমবার থেকে যুবভারতী অনুশীলন গ্রাউন্ডে অতি-গোপনে ক্লোজডোর অনুশীলন শুরু করে দিল অস্কার ব্রুজোঁর দল। কোনও ভাবে সংবাদ মাধ্যম থেকে সমর্থকদের ধারে যাবারও উপায় নেই। সম্পূর্ণ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে চলছে অনুশীলন।

আর নতুন বছরে একদিকে যখন অনুশীলন শুরু করল ইস্টবেঙ্গল। ঠিক তখনই সোমবার বিকালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হল দলের ষষ্ঠ বিদেশী হিসাবে যোগ দেওয়া মরক্কোর স্ট্রাইকার হামিদ আহদাদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছে ইস্টবেঙ্গল। উল্লেখ্য গত সুপার কাপে গোয়ার মাটিতে ইস্টবেঙ্গলের ব্যর্থতার পর থেকেই হামিদ ও জাপানি স্ট্রাইকার হিরোসি ইবুসুকিকে নিয়ে জোর সমালোচনা শুরু হয়। কারণ এই দুই ফুটবলারের খেলা যথেষ্ট হতাশ করেছে সমর্থকদের। ফলে আইএসএলে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অবিলম্বে হিরোসিকে সরানোর দাবিও জানান অনেক প্রাক্তন ফুটবলাররা। তবে এখনও লাল-হলুদ শিবিরের সঙ্গেই রয়েছে দলের সপ্তম বিদেশী হিসাবে যুক্ত হওয়া জাপানি ফুটবলার হিরোসি। কিন্তু হামিদকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট। যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,নিজের পারিবারিক সমস্যার জন্য, আপাতত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান হামিদ। তাই তাঁকে ছেড়ে দিল দল। খুব শীঘ্রই হামিদের বিকল্প ফুটবলারের নাম ঘোষণা করবে ইস্টবেঙ্গল।

হামিদের সঙ্গে একবছরের চুক্তি করেছিল ইস্টবেঙ্গল। গত বছরের জুলাই মাসে চুক্তি হয়। ডুরান্ড কাপে নামধারীর বিরুদ্ধে সেই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেন হামিদ। আইএফএ শিল্ড ফাইনালেও তাঁর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুট আউটে গিয়ে হেরে যায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। সুপার কাপে অবশ্য একটাও গোল করেননি তিনি। কিন্তু ছয়মাসেই মোহভঙ্গ হামিদের প্রতি। ফলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা ইস্টবেঙ্গলের জন্য ভালো হয় এখন সেটাই দেখার।

উল্লেখ্য সাম্প্রতি আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বেশ কিছু আইএসএলের ক্লাব তাঁদের বিদেশী ফুটবলারদের ছেড়ে দেওয়ার পথে হাঁটে। মুম্বই এফসি ছেড়ে দিয়েছে তিরিকে। কেরল ছেড়েছেন নোয়া সিদোইকে। আর এবার হামিদকে ছাড়ল ইস্টবেঙ্গল।
ISL ফেরানোর উদ্যোগকে স্বাগত,কিন্তু ভাবতে হবে দেশের অন্যান্য লিগের কথাও! বার্তা প্রাক্তন ফুটবলারদের
