ময়দান আপডেট: শেষ ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারের পর, এদিন জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাটিতে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্টের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে মাঠে নামে সার্জিও লোবেরার দল। পাশাপাশি এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত দুই দলই ৪ ম্যাচে জয়, ১টি ড্র ও ১ টি ম্যাচ হেরে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে খেলতে নামে। যদিও গোল পার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকে মোহনবাগান। তৃতীয় স্থানে জামশেদপুর। একদিকে অভিজ্ঞ কোচ ওয়েন কয়েল, অন্যদিকে সার্জিও লোবেরা-দুই কিংবদন্তি কোচের মেগা ডুয়েল এদিন জামশেদপুরের মাটিতে শুরু হয়। এদিন দিমি ও কামিংসকে বেঞ্চে রেখে, ম্যাকলারেন-লিস্টন-মনবীরকে আক্রমণ ভাগে রেখে প্রথম একাদশ সাজান লোবেরা।
আর এদিন ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় জামশেদপুরের নিকোলার সঙ্গে ট্যাকেল করতে গিয়ে পায়ে চোট পান টম অলড্রেড। এরপর ১২ মিনিটে আপুয়ার বাড়ানো বলে গোলের সুযোগ তৈরি করেন ম্যাকলারেন। যদিও গোল আসেনি। এরপর দেখা যায় ১৪ মিনিটে জামশেদপুরের হয়ে মেসি বাউলি আক্রমণে ওঠেন কিছুটা, যদিও কার্যকরি হয়নি। তবে এর পরের মিনিটেই ১৫ মিনিটে শুভাশিসের বাড়ানো বলে, দূরপাল্লার শটে একটি বিশ্বমানের গোল ডান পায়ের শটে করেন লিস্টন কোলাসো। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। উল্লেখ্য, শেষ দুই ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে গোল পায়নি মোহনবাগান। দুই ম্যাচ পর আবারও এদিন গোল করল সবুজ-মেরুন বাহিনী।

২১ মিনিটে মেসি বাউলির শট রুখে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। ২৭ মিনিটে মেসি বাউল একটি ফাউল করেন টম অলড্রেডকে। তবে ৩৬ মিনিটে লিস্টন থেকে রবসনের বাড়ানো বলে, একদম পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জেমি ম্যাকলারেন একদম সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ফলে কিছুটা বিস্মিত হয়ে যান মোহনবাগান সমর্থকরা। ৩৮ মিনিটে ভেঙ্কিকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখানো হয় অ্যালবার্তো রদরিগেজকে। এরপর প্রথমার্ধের শেষের দিকে একাধিকবার জামশেদপুর গোল পরিশোধ করার চেষ্টা করলেও, কোনও গোল করতে পারেনি তারা। এদিন চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া,মাদিহ তালালের অনুপস্থিতি বেশ বুঝতে পারল জামশেদপুর। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল মোহনবাগান।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ৫০ মিনিটে মেসি বাউলকে ফাইল করায় হলুদ কার্ড দেখানো হয় আপুইয়াকে। ৫৭ মিনিটে রবসনের শটে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও, রুখে দেন স্টিফেন এজে। ৫৯ মিনিটে একটা গোলের সম্ভবনা তৈরি হলেও, গোল কার্যকরি করতে ব্যর্থ হন ম্যাকলারেন। অপরদিকে দ্বিতীয়ার্ধে বার-বার গোলমুখ খোলার প্রচেষ্টা চালালেও, ব্যর্থ হন জামশেদপুরের ফুটবলাররা। ৭৩ মিনিটে রবসনের জায়গায় মাঠে আসেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। ৮৪ মিনিটে জামশেদপুরের হয়ে গোলের সুযোগ নষ্ট করে সানান, রুখে দেন বিশাল কাইথ। ৮৭ মিনিটে জেমি ম্যাকলারেনের জায়গায় মাঠে নামেন জেসন কামিংস। ৮৮ মিনিটে লিস্টনের জায়গায় মাঠে নামেন দীপক টাংরি। ৯৩ মিনিটে একটা সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন দিমিত্রি পেত্রাতোস।

তবে খেলার একদম শেষ মিনিটে জামশেদপুরকে সমতায় ফেরান বাঙালি ফুটবলার ঋত্বিক দাশ। ৯৫ মিনিটে অধিনায়ক স্টিফেন এজের বাড়ানো বলে, পোস্টের সামনে থেকে হেডে দুর্দান্ত গোল করে মোহনবাগানের জয়ের স্বপ্নভঙ্গ করে দেন সুপার সাব হিসাবে মাঠে নামা ঋত্বিক। বল বুঝতেই পারেন নি মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। ফলে নিশ্চিত জয়ের সামনে থেকে মোহনবাগানকে ১ পয়েন্ট নিয়েই খুশি থাকতে হল। খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে। ম্যাচ ড্র করে ৭ ম্যাচ খেলে মোহনবাগান ও জামশেদপুর দুই দলেরই পয়েন্ট হল ১৪। অন্যদিকে ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল মুম্বই।
