ময়দান আপডেট: ভারতীয় ক্রিকেট হোক বা আইপিএলের মঞ্চ রাজার দাপট অব্যাহত। দেখতে-দেখতে বছরের পর বছর কেটে যায়, কিন্তু কিং কোহলি চেনা ছন্দেই ফিরে আসেন আইপিএলে মরসুমের পর মরসুম। ১৯ বছর ধরে আইপিএলের মঞ্চে বিরাট শাসন চলছে চেনা ছন্দে! আর গতবার আইপিএল চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জিতে নিয়েছে প্রথমবার বিরাটের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। ফলে এযেন বিশ্ব ক্রিকেটে সাউথ আফ্রিকার মতো চোকার্সের তকমা কাটিয়ে সাফল্যে প্রত্যাবর্তন! ফলে এই মরসুমে আরসিবি সমর্থকদের প্রত্যাশা এখন আকাশছোঁয়া। সেই প্রত্যাশার যোগ্য মর্যদা রাখতে বেশ জানেন বিরাট কোহলি। তাই এবারে আইপিএলে নিজেকে কার্যত উজার করে দিচ্ছেন তিনি। সঙ্গে রজত পাতিদারের গোটা দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। পয়েন্ট টেবিলে ৭ ম্যাচ খেলে ৫ টি জয়, ২ টি হার ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আরসিবি। অন্যদিকে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পঞ্জাব। ফলে এবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদার বলেই মনে করা হচ্ছে আরসিবি ও পঞ্জাবকে। আর চলতি আইপিএলে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে শুরুতে নিজের নাম না থাকলেও, রাতারাতি নিজের নাম খোদাই করে ফেলেছেন কিং কোহলি। তিনি এখন সর্বোচ্চ রানের বিচারে সবার শীর্ষে। ৭ ম্যাচে করেছেন ৩২৮ রান। সর্বোচ্চ ৪৪ বলে ৮১ রান তিনি করলেন শুক্রবার গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে। তিনি এখনও পর্যন্ত ৩ টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন।

শুক্রবার ব্যাঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামীতে নিজেদের হোম গ্রাউন্ডে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিল আরসিবি। তবে এদিন ব্যাট হাতে গুজরাতের হয়ে নজর কাড়লেন সাঁই সুর্দশন। তিনি একটা অসাধারণ সেঞ্চুরি দলকে উপহার দিলেন। ৫৮ বলে ১০০ রান করেন সাঁই সুর্দশন। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ১১ টা চার ও ৫ টা ছয় দিয়ে। ওপেনিং জুটিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক শুভমান গিলের সঙ্গে একটা ভালো পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন সুর্দশন। তাদের যুগলবন্দিতে একটা সময় মনে হচ্ছিল রানটা বোধহয় আড়াইশো পার করে যাবে। ১২ ওভার ৪ বল পর্যন্ত ব্যাট করে যান দুই ওপেনার। তবে ২৪ বলে ৩২ রান করে আউট হয়ে ফিরে যান শুভমান গিল। গিলের একটা বল ধরতে গিয়ে হাতে চোট পাওয়ার পরেই গিলকে ফিরিয়ে দেন সূয়েশ শর্মা। আর আউট করে একটা অভিনব সেলিব্রেশন গিলকে লক্ষ্য করে করেন তিনি। এরপর ১০০ রানে সুর্দশনকে আউট করে দেন হ্যাজেলউড। জস বাটলার আউট হয়ে যান ১৬ বলে ২৫ রানে। শেষে ১০ বলে ২৩ রান দলের স্কোর বোর্ডে যোগ করেন জেসন হোল্ডার। পরের দিকের কয়েকটা ওভার রান কমে যাওযায় ৩ উইকেটে ২০৫ রানেই থেমে যায় গুজরাতের ইনিংস। আরসিবির হয়ে এদিন উইকেট না পেলেও ৩ ওভারে মাত্র ২৮ রান খরচ করেন রসিক সালাম।

আর এরপর ব্যাট করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর দুই ওপেনার জেকব বেথেল ও বিরাটকে বেশ আক্রমণাত্বক দেখায়। যদিও বেথেল ফিরে যান ১০ বলে ১৪ রানেই। কিন্তু এরপর দেবদূত পাড্ডিকালকে সঙ্গে নিয়ে একটা অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন বিরাট। তাদের ডুয়েলে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল আরসিবি। পাড্ডিকাল রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান ২৭ বলে ৫৫ রানে। তাঁর ইনিংসে ছিল ২ টি চার ও ৬ টি ছয়। অন্যদিকে চেনা ছন্দে স্বমহিমায় অনবদ্য ব্যাটিং দলকে উপহার দিলেন বিরাট কোহলি। ৪৪ বলে ৮১ রান করে জেসন হোল্ডারের বলে বোল্ড হয়ে যান। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় তাঁর। এদিন বিরাট ৮ টি চার ও ৪ টি ছয় হাঁকান। তবে বিরাট আউট হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত আক্রমণাত্বক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে আউট হয়ে ফিরে যান রজত পাতিদার ও জীতেশ শর্মা। কিন্তু দল জয়ের টার্গেট থেকে খুব বেশি দূরে না থাকায়, সহজেই ম্যাচ শেষ করে দলকে জিতিয়ে দেন টিম ডেভিড ও ক্রনাল পান্ডিয়া। টিম ডেভিড অপরাজিত থাকেন ৯ বলে ১০ রানে। অন্যদিকে ক্রনাল পান্ডিয়া অপরাজিত থাকেন ১২ বলে ২৩ রানে। তিনি ৩ টি চার ও একটি ছয় মারেন। ১৮ ওভার ৫ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিল আরসিবি। ম্যাচের সেরা হয় বিরাট কোহলি। এদিন গুজরাতের হয়ে ৩ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন সিরাজ। রশিদ খান নেন ২ উইকেট। উল্লেখ্য আইসিবির এর পরবর্তী ম্যাচ আগামী সোমবার দিল্লির ঘরের মাঠে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ফিরোসা কোটলায়। অন্যদিকে গুজরাতের পরবর্তী ম্যাচ রবিবার চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠে চিপকে। ফলে এখন চিপকে জয়ে ফিরতে মরিয়া টাইটান্সরা।
১০৩ রানের রেকর্ড ব্যবধানে মুম্বইকে ওয়াংখেড়েতে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় চেন্নাইয়ের, সেঞ্চুরি সঞ্জুর
