প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আজ মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযুদ্ধ। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। প্রথম ম্যাচে রাত সাড়ে ১২ টায় মুখোমুখি হতে চলেছে আয়োজক দেশ মেক্সিকো ও সাউথ আফ্রিকা। আর বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই পরাশক্তিদের আধিপত্যের মঞ্চ। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে বড়ো দলগুলোর হিসাব নিকাশ ওলট-পালট করে দিতে প্রতিবারই কিছু অনালোচিত কিন্তু শক্তিশালী দল উঠে আসে, যাদের আমরা ‘ডার্ক হর্স’ বলে থাকি। এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে তেমন কিছু ভয়ংকর ডার্ক হর্সের পাশাপাশি যোগ হয়েছে এমন কিছু দেশ, যারা প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে পা রেখে নতুন রূপকথা লেখার স্বপ্ন দেখছে। বিগত কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া জাপান এবার আরও পরিপক্ব দল তারা। কাউন্টার অ্যাটাক এবং হাইপ্রেসিং ফুটবলে এরা যেকোনো পরাশক্তিকে ধসিয়ে দিতে পারে। মাঝমাঠে রিয়াল সোসিয়েদাদের তাকেফুসা কুবো এবং লিভারপুলের অভিজ্ঞ ওয়াতারু এন্ডোর মতো প্লেয়াররা এবার জাপানকে নকআউট পর্বের অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

ঐতিহ্যগতভাবে ডাচরা বড়ো দল হলেও সাম্প্রতিক ট্রফি খরা এবং বড়ো তারকাদের চোটের কারণে এবার অনেকেই তাদের ফেভারিটের তালিকায় রাখছেন না। তবে লিভারপুলের অধিনায়ক ভ্যান ডাইকদের চীনের প্রাচীরের মতো রক্ষণ এবং আক্রমণভাগে কোডি গ্যাকপো এর চেনা ফর্ম নেদারল্যান্ডসকে টুর্নামেন্টের অন্যতম বিপজ্জনক দল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিলো মরক্কো। এবার তারা শুধু চমক নয়, অন্যতম দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামছে। পিএসজির রাইটব্যাক আশরাফ হাকিমি এবং রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তুর্কি ব্রাহিম ডিয়াজ অন্তর্ভুক্তি দলটির শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও গোলবারের নিচে ইয়াসিন বুনো অন্যতম সেরা খেলছেন।

গত কয়েক বছর ধরে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে ধারাবাহিক দল কলম্বিয়া। কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলা এই দলটির মূল শক্তি তাদের গতি ও শারীরিক ফুটবল। মাঝমাঠে অভিজ্ঞ জেমস রদ্রিগেজ এর জাদুকরী পাসিং এবং উইং ধরে লুইস ডিয়াজের অতিমানবীয় গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এবারের বর্ধিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপে এমন কিছু দেশ যোগ্যতা অর্জন করেছে, যাদের উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বের রোমাঞ্চকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথমবার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেই বিশ্বকে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে উজবেকিস্তান। সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তারা যেভাবে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে এবং মাত্র ২-১ ব্যবধানে হেরেছে তাও আবার নেদারল্যান্ডস ওপেন প্লে থেকে গোল করতে পারেনি উভয় গোলই করেছে পেনাল্টি থেকে, তা বড়ো দলগুলোর জন্য সতর্কবার্তা। রোমার ফরোয়ার্ড এলডর সমূরদভের ক্ষুরধার আক্রমণই এই দলের মূল চালিকাশক্তি।অপরদিকে, মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যা এবং ছোটো একটি দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো রূপকথা তৈরি করেছে কুরাসাও। জনসংখ্যা এবং আয়তনের দিক থেকে এটিই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে ছোটো দেশ। শেফিল্ড ইউনাইটেডের উইঙ্গার তাহিত চং এবং অধিনায়ক লিয়ান্দ্র বাকুনার মতো প্লেয়ারদের ওপর ভর করে এই ছোটো দলটি বিশ্বমঞ্চে বড়ো কোনো অঘটন ঘটাতে মুখিয়ে আছে।

এশিয়া অঞ্চল থেকে প্রথমবার বিশ্বকাপের টিকিট কেটে ইতিহাস গড়েছে জর্ডান। ২০২৩ এশিয়ান কাপের ফাইনালে রানার্স-আপ হওয়া এই দলটি মোটেও ছেড়ে কথা বলার মতো নয়। আমরা সেই ফাইনালে দেখেছি তাদের কিভাবে হারতে বাধ্য করা হয়েছিলো।

বিশেষ করে ফরাসি ক্লাব মঁপেলিয়ের উইঙ্গার মুসা আল-তামারির একক নৈপুণ্য এবং গতি যেকোনো রক্ষণভাগকে ভেঙে ফেলতে পারে। এই ডার্ক হর্স এবং নবাগত দলগুলোর সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হলো, এদের হারানোর কিছু নেই, কিন্তু পাওয়ার আছে পুরো আকাশ। ফেভারিটদের চেয়ে চাপমুক্ত হয়ে খেলার এই মানসিকতাই ২০২৬ বিশ্বকাপে বড়ো বড়ো পরাশক্তিদের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে নতুন কোনো রূপকথা উপহার দিতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে তরুণ স্প্যানিশ ব্রিগেডের বিশ্বজয়ের মিশন, টিকিটাকা ম্যাজিক কতটা সাফল্য দেখাতে পারবে ?
