সোনালি চ্যাটার্জী ও মৃন্ময় গুপ্ত, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: চলতি আইএসএলে একদিকে ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৬-নম্বরে থেকে এদিন মহামেডানের বিরুদ্ধে মিনি ডার্বিতে খেলতে নামে ইস্টবেঙ্গল এফসি। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে হেরে পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষে থেকেই এদিন লাল-হলুদ বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু করে মেহেরাজউদ্দিন ওয়াডুর দল মহামেডান স্পোর্টিং। তবে উল্লেখ্য শেষ ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ২-১ গোলে হারলেও, ওই দিন ভালো ফুটবল উপহার দেয় মহামেডান। আর এদিন ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ইউসুফ হিজ্জেজারি প্রয়াস করলেও, গোল আসেনি। তবে খেলার ৬ মিনিটে ইউসুফ হিজ্জেজারির বাড়ানো বলে, দূরপাল্লার শটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন আনোয়ার আলি। অতি সহজ গোল আটকাতে ব্যর্থ হন মহামেডানের গোলরক্ষক পদম ছেত্রী। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-০। ফলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় মহামেডান। ঘন-ঘন আক্রমণে যেতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। ৮ মিনিটে মিগুয়েলের কর্ণারে আবারও হেডে গোলের প্রচেষ্টা করেন আনোয়ার, তবে বল বারপোস্টের উপরে লেগে ফিরে আসে।

এরপর ১৩ মিনিটে মহামেডানের সাজ্জাদ হোসেন পেনাল্টি বক্সে মিগুয়েলকে ফাউল করেন। ফলে ১৪ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে আরও এগিয়ে দেন ইউসুফ হিজ্জেজারি। ফলাফল হয়ে যায় ২-০। তবে ১৭ মিনিটে বিষ্ণুর পাস দেওয়া বলে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ইউসুফ হিজ্জেজারি। ২৩ মিনিটে মহামেডানের পোস্ট লক্ষ্য করে এডমুন্ড শট নেন, তবে রুখে দেন পদম ছেত্রী। ৩৩ মিনিটে মিগুয়েলকে ফাউল করে ফেলে দেওয়ায়, হলুদ কার্ড দেখানো হয় লালথানকিমাকে।

এরপর ৩৫ মিনিটে পেনাল্টি বক্সে এডমুন্ডকে ফাউল করেন জোসেফ। ফলে রেফারি পেনাল্টি দেন। তবে এই নিয়ে রেফারির সঙ্গে বচসায় জড়ান জোসেফ। সেই কারণে জোসেফকে ইয়েলো কার্ড দেখান রেফারি। আগের ম্যাচে তাঁর ইয়েলো কার্ড থাকায়, জোড়া ইয়েলো কার্ড হয়ে যাওয়ায়, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় জোসেফকে। ১০ জনে হয়ে যায় মহামেডান। আর ৩৮ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে আরও এগিয়ে দেন অধিনায়ক সাউল ক্রেসপো। ফলাফল হয়ে যায় ৩-০। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা, যদি আর গোল আসেনি। প্রথমার্ধের শেষে ৩-০ গোলে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪ মিনিটে পোস্টের সামনে মিগুয়েলকে পেনাল্টি বক্সে ফাউল করেন মহামেডান গোলকিপার পদম ছেত্রী। ফলে ম্যাচের তৃতীয় পেনাল্টি পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। আর ৫৬ মিনিটে আবারও পেনাল্টিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফেলেন ইউসুফ হিজ্জেজারি। ফলাফল হয়ে যায় ৪-০। ইউসুফ হিজ্জেজারি চলতি আইএসএলে নিজের সপ্তম গোল করে ম্যাকলারেনকে ছুঁয়ে ফেললেন। ৬৫ মিনিটে সাউল ক্রেসপোর জায়গায় নামেন শৌভিক চক্রবর্তী। ইউসুফ হিজ্জেজারির জায়গায় নামানো হয় ডেভিড লালাংসাঙ্গাকে।

৭১ মিনিটে নন্দাকুমারের একটি শট রুখে দেন পদম ছেত্রী। এরপরও একাধিক আক্রমণ তৈরি করে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। যদিও সুযোগ রুখে দেন মহামেডানের গোনরক্ষক পদম ছেত্রী। খেলার ৭৫ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের পঞ্চম গোলটি করে ফেললেন বিষ্ণু। ফলাফল হয়ে যায় ৫-০। ৭৯ মিনিটে মিগুয়েলের জায়গায় মাঠে আসেন অ্যান্টন সোজবার্গ। ৮০ মিনিটে মাহেশের কর্ণারে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফেললেন আনোয়ার আলি। ৬-০ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। আর খেলার একদম শেষ মিনিটে মহামেডানের পোস্ট লক্ষ্য করে আরও একটি গোল দলের স্কোরবোর্ডে যোগ করেন নন্দাকুমার শেখর। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ৭-০।

সবমিলে এদিন গোটা ম্যাচ জুড়ে একতরফা আধিপত্য দেখাল লাল-হলুদ বাহিনী। ৭-০ গোলে মহামেডানকে স্পোর্টিংকে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিল ইস্টবেঙ্গল। আর এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। পাশাপাশি গোল পার্থক্যের বিচারে ১২ গোলে এগিয়ে থেকে, মোহনবাগানকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের গোল পার্থক্য ১১।
