ময়দান আপডেট: এবারের আইপিএলের মরসুমের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য। একের পর এক ম্যাচে হারের ফলে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন নাইট সমর্থকরা। তবে ঘরের মাঠেই ১৯ এপ্রিল রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচে জয় দিয়ে সাফল্যের সরণীতে প্রত্যাবর্তন করে নাইট বাহিনী। তারপর থেকেই টানা একের পর এক ম্যাচে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে রাহানের দল। রাজস্থানের পর লখনউ, হায়দরাবাদ ও দিল্লির বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে কেকেআর। ফলে টানা চার ম্যাচে জয় পেয়ে লিগ টেবিলে অনেকটাই উপরে উঠে আসতে সক্ষম হয়েছে তারা। ফলে আবারও এবারের আইপিএলে কেকেআরকে ঘিরে প্রত্যাশা ফিরে পেয়েছেন সমর্থকরা। আইপিএলে কেকেআরের পরের প্রতিপক্ষ ১৩ মে চেন্নাস্বামীতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। তবে যে ভাবে জয়ের ছন্দে রয়েছে নাইটরা, সেক্ষেত্রে আরসিবির মতো কঠিন প্রতিপক্ষের ঘরে লড়াই হলেও এখন জয় নিয়ে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী কেকেআর। বিরাটদের দল গতবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই মরসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে কোহলির আরসিবি। অনেকেই এবারও আইপিএল জয়ের দাবিদার হিসাবে ধরছেন ব্যাঙ্গালুরুকে। সুতরাং বুধবার কোহলিদের বিরুদ্ধে জেতা মোটেও যে সহজ হবে না তা বেশ জানে নাইট ম্যানেজমেন্ট। অবশ্য শেষ চার ম্যাচে জিতে এখন কেকেআরের মনোবলও বেড়েছে অনেকগুন। সুতরাং একটা প্রত্যাশার পারদ যেমন চড়ছে নাইট সমর্থকদের, ঠিক তেমনি চেন্নাস্বামীতে হাউসফুল কোহলির ফ্যানদের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার হাইভোল্টেজ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তা বলা যেতেই পারে।

শুক্রবার আইপিএলে কোটলায় দিল্লির ঘরের মাঠে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে সহজেই ম্যাচ জিতে নেয় কেকেআর। এদিন অনবদ্য ব্যাটিং উপহার দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নেন নাইটদের বিদেশী তারকা ওপেনার ফিন অ্যালেন। ৪৭ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ফিন অ্যালেন। ২৭ বছর বয়সি কিউয়ি তারকা ব্যাটারের এদিন ইনিংসে ছিল ৫ টি চার ও ১০ টি ছয়। অবিশ্বাস্য ব্যাটিং উপহার দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করেই অতি দ্রুত ৩৪ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে টানা চার ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নেয় কেকেআর। এদিন ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন নাইট অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। দিল্লির ইনিংসের শুরুটা ভালো হলেও, শেষটা হতাশাজনক। ওপেনিং করতে নেমে পাথুম নিশাঙ্কা ও কেএল রাহুল দ্রুত গতিতে আক্রমণাত্বক মেজাজে রান বাড়াতে থাকেন দিল্লির হয়ে। তবে ১৪ বলে ২৩ রানে কার্তিক ত্যাগির একটা বল ছয় মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে ফিরে যান রাহুল। আর ওই পার্টনারশিপ ভেঙে যাওয়ার পরেই ব্যাকফুটে চলে যায় দিল্লি। পর-পর উইকেট হারাতে থাকে তারা।
সুনীল নারিন ও বরুন চক্রবর্তীর বোলিং ভেলকির সামনে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে দিল্লির ব্যাটিং লাইন। যদিও পাথুম নিশাঙ্কা কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন। তবে তিনিও হাফসেঞ্চুরি করে ২৯ বলে ৫০ রানে আউট হয়ে যান। তিনি ৫ টি চার ও ৩ টি ছয় মারেন। নারিন-বরুন চক্রবর্তীরা একদিকে যেমন রান চেপে রাখেন ঠিক তেমনি ভালো বল করে উইকেট তুলে নেন অনুকূল রায়, কার্তিক ত্যাগিরা। দিল্লির হয়ে শেষের দিকে কিছুটা লড়াই করেন আশুতোষ শর্মা। তবে তিনিও আউট হয়ে যান ২৮ বলে ৩৯ রানে। ৩ টি চার ও ৩ টি ছয় হাঁকান তিনি। ৮ উইকেটে মাত্র ১৪২ রান তোলে দিল্লি ক্যাপিটালস। নাইটদের হয়ে ২ টি করে উইকেট নেন অনুকূল রায় ও কার্তিক ত্যাগি। অপরদিকে সুনীল নারিন ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান দেন বরুন চক্রবর্তী।

আর অল্প রানের টার্গেট নিয়ে কেকেআর ব্যাট করতে নেমে শুরুতে অধিনায়ক রাহানের উইকেট হারায়। ৯ বলে ১৩ রানে রান আউট হয়ে ফিরে যান রাহানে। ৩ বলে ১ রানেই অংকৃশ রঘুবংশিকে বোল্ড করে দেন অক্ষর প্যাটেল। তবে এরপর ক্যামেরন গ্রিন ও ফিন অ্যালেন দুই তারকা বিদেশীর ব্যাটে ভর করে দ্রুত গতিতে জয়ের দিকে এগিয়ে যায় নাইট রাইডার্স। গ্রিনকে এদিন ব্যাট হাতে বেশ ছন্দে পাওয়া গেল। যা নাইট সমর্থকদের যথেষ্ট খুশি করেছে। তাদের যুগলবন্দিতে ১৪ ওভার ২ বলেই ম্যাচ জিতে যায় কলকাতা। ৪৭ বলে ১০০ রানে সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন অ্যালেন। অন্যদিকে ২৭ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে যান ক্যামরন গ্রিন। গ্রিন এদিন দুটি ছয় মারেন। ৩৪ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় নাইটরা। আর এই জয়ের ফলে আরসিবি ম্যাচের আগে নাইটদের অতিরিক্ত অক্সিজেন যোগালো তা বলা যেতেই পারে।
অনুর্ধ্ব ১৭ মহিলা এশিয়ান কাপে লেবাননকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত
