ময়দান আপডেট: এবারের আইপিএলে দ্বিতীয় হার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারও বেশ ছন্দে রয়েছে। তবে ভালো লড়াই করেও, শনিবার ১ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে হেরে গেল আরসিবি। তবে আরসিবির হয়ে ভালো ব্যাটিং উপহার দেন ফিল সল্ট। ফিল সল্ট করেন ৩৮ বলে ৬৩ রান। তিনি ৪ টি চার, ৩ টি ছয় মারেন। কিন্তু খুব একটা ছন্দে ছিলেন না বিরাট কোহলি। তিনি মাত্র ১৯ রানে আউট হয়ে যান। আরসিবির ইনিংসে এদিন খুব একটা বড় স্কোর করতে পারেননি অন্যান্য ব্যাটাররা। দেবদূত পাড্ডিকাল আউট হয়ে যান ১৮ রানে। ১৭ বলে ২৬ রান করেন টিম ডেভিড। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ১৭৫ রান তোলে আরসিবি। দিল্লির হয়ে ২ টি করে উইকেট নেন লুঙ্গি এনগিডি, কুলদীপ যাদব ও অক্ষর প্যাটেল। তবে এরমধ্যে দিল্লির অধিনায়ক অক্ষরের বল ছিল বেশ নজরকাড়া। তিনি ৩ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিল্লির হয়ে দুর্দান্ত লড়াই করেন ট্রিসটন স্টাবস ও কেএল রাহুল। প্রথমে রাহুল দলকে টেনে নিয়ে যান। তিনি করেন ৩৪ বলে ৫৭ রান। রাহুলের ইনিংসে ছিল ৬ টা চার ও ২ টি ছয়। অন্যদিকে এরপর দলকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ট্রিসটন স্টাবস। ট্রিসটন স্টাবস ৪৭ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থেমে মাঠ ছাড়েন এদিন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪ টি চার ও ১ টি ছয়। তবে এদিন ২৬ রানে ব্যাট করার সময় ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন অক্ষর। আর অপরদিকে ১০ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন ডেভিড মিলার। তবে এই ম্যাচ জয়ের জন্য লাস্ট ওভার পর্যন্ত থ্রিলার লড়াই চালাতে হয় দিল্লিকে। ৬ উইকেটে আরসিবিকে হারিয়ে ১ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় দিল্লি। পাশাপাশি আরসিবির হয়ে যথেষ্ট ভালো বোলিং উপহার দেন ভুবণেশ্বর কুমার। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন। অন্যদিকে ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচ করে ১ উইকেট নেন ক্রনাল পান্ডিয়া।
শনিবার আইপিএলে দ্বিতীয় ম্যাচে হায়দরাবাদের মাঠে মুখোমুখি হয় চেন্নাই সুপার কিংস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তবে এদিন নিজেদের ঘরের মাঠে দুর্দান্ত কামব্যাক করে জয় ছিনিয়ে নিল অরেঞ্জ আর্মিরা। চেন্নাইকে ১০ রানে হারিয়ে দিল হায়দরাবাদ। হায়দরাবাদ প্রথম ব্যাট করে তোলে ৯ উইকেটে ১৯৪ রান। তাদের ইনিংসে ২২ বলে ৫৯ রানের একটা ঝড়ো ব্যাটিং করেন অভিষেক শর্মা। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬ টা চার ও ৪ টে ছয়। এর পাশাপাশি ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস দলকে উপহার দেন হেনরিক ক্লাসেন। তিনি ৬ টি চার ও ২ টি ছয় হাঁকান। চেন্নাইয়ের হয়ে এদিন ৩ ওভার বল করে মাত্র ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন অংশুল কম্বোজ। অন্যদিকে ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন জেমি ওভারটন।

আর এরপর ব্যাট করতে নেমে এদিন চেন্নাইয়ের ইনিংসে খুব একটা মন ভরাতে পারলেন না সঞ্জু স্যামসন। ৭ রানেই ফিরে যেতে হয় তাঁকে। ১৯ রানে আউট হয়ে যান অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড। তবে কিছুটা লড়াই করে ১৩ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন আয়ূশ মাহাতে। ৫ টি চার ও একটি ছয় মারেন তিনি। এরপর ধীর গতিতে ব্যাট করে ৩০ বলে ৩৪ রান দলের স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ম্যাথু শট। ১৯ বলে ২৫ রানে ফিরে যান শারফারাজ খান। শিবম দুবে ও জেমি ওভারটনও ম্যাচ বাঁচানোর মরিয়া প্রয়াস চালান। তবে শেষরক্ষা হয়নি। দুবে আউট হয়ে যান ১৬ বলে ২১ রানে। ওভারটন ফিরে যান ১৫ বলে ১৬ রান করে। অংশুল কম্বোজ অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ১৩ রানে। চেন্নাই তোলে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৪ রান। ১০ রানে ম্যাচ জিতে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

এদিন হায়দরাবাদের হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ইশান মালিঙ্গা। পাশাপাশি ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। আর শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন প্রফুল হিংগে। শেষ ওভারে তিনি ওভারটনের উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে রাশ নিজেদের দিকে নিয়ে চলে আসেন। আর এই ম্যাচে জয়ের ফলে হায়দরাবাদ ৬ ম্যাচে ৩ ম্যাচে হার ও ৩ ম্যাচে জিতে পয়েন্ট টেবিলে কিছুটা উপরের দিকে উঠে আসল। অপরদিকে চেন্নাই সাফল্যে কামব্যাক করে পর-পর দুই ম্যাচে জিতলেও, এদিন আবারও হেরে পিছিয়ে পড়ল।
আমেদাবাদে গুজরাতের ঘরের মাঠে কঠিন চ্যালেঞ্জ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের, চাপে হার্দিকরা!
