ময়দান আপডেট: আইএসএলের এই বছরের পয়েন্ট টেবিলে এক নজর কাড়ছে বাংলা। একেবারে উপরের সারিতে বাংলার দুই প্রধান ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। দুই দলই এখনও পর্যন্ত খেলেছে ১০ টি করে ম্যাচ। বাকি ৩ টি করে ম্যাচ। দুই দলেরই পয়েন্টও সমান ২১। তবে গোল পার্থক্যে একে ইস্টবেঙ্গল ও দুইয়ে মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলের পরের তিনটি ম্যাচ পঞ্জাব এফসি, মোহনবাগান ও ইস্টারকাশি। মোহনবাগানের পরের তিনটি ম্যাচ ইন্টারকাশি, ইস্টবেঙ্গল ও স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে। ফলে অনেকেই বলছেন ডার্বিতেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে লিগের। আগামী ১৭ তারিখ যুবভারতীতে মোহন-ইস্ট ডার্বি। লিগের সমীকরণ ও পয়েন্ট টেবিল আসন্ন ডার্বির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে তা বলা যেতেই পারে। যদিও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের অঙ্ক নিজেরাই জটিল করে তুলল মোহনবাগান। কারণ শনিবার গোয়ার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ১ গোলে এগিয়ে থেকেও ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র করে, ২ পয়েন্ট হাতছাড়া করেই ফিরতে হচ্ছে সবুজ-মেরুন বাহিনীকে। দলের খেলায় যথেষ্ট হতাশ সমর্থকরা! গোয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ১ গোলেও জিততে পারলে পয়েন্ট টেবিলে ইস্টবেঙ্গলের থেকে ২ পয়েন্ট এগিয়ে থাকতে পারত সবুজ-মেরুন। তাদের পয়েন্ট হয়ে যেত ২৩। কিন্তু ম্যাচ ড্র হওয়ায় ২১ পয়েন্টেই আটকে রইল মোহনবাগান। ফলে অনেকটাই সুবিধা হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের জন্য।

উল্লেখ্য, শনিবারের ম্যাচে গোয়ার বিরুদ্ধে মোহনবাগানের দলে চোট সারিয়ে যোগ দেন আপুইয়া ও রদরিগেজ। ম্যাকলারেন, রবসনকে সামনে রেখে দল সাজিয়েছিলেন সার্জিও লোবেরা। বেঞ্চে রাখা হয় দিমি ও কামিংসকে। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই তবে খেলার রাশ ছিল মোহনবাগানের হাতেই। ঘন-ঘন আক্রমণে উঠতে দেখা যায় সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের। ম্যাচের ৭ মিনিটে লিস্টন আক্রমণ করলেও, তা প্রতিহত হয়ে যায়। এরপর ১২ মিনিটে আবারও লিস্টনের আবারও একটি শট রুখে দেন গোয়ার ফুটবলাররা। খেলার ১৪ মিনিটে ড্রাজিক ফাউল করেন আপুইয়াকে। ফলে একটু হালকা চোট পান আপুইয়া। খেলার প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা গোয়া এগিয়ে থাকলেও, মোহনবাগানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে দেখা যায়। যদিও গোলগুলি কার্যকর হচ্ছিল না। এফসি গোয়ার রক্ষণের সামনে কার্যত নিষ্প্রভ দেখায় সবুজ-মেরুন আক্রমণ ভাগকে। একমাত্র আপুইয়ার দূরপাল্লার শটই ছিল মোহনবাগানের তৈরি করা সবচেয়ে দারুণ সুযোগ। এছাড়াও অ্যালড্রেডের হেড কিছুটা আশা জাগালেও গোলের মুখ খোলা যায়নি। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান রবসনের পরিবর্তে নামায় জেসন কামিন্সকে। তাতে অবশ্য খেলার গতি বাড়ে। ৫৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙলেন জেমি ম্যাকলারেন। অভিজ্ঞ সন্দেশ ঝিঙ্গানের ভুলেই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন তিনি। আর সেই সুযোগে জেমির সামনে চলে আসে বল। অপেক্ষায় থাকা ম্যাকলারেন গোল করতে কোনও ভুল করেননি। বক্সের ভিতর থেকে ঠান্ডা মাথায় শট নিয়ে গোলরক্ষক ববকে পরাস্ত করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলের সঙ্গে চলতি আইএসএলে নিজের নবম গোল করে ফেললেন জেমি। ১০ টি গোল রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের ইউসুফ ইজ্জেজারির। যদিও এই গোল খাওয়ার পর, পাল্টা আক্রমণে উঠতে দেখা যায় এফসি গোয়ার ফুটবলারদের। আর ফলও মেলে হাতেনাতে। ৬৭ মিনিটে গোয়াকে সমতায় ফেরান রনি উইলসন। ডানদিক থেকে ক্রস তুলেছিলেন তিনি। সেই বলই আচমকা জালে জড়িয়ে যায়। নিজেও হয়তো ভাবতে পারেননি এভাবে গোল পেয়ে যাবেন। ফলে খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-১। আর এই গোলের পর ম্যাচের জিততে আরও আক্রমণাত্বক মেজাজে দেখা যায় গোয়ার ফুটবলারদের। যদিও আর কোনও গোল আনতে পারেননি তারা। ৭২ মিনিটে ভালো গোলের সুযোগ তৈরি করেন জেসন কামিংস। বল ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন কামিন্স। তাঁকে দুর্দান্ত বল বাড়িয়েছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। যদিও গোল আসেনি। এরপর খেলার বাকি সময়েও গোয়ার হয়ে ড্রাজিক, উদান্তারা বেশ কয়েকটা ভালো শট নেন, যদিও সুযোগ কার্য়করি করতে পারেননি অরেঞ্জ আর্মিরা। পাল্টা গোলের প্রচেষ্টা চালায় মোহনবাগানও। তবে গোল আসেনি। ১-১ গোলেই ম্যাচ শেষ হওয়ায় দুই দলই ১ পয়েন্ট করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। তার ফলে গোল পার্থক্যে মোহনবাগানের উপরেই থাকল লাল-হলুদ বাহিনী। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ১২ তারিখ মোহনবাগানের পরের ম্যাচ ইন্টারকাশির বিপক্ষে নিজেদের ঘরের মাঠে যুবভারতীতে। ফলে শহরে ফিরে মাত্র একদিনের অনুশীলনেই নিজেদের ১১-তম ম্যাচ খেলতে নামবে মোহনবাগান। অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ হলেও, প্রতিপক্ষ দলকে যথেষ্টা সমীহ করছেন কোচ সার্জিও লোবেরা। ইন্টারকাশির বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ডার্বিতে খেলতে নামায় এখন লক্ষ্য সবুজ-মেরুনের। সবমিলিয়ে এটা স্পষ্ট এবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হতে মোহনবাগান অথবা প্রথমবারের জন্য ইস্টবেঙ্গল! অর্থাৎ ট্রফি এবার বাংলার ঘরেই থাকতে চলেছে তা স্পষ্ট।
অনুর্ধ্ব ১৭ মহিলা এশিয়ান কাপে লেবাননকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত
