সৌরভ রায় ও অঙ্কিত ঘোষ, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: এই বছরও আইএসএলে এখনও পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য মোহনবাগান সুপার জায়েন্টস। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা মরসুম শুরু করেই পর-পর তিন ম্যাচে জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করে, এখন লিগ টেবিলে সবার উপরে মোহনবাগান। কেরালা ও চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয়ের পর, শেষ ম্যাচে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় সবুজ-মেরুন বাহিনী। ফলে ৯ পয়েন্ট এবং গোল পার্থক্যের বিচারে এখন সবার থেকে অনেকটাই উপরে মোহনবাগান। আর শুক্রবার অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে নিজেদের ঘরের মাঠে খেলতে নামে মোহনবাগান। আর এদিন চোটের কারণে ম্যাচে নেই রবসন। শেষ ম্যাচে দুই গোল করেন তিনি। ফলে রবসনের জায়গায় প্রথম একাদশে লিস্টনকে আনা হয়েছে। আর এদিন দিমি-কামিংস-ম্যাকলারেন তিন ফরোয়ার্ডে শুরু করে মোহনবাগান। অন্যদিকে ওড়িশা এফসির দলে একমাত্র বিদেশী ফুটবলার স্পেনের ফুটবলার দেলগাডো।
আর এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধে ১১ মিনিটে আপুইয়ার একটা দূরপাল্লার শট গোলকিপারের হাত ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। গোল আসে নি। তবে এদিন মোহনবাগানের আক্রমণ রুখতে অনেকটা শক্তিশালী ডিফেন্স গড়ে তোলে ওড়িশা। ১৪ মিনিটে দিমির ব্যাকহিলে বাড়ানো বলে শুভাশিসের অ্যাসিস্টে, দুর্দান্ত হেডে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন জেমি ম্যাকলারেন। ফলাফল হয়ে যায় ১-০।

তবে ১৫ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন দিমিত্রি পেত্রাসোস, ১৭ মিনিটে লিস্টনকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন ওড়িশার ইসেক রালতে। ২৪ মিনিটে লিস্টনের বাড়ানো শটে, আবারও মোহনবাগানের হয়ে গোল উপহার দিলেন সেই জেমি ম্যাকলারেন। ম্যাকলারেনের জোড়া গোলে শুরুতেই ২-০ এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন। ফলে গ্যালারি জুড়ে সমর্থকদের সেলিব্রেশন ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩৬ মিনিটে দিমির সামনে গোলের সুযোগ আসলেও, তিনি ওড়িশার ফুটবলারের সঙ্গে ট্যাকল করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান। ৪২ মিনিটে ওড়িশা এফসির পোস্ট লক্ষ্য করে দূরপাল্লার শটে গোল করে মোহনবাগানকে আরও এগিয়ে দেন অ্যালবার্তো রডরিগেজ। মোহনবাগান এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে।

এর পরের মিনিটেই ৪৩ মিনিটে বিশাল কাইথকে মাটিতে ফেলে দিয়ে বল নিয়ে পোস্টে ঢুকে যান ওড়িশা এফসির রোহিম আলি। ফলে ওড়িশা গোলের ব্যবধান কমিয়ে হয় ৩-১। এরপরই ৪৬ মিনিটে লিস্টনের অ্যাসিস্টে ফের দুর্দান্ত গোল জেমি ম্যাকলারেনের। নিজের গোলের হ্যাটট্রিক করে, খেলার ফলাফল প্রথমার্ধের শেষে ৪-১ করে দেয় মোহনবাগান।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া পরিবর্তন করে ওড়িশা এফসি। ৬০ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন মোহনবাগানের। কামিংসের জায়গায় নামেন মনবীর এবং মেহেতাবের জায়গায় নামেন টম অলড্রেড। ৬৯ মিনিটে ফের জোড়া পরিবর্তন মোহনবাগানের। শুভাশিসের জায়গায় নামেন অময় রানাডে। থাপার জায়গায় নামেন দীপক টাংরি। উল্লেখ্য এদিন মাঠে উপস্থিত ছিনেন ২৯৭৭৭ জন দর্শক। ৭৯ মিনিটে দিমির জায়গায় মাঠে আসেন সাহাল আব্দুল সামাদ। তবে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে দেখা যায় মোহনবাগানকে। তবে খেলার ৮৮ মিনিটে নিজের চতুর্থ গোল করে ফেললেন সবুজ-মেরুন জনতার এই মরসুমের নয়নের মণি জেমি ম্যাকলারেন। বহুদূর থেকে একাই বল টেনে নিয়ে গিয়ে ওড়িশার গোলরক্ষক অমরিন্দরকে বোকা বানিয়ে সহজেই গোল করে দেন জেমি। আর এরসঙ্গেই এই মরসুমে ৪ ম্যাচে নিজের ৭ গোল করে ফেললেন ম্যাকা। ফলে খেলার ফলাফল হয়ে যায় ৫-১। এরপর ৯২ মিনিটে লিস্টনের শট গোল পোস্টের বার ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। গোল আসে নি। ফলে মহামেডানকে ৫-১ গোলে হারানোর পর, শুক্রবারও ওড়িশা এফসিকে সেই ৫-১ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল মোহনবাগান সুপার জায়েন্টস। ফলে ৪ ম্যাচে মোহনবাগানের পয়েন্ট ১২। গোল ডিফারেন্স ১২। সবার শীর্ষেই সবুজ-মেরুন।
অতিরিক্ত ডিফেন্সে ভরা ফুটবল! গোলশূন্য ড্র ইস্টবেঙ্গল বনাম এফসি গোয়া ম্যাচ
