ময়দান আপডেট: এশিয়ান কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার স্বপ্ন নিয়ে চিনের মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় অনুর্ধ্ব-১৭ মহিলা ফুটবল দল। স্বাগতিক শক্তিশালী চিনের বিরুদ্ধে লড়াইটা ছিল অসম, কিন্তু ভারতের মেয়েরা প্রমাণ করল যে তারা এশিয়ার বড় শক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে জানে। কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়ে ভারতের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও, এই টুর্নামেন্টে পামেলা কোন্তির প্রশিক্ষণে ভারতের পারফরম্যান্স ফুটবল প্রেমীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে গেল।

গ্রুপ পর্ব থেকেই ভারত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ২-০ গোলে হার মানা ছিল দলের সুশৃঙ্খল রক্ষণের প্রমাণ। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তি জাপানের বিরুদ্ধেও ভারত লড়াই ছাড়ে না, ম্যাচটি শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানে। তবে তৃতীয় ম্যাচে লেবাননের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলের দাপুটে জয় ভারতকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দিয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রতিপক্ষ যখন চিন এবং খেলা যখন তাদেরই ঘরের মাঠে, তখন চ্যালেঞ্জটা ছিল বেশ কঠিন। আক্রমণভাগের তীব্র চাপের মুখেও ভারতের মেয়েরা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। ৩-০ গোলে পরাজিত হয়ে হয়তো স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, কিন্তু এই হার কোনো ভাবেই অসম্মানের নয়। জাপান বা চিনের মতো দলের কাছে মাত্র ৩ গোল খাওয়া কিংবা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ২ গোলে লড়াই করা প্রমাণ করে যে ভারতীয় মহিলা ফুটবল সঠিক পথেই এগোচ্ছে। শারীরিক সক্ষমতা এবং টেকনিক্যাল দক্ষতায় ভারত এখন এশিয়ার সেরাদের টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা রাখছে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও পামেলা কোন্তির তত্ত্বাবধানে প্রীতিকা ও অ্যালেনাদের লড়াকু ফুটবল সমর্থকদের বিশ্বাস জিততে সফল হয়েছে। এই হার আসলে পরাজয় নয়, বরং এশিয়মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার এক নতুন শুরুর গল্প। সেমিফাইনালে না উঠতে পারার আক্ষেপ থাকলেও, ভারতের এই অদম্য জেদ এবং লড়াকু মানসিকতা ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মোহনবাগানের ‘ত্রাতা’ তথা ময়দানের মহীরুহ টুটু বসুর জীবনাবসান! সমাপ্তি এক বর্ণময় যুগের
