Sunday, May 31, 2026
Homeফুটবলকলকাতার ফুটবলকল্যাণীতে সুদেভা দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় ইউনাইটেড স্পোর্টসের,১৫ তারিখ কার্যত...

কল্যাণীতে সুদেভা দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় ইউনাইটেড স্পোর্টসের,১৫ তারিখ কার্যত ফাইনাল দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে

শেষের দিকে ৯০ মিনিটে ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করে দলকে এগিয়ে দেন মনিপুরি ফুটবলার জর্জ কম

সৌরভ রায়, প্রতিনিধি 

ময়দান আপডেট: চলতি আইলিগ 2 তে ভালো ছন্দে বাংলার দল ইউনাইটেড স্পোর্টস। সাফল্য ধরে রেখেছে কোচ লালকমল ভৌমিকের দল। নিজেদের হোম ভেন্যুতে কল্যাণীতে শেষ তিন ম্যাচের মধ্যে ২ ম্যাচে জয় ও একটি ম্যাচ ড্র করে এখন পয়েন্টের বিচারে পরেরবার আইলিগে উঠে আসার স্বপ্ন দেখছে বেগুনি জার্সিধারি দলটি। হোম গ্রাউন্ডে প্রথম ম্যাচে নেরকো এফসির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় পায় ইউনাইটেড স্পোর্টস। দ্বিতীয় ম্যাচে মর্নিং স্টার দলের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে। আর শনিবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কল্যাণীতে সুদেভা দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় পেল তারা। ১৫ তারিখ কল্যাণীতে ইউনাইটেড স্পোর্টসের শেষ ম্যাচ দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচ কার্যত ফাইনাল তাদের কাছে তা বলা যেতেই পারে। কারণ ওই ম্যাচে জিততে পারলেই আইলিগে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যাবে ইউনাইটেড স্পোর্টস। ফলে শেষ ম্যাচেও জিততে মরিয়া অধিনায়ক অঙ্কন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বাংলার এই দল। শনিবার সুদেভা দিল্লি এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ দেখতে কল্যাণীর গ্যালারিতে দেখতে পাওয়া যায় বেশ কিছু সমর্থকদের। আর দলের সাফল্যে যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। 

শনিবার ইউনাইটেড স্পোর্টস বনাম সুদেভা দিল্লি এফসির ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি অনেকটাই বেশি ছিল সুদেভা দিল্লির। ঘন-ঘন আক্রমণে উঠছিল তারা। দিল্লির ১১ নম্বর জার্সিধারি ফুটবলার কেএস শিখর বেশ কয়েকটা ভালো গোলের সুযোগ তৈরি করেন, যদিও গোল আসেনি। অপরদিকে প্রথমার্ধে অনেকটাই ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে দেখা যায় ইউনাইটেড স্পোর্টসকে। তবে ২৫ মিনিটে ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে অরুণলাল একটা ভালো গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে পারত ইউনাইটেড। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দিল্লির উপর বেশ কিছুটা চাপ তৈরি করেন ইউনাইটেড স্পোর্টসের ফুটবলাররা। ঘন-ঘন আক্রমণে উঠতে দেখা যায় সুময় সোম, শ্রীনাথ, পরিবর্তিত হিসাবে মাঠে নামা জর্জ কমদের। বেশ কয়েকটা ভালো গোলের সুযোগ তৈরি করে ইউনাইটেড স্পোর্টস। তবে ম্যাচের একদম শেষের দিকে ৯০ মিনিটে ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করে দলকে এগিয়ে দেন মনিপুরি ফুটবলার জর্জ কম। দুর্দান্ত গোল উপহার দেন তিনি। তার ফলে ইউনাইটেড এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। এই গোলের পর সেলিব্রেশনের ছবি দেখা যায় কল্যাণীর গ্যালারিতে সমর্থকদের মধ্যে। এরপর দিল্লির দলটি গোল শোধ করার মরিয়া প্রয়াস চালাতে থাকে। যদিও ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আর কোনও গোল আসেনি। ফলে এদিন ১-০ গোলে ম্যাচ জিতে নিল ইউনাইটেড স্পোর্টস। দলের সাফল্যের পর দলের কোচ লালকমল ভৌমিক বলেন, বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট হয়েছে, নাহলে হয়তো আরও বড় ব্যবধানে দল জয় পেত। তবে এখন পরের দিনের ম্যাচ তাদের কাছে ফাইনাল। অন্যদিকে মনিপুরি ফুটবলার জর্জ কম বলেন, এই দলের কোচ এবং ফুটবলাররা সবাই পাশে থাকে। তাঁকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাই যথেষ্ট খুশি। আর দলকে গোল উপহার দিতে পেরে আরও ভালো লাগছে। জর্জ কমের প্রিয় ফুটবলার সিআর সেভেন ও সুনীল ছেত্রীদের। 

অপরদিকে ইউনাইটেড স্পোর্টসের অধিনায়ক অঙ্কন ভট্টাচার্য, ফুটবলার সুশোভন ঘোষ থেকে গোলরক্ষক সৌরভ সামন্ত সকলেই জানান, এই ম্যাচটা বেশ কঠিন ছিল। তবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে তারা খেলেছেন আর সাফল্য এসেছে তাই যথেষ্ট খুশি। কিন্তু এখন থেকেই ১৫ তারিখের দিল্লি এফসি ম্যাচের পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ওই ম্যাচে জয় ছাড়া আর কিছুই ভাবছেন না তারা। ডু অর ডাই লড়াই। সুতরাং এই ম্যাচে জিতে বাংলার আরও একটি দলকে আইলিগে নিয়ে যাওয়ায় এখন একমাত্র চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি শনিবারের ম্যাচের যে সব জায়গায় সমস্যা হয়েছে সেগুলি দ্রুত সমাধান করে আরও ভালো ফুটবল খেলতে হবে পরের ম্যাচে। দলের কর্ণধার নবাব ভট্টাচার্য তিনিও জানান, কঠিন ম্যাচ জিততে পারলে অবশ্যই ভালো লাগে। তবে পরের ম্যাচ দলের কাছে কার্যত ফাইনাল। সেই দিকেই ফোকাস করতে হবে। 

উল্লেখ্য, এদিন ইউনাইটেড স্পোর্টসের কর্ণধার তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব নবাব ভট্টাচার্য জানান, রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে। তিনি প্রত্যাশা করেন যে ভাবে পূর্ববর্তী সরকার বাংলার খেলাধূলার উন্নতিতে পাশে থেকেছে, খেলার মান বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা করেছে। ঠিক সেই ভাবে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীও বাংলার সমস্ত ধরনের খেলার উন্নতিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। যে সমস্ত জেলার খেলার মাঠগুলো রয়েছে সেগুলো যাতে বাঁচিয়ে রাখা যায়, ভালো ভাবে রক্ষণাবেক্ষন করা সম্ভব হয়। সেই দিকে নজর দেওয়া দরকার সরকারের। পাশাপাশি তিনি বলেন, নৈহাটিতে খেলার উন্নয়নে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বিশেষ ভাবে সর্বদা সহযোগিতা করেন। সুতরাং খেলার ক্লাবগুলো বাঁচানোর উদ্যোগ নেবে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি তিনি বলেন, খেলো ইন্ডিয়ার মাধ্যমে আগামী দিনে সরকার খেলার উন্নয়নে আর্থিক সাহায্য করবে বলে তিনি আশা করেন। শুধুমাত্র ক্রিকেট, ফুটবল নয় হকি, ব্যাটমিন্টন, সুইমিং থেকে সমস্ত ধরনের খেলার উন্নয়নে নতুন  সরকার বিশেষ পরিকল্পনা করবে বলেই মনে করা যেতে পারে। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular