সৌরভ রায় ও অঙ্কিত ঘোষ, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: রবিবাসরীয় কলকাতা ডার্বির আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে মোহনবাগান ইন্টারকাশীর বিরুদ্ধে ড্র করে, অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল তারা শেষ ম্যাচে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ড্র করে এদিন দুই দলই ২২ পয়েন্ট নিয়ে খেলতে নামে। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় ইস্টবেঙ্গল শুরু করে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থেকে। এদিন যুবভারতীতে ডার্বি ম্যাচ দেখতে দুই দলের সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আর এদিন ম্যাচের শুরু থেকে মোহন-ইস্ট দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ঝাঁঝ প্রদর্শন করতে থাকে। ম্যাচের শুরুতেই ৬ মিনিটে বিষ্ণুর আক্রমণ প্রতিহত করে দেন অভিষেক। এরপর ৯ মিনিটে মনবীর আক্রমণে উঠছিলেন, তিনি শট নেন সাহালের দিকে কিন্তু বল রুখে দেন মহম্মদ রাকিব। ১৪ মিনিটে অ্যান্টন সোজবার্গের শট বারপোস্টে লেগে ফিরে আসে, গোল আসেনি। ১৯ মিনিটে কর্ণারের ধার থেকে মনবীর শট নেন তবে পোস্টের সামনে থাকলেও, ম্যাকলারেন সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। এরপরই ১৯ মিনিটে লিস্টন আক্রমণে উঠছিলেন, তিনি শট নেন, কিন্তু বল আনোয়ারের পায়ে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। ২২ মিনিটে জিকসনের বাড়ানো বলে বিপিন আক্রমণে উঠে একদম পোস্টের সামনে পৌঁছে যান, কিন্তু বল রুখে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। ২৫ মিনিটে রডরিগেজ লাইনের ধারে ফাউল করেন অ্যান্টন সোজবার্গকে। ফলে হলুদ কার্ড দেখানো হয় রডরিগেজকে।

৩৬ মিনিটে লিস্টনের দূরপাল্লার শট রুখে দেন প্রভসুখন গিল। এরপর ৩৭ মিনিটে অ্যান্টন সোজবার্গের শট নেন, তবে দুর্দান্ত ভাবে গোল রুখে দেন বিশাল কাইথ। ৩৯ মিনিটে কর্ণারের ধার থেকে দুর্দান্ত শট নেন মনবীর সিং তবে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন মোহনবাগানের ফুটবলাররা। ২ মিনিটে প্রথমার্ধে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও, গোল তুলে নিতে পারেনি দুই দলই। ফলে খেলার প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই। তবে খেলার প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ ছিল তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই বেশি।

এরপর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৫০ মিনিটে মোহনবাগানের হয়ে অভিষেক তেকচাম একটা ভালো শট নেন, তবে গোল আসেনি। ৫৭ মিনিটে জিকসন আপুইয়াকে ফাউল করেন, ফলে শট নেন সাহাল। যদিও বল পোস্টের ধার ঘেষে বেরিয়ে যায়। ৬৩ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন ইস্টবেঙ্গলের। অ্যান্টন সোজবার্গের জায়গায় মাঠে আসেন ইউসুফ হিজ্জেজারি এবং বিষ্ণুর জায়গায় নামেন এডমুন্ড। ৬৬ মিনিটে মিগুয়েল একটা দুর্দান্ত শট নেন, যদিও প্রতিহত করে দেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। ৬৭ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন মোহনবাগানের। সাহালের জায়গায় মাঠে আসেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। ৭৬ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন মোহনবাগানের। টমের জায়গায় নামেন রবসন এবং মনবীরের জায়গায় নামেন মেহেতাব সিং। উল্লেখ্য এদিন ডার্বিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ৬২২০১ জন দর্শক।

৮০ মিনিটে আবারও জোড়া পরিবর্তন করেন মোহনবাগান। আপুইয়ার জায়গায় নামেন দীপক টাংরি এবং রডরিগেজের জায়গায় নামানো হয় জেসন কামিংসকে। ৮৫ মিনিটে মিগুয়েলের বাড়ানো বলে, এডমুন্ডের দুর্দান্ত গোলে ডার্বিতে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল এফসি। ফলে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল লাল-হলুদ বাহিনী। আর এই গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন কোচ অস্কার ব্রুজোঁ থেকে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। লাল-হলুদ সমর্থকদের গর্জনে রীতিমতো কাঁপছিল যুবভারতী। তবে খেলার ৯০ মিনিটে আবারও ম্যাচে কামব্যাক মোহনবাগানের। দিমির কর্ণার শটে হেডে গোল করে সবুজ-মেরুনকে সমতায় ফেরান জেসন কামিংস। ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান মোহনবাগান সমর্থকরা। ম্যাচে ৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন বিপিন সিং। তবে খেলার একদম শেষ দিকে কামিংসের বাড়ানো বলে পোস্টের সামনে থেকে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন জেমি ম্যাকলারেন। খেলার লাস্ট মিনিটে লাল কার্ড দেখেন এডমুন্ড। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে ড্র হয়ে। ফলে ডার্বির পরেও দুই দলই ১২ টি করে ম্যাচ খেলে ২৩ পয়েন্টে থাকল। গোল পার্থক্যের বিচারে শীর্ষেই রইল ইস্টবেঙ্গল। দুই নম্বরে মোহনবাগান।
